1 Answers
যে ব্যক্তির ডেঙ্গু হয়েছে সে সম্প্রতি এমন জায়গায় গিয়েছিল যেখানে ডেঙ্গু হচ্ছে অথবা সেই স্থান থেকে কোন ব্যক্তি এই ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে এসেছে। ডেঙ্গুর লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি হচ্ছে: হঠাৎ খুব বেশি জ্বর হওয়া (40°C/104°F)। জ্বরের ধরণ ধারাবাহিকতা থাকে অথবা স্যাডেল ব্যাকএর মত হয়, যেমন চার থেকে পাঁচ দিন টানা জ্বরের পর জ্বর না থাকা তারপর আবার জ্বর বাড়তে থাকা। সাধারণত জ্বর সাত থেকে আট দিন থাকে। তীব্র মাথা ব্যথা। বমি বমি ভাব এবং বমি। গাঁটে, পেশীতে এবং চোখের পিছনে ব্যথা। দুর্বলতা। স্বাদ পরিবর্তিত হওয়া, এবং ক্ষুধামান্দ্য (এনোরেক্সিয়া)। গলা ভাঙা)। গ্রন্থি এবং লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া। ফুসকুড়ি হলে প্রথমে ত্বক লালচে হয়ে যায় এবং এক বা দুই দিনের মধ্যে হালকা ছোট ম্যাকুলার গোটা দেখা যায়। তৃতীয় থেকে পঞ্চম দিন থেকে দেখা যায় ছোট লাল ফুসকুড়িগুলি, যেগুলি ছোট কনফ্লুয়েন্ট বাম্পস দিয়ে ঢাকা থাকে এবং চাপ দিলে পাণ্ডুবর্ণ হয়ে যায়। সাধারণত এইগুলি শরীরের ঊর্ধ্বাংশে হয় আর তারপর অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। শুধু হাতের তালু আর পায়ের তালুতে এইগুলি হয় না। ফুসকুড়ি শুরু হওয়ার সাথে শরীরের তাপমাত্রা কমতে থাকে। ফুসকুড়িগুলি খোসার মত খসে পড়ে অথবা ছোট লাল গোল বিন্দু হয়ে যায় (রক্তক্ষরণের কারণে), যেগুলিকে বলা হয় প্যটিচিয়াই। অল্প ক্ষরণের মত উপসর্গগুলি, যেমন, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, নাক থেকে রক্ত পড়া, ঋতুস্রাবের সাথে অস্বাভাবিকভাবে রক্তপাত এবং প্রস্রাবে রক্তের উপস্থিতি। মশা থেকে সংক্রমণ কোন ব্যক্তির দেহে প্রবেশের পর চার থেকে দশ দিনের একটি ইনকিউবেশানের সময় পার করে উপসর্গগুলি দুই থেকে সাত দিন পর্যন্ত থাকে। তীব্র ডেঙ্গু একটি গুরুতর জটিল রোগ যাতে মৃত্যুও হতে পারে। প্রথম উপসর্গ দেখা দেওয়ার তিন থেকে সাত দিন পর এই রকমের পরিস্থিতি হতে পারে। দেহের তাপমাত্রা কমার সাথে সাথে (38° সেলসিয়াসের নিচে) যে সতর্কতার চিহ্নগুলির সন্ধান করতে হবে সেগুলি হল: ক্রমাগত বমি হওয়া। বমির সাথে রক্ত পড়া। দ্রুত শ্বাস বা শ্বাস কষ্ট (শ্বাসযন্ত্রের কষ্ট)। মাড়ি থেকে রক্তপাত। গুরুতর পেট ব্যথা। ক্লান্তি। অস্থিরতা। ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম এটি ডেঙ্গু জ্বরের একটি গুরুতর জটিলতা। এই জটিলতা তখনই হয় যখন একজন ব্যক্তি, যিনি ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু ভাইরাসে সংক্রামিত, তিনি আবার অন্য একটি ভিন্ন ডেঙ্গু ভাইরাস থেকে অন্য সংক্রমণ পান। এর ফলে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমের বিকাশ হয় এবং একাধিক অঙ্গের ব্যর্থতার কারণে মৃত্যু হয়। রোগ থেকে আরোগ্যলাভের জন্য দুই সপ্তাহের মত সময় লাগে। উপসর্গগুলি চলে যাওয়ার পরও ব্যক্তিটি দীর্ঘকাল ধরে ক্লান্তি এবং অবসাদ বোধ করতে পারেন।