1 Answers
নির্ণয় অনুযায়ী যকৃতের রোগের চিকিৎসা করা হয়। কিছু অন্তিম ক্ষেত্রে, যখন চিকিৎসা করে আর রোগের নিরাময় সম্ভব নয়, তখন শুধু রোগের উপসর্গ জনিত কষ্ট উপশমের জন্য চিকিৎসা করা হয় অথবা রোগের জটিলতা কমানোর জন্য চিকিৎসা করা হয়। যে চিকিৎসা পদ্ধতিগুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, সেগুলির মধ্যে রয়েছে: ভাইরাস বিরোধী চিকিৎসা ভাইরাস সংক্রমণ জনিত দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি এবং সি রোগের চিকিৎসার জন্য সাধারণত দীর্ঘ দিন ধরে ভাইরাস বিরোধী ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। এন্টিবায়োটিক চিকিৎসা যকৃত ফুলে গেলে এন্টিবায়োটিক ওষুধ খেতে দেওয়া হয়। কিন্তু গুরুতর অবস্থায় পুঁজ বার করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয় এবং শিরার ভিতরে এন্টিবায়োটিক ঢুকিয়ে দিতে হয় যাতে রোগী তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠে। সম্মিলন থেরাপি এটি অটোইমিউন হেপাটাইটিসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এই থেরাপিতে, করটিকোস্টেরয়েডস, ইমিউনোসাপ্রেসিভ এবং এন্টি-ইনফ্ল্যামেটারি ওষুধগুলির সমন্বয় দেওয়া হয়। এই ওষুধগুলি শরীরের সুরক্ষা ব্যবস্থার অতি-কার্যকলাপ এবং যকৃতের ফোলা কমায়। চিলেশান চিকিৎসা উইলসনস রোগের ক্ষেত্রে পেনিসিলামিন ক্লাসের ওষুধের দিয়ে তামার চিলেট করা হয়। তামার স্থূলাণুগুলি ওষুধের সাথে যুক্ত হয়ে প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়। বর্তমানে ট্রিয়েটিন ব্যবহার করা হচ্ছে কারণ এর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া কম। রক্তমোক্ষণের পুনরাবৃত্তি বংশগত হিমোক্রোমাটোসিস রোগে এটি ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে দেহের উচ্চ লোহার মাত্রা কম করার জন্য শিরা থেকে থেকে রক্ত বার করে নেওয়া হয়। সহায়ক থেরাপি যকৃতের কিছু এনজাইম বা প্রোটিন প্রয়োগ করা হয়। এই গুলি সহায়ক ওষুধ হিসাবে কাজ করে এবং যকৃতের কোষগুলির উপর চাপ কমায়। শল্য চিকিৎসা বা যকৃত প্রতিস্থাপন রোগ যদি গুরুতর হয় এবং উপশম সম্ভব না হয়, তাহলে যকৃত প্রতিস্থাপন করা হয়। এই প্রতিস্থাপন ক্যাডাভেরিক হতে পারে যেখানে একজন মৃত ব্যক্তির সম্পূর্ণ যকৃত প্রতিস্থাপন করা হয় অথবা একজন জীবিত দাতা ব্যক্তির যকৃতের কিছু অংশ প্রতিস্থাপন করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্মিলন থেরাপির সাথে জীবনধারার পরিবর্তন করে যকৃতের রোগের চিকিৎসা করা হয়। নিয়মিত এবং যত্নের সাথে যকৃতের ক্রিয়া এবং আলট্রাসাউন্ড দিয়ে মূল্যায়ন করাও জরুরী। জীবনধারার পরিবর্তন যকৃতের রোগ একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক দৈনিক কাজকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে, দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলির মোকাবেলা করার জন্য জীবনধারার বেশ কিছু পরিবর্তন করা প্রয়োজন যাতে রোগ এবং তার আনুষঙ্গিক উপসর্গ আর বাড়তে না পারে। কিছু রোগের চিকিৎসা করা হয় জীবনধারার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে, যেমন মদ্যপান বন্ধ করে, ওজন হ্রাস করে এবং আদর্শ বি-এম-আই প্রাপ্ত করে। যকৃতের রোগের চিকিৎসার জন্য জীবনধারার যে পরিবর্তন করা হয় সেগুলি হল: সীমিত মদ্যপান করা যেহেতু মদ্যপান যকৃতের রোগ বৃদ্ধির বা খারাপ হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলির মধ্যে একটি, তাই সর্বদা পরামর্শ দেওয়া হয় সীমিত মদ্যপান করতে বা সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করতে। খাবার গ্রহণের পরিকল্পনা সারা দিন বারে বারে অল্প অল্প খাবার খান, কারণ এক সাথে অনেকটা খাবার খেলে বা চর্বি সমৃদ্ধ খাবার খেলে যকৃতের উপরে চাপ বাড়বে এবং ক্ষতি হবে। খাদ্য পরিবর্তন যকৃত প্রোটিনের বিপাকের সঙ্গে যুক্ত থাকে। তাই যকৃতের রোগ প্রোটিনের বিপাককে ব্যাহত করতে পারে। সুতরাং, খাদ্যের মধ্যে আরও কার্বোহাইড্রেট অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ, যা দীর্ঘ সময় ধরে জন্য শক্তির যোগান দিতে সাহায্য করে। প্রোটিন খাওয়া উচিত নয় কারণ যকৃত প্রোটিনকে পর্যাপ্ত-ভাবে বিপাক নাও করতে পারে। ফলস্বরূপ, কিছু বিষাক্ত বাই-প্রোডাক্ট শরীরের মধ্যে জমা হয়ে মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করতে পারে। যাদের হিমোক্রোমাটোসিস রোগ আছে তাদের ভিটামিন সি কম নেওয়া উচিৎ কারণ এটা খাদ্য থেকে লোহার শোষণ বৃদ্ধি করে। এনালজেসিক বা ব্যথা কমানোর ওষুধের ব্যবহার প্রায় সব ব্যথার ওষুধের বিপাক হয় যকৃতে এবং এদের প্রায় সবগুলিই হেপাটোটক্সিক (যকৃতের উপরে খারাপ প্রভাব আছে)। তাই যে কোনও ধরনের ব্যথা কমানোর ওষুধ ডাক্তারবাবুর পরামর্শ ছাড়া সেবন করা উচিৎ নয়। ধূমপান থেকে বিরত থাকুন ধূমপান যকৃতের ক্ষতির পরিচিত একটি কারণ। সুতরাং, যকৃতের ক্ষতি এড়ানোর জন্য, ধূমপান এড়ানো ভালো। ওজন নিয়ন্ত্রণ ওজন কমানো বা বি-এম-আইর লক্ষ্য অর্জন করা চর্বি জমা কমাতে সাহায্য করে এবং এতে যকৃতের আরও ক্ষতি কম করে। একই সাথে এটি আরও আনুষঙ্গিক উপসর্গ কম করতে সাহায্য করে। (আরও পড়ুন - ওজন কমানোর খাদ্য তালিকা। টিকা-করণ একটি ক্ষতিগ্রস্ত যকৃত হেপাটাইটিস ভাইরাস দ্বারা সহজেই প্রভাবিত হতে পারে। ভাইরাসের সংক্রমণ যকৃতে ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। কাজেই হেপাটাইটিস ভাইরাসের বিরুদ্ধে নিজের টিকা-করণ করে নিন। এতে জটিলতা কম হবে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy