1 Answers
হাম হচ্ছে একটি প্রবল ভাইরাল সংক্রমণ। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে দশজনের মধ্যে ন’জনের মধ্যে সংক্রমণ হয়ে থাকে। এটি একটি বাতাস বাহিত ব্যাধি, কোনও আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাস নেন, কাশেন বা হাঁচেন তাহলে বাতাসে অণু পরিমাণ কণা (মাইক্রো-ড্রপলেট) সংক্রমিত হয়ে জীবাণু ছড়াতে পারে। তার পর পরিবেশে প্রায় দু’ঘণ্টা ভাইরাস সক্রিয় থাকতে পারে। হাম কী? সারা বিশ্বে শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হল হাম যা এক ভীষণ রকম ছোঁয়াচে ভাইরাল সংক্রমণ। যদিও উন্নত দেশে হামের টিকার কার্যকারিতার জন্য এই সংক্রমণ বিরল, নিজেদের অজান্তেই ভাইরাস বহন করে সফররত পর্যটকেরা সে দেশে গেলে সেখানকার কোনও ছোট এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। বয়স ব্যতিরেকে যে কোনও ব্যক্তি, যাঁর টিকা নেওয়া হয়নি বা আগে কখনও এই সংক্রমণ হয়নি, তিনি সংক্রমিত হতে পারেন। তবে সাধারণত এটি শিশুদেরই হয়ে থাকে। একবার সংক্রমণ হয়ে গেলে সারা জীবনের জন্য সেই ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা জন্মে যায়। হামের উপসর্গঃ হামের উপসর্গ সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্টভাবে একটির পর একটি দেখা দেয় এবং একজন ব্যক্তির ভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার 7-14 দিনের মধ্যে পরিস্ফূট হয়। এই অবস্থাকে বলা হয় জীবাণুর উন্মেষপর্ব (ইনকিউবেশন পিরিয়ড)। জ্বর হামের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ হল জ্বর। জ্বরের সঙ্গে তিনটি উপসর্গ থাকে যার প্রথম অক্ষর ‘C : কাশি করিজা বা নাকেমুখে সর্দি, এবং কনজাংটিভাইটিস বা চোখ লাল হওয়া এবং চোখ থেকে জল পড়া কপলিক স্পট জ্বরের দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে মুখের ভিতরে সাদা ক্ষুদ্র স্পট যাকে কপলিক স্পট বলা হয়, বেরোবার সম্ভাবনা। এগুলিই হামের সংক্রমণের প্রাথমিক ইঙ্গিত। হামের গুটি উপসর্গ বার হওয়ার তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে মুখের ওপর গুটি বার হওয়া শুরু হয়। প্রথমে মুখের ওপর, যেখান থেকে চুল বার হচ্ছে তার ঠিক তলায়, একটি লাল স্পট দেখা দেয় পরে নিচের দিকে ঘাড়ে, বাহুতে, শরীরের, পায়ে এবং পায়ের পাতায় ছড়িয়ে যায়। ওই লাল স্পটের ওপর ছোট অংশ ফুলে ওঠে (গুটি) এবং সেগুলি সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পট মিলিয়ে যায়। গুটির সঙ্গে জ্বর আসে। কিছুদিন পরে গুটিগুলি কমে যায় এবং জ্বর কমতে থাকে। অন্যান্য উপসর্গও থাকতে পারে, যেমন আলোয় সংবেদনশীলতা, এবং পেশিতে ব্যথা। যে সমস্ত এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব আছে সেই এলাকায় দু’সপ্তাহ ঘুরে বেড়ানোর পরও যদি তিনটি ‘C- র সঙ্গে আপনার জ্বর থাকে তাহলে আপনার সফরের সঙ্গে সন্দেহের প্রসঙ্গ চিকিৎসককে জানিয়ে রাখুন।