1 Answers

শরীরের যে ভারসাম্য রাখা হয় তা নিয়ন্ত্রণ করে মেরুদণ্ড। মেরুদণ্ডের উপরে আমাদের সব চাপ পড়ে। ঘুমের জন্য ঘাড়ের প্রয়োজন হয়, দাঁড়ানোর সময় কোমরের প্রয়োজন হয়, তেমনি দেহের ভারসাম্য বজায় রাখতে মেরুদণ্ডের প্রয়োজন হয়। মেরুদণ্ডটি যেভাবে থাকার কথা এই পদ্ধতির বাইরে যদি আপনি কাজ করেন তখনই আপনার অসুবিধা হবে। বলা হয়, পৃথিবীতে ব্যথায় ভোগে না এমন কোনো লোক নেই। এর মধ্যে ৯৯ ভাগ ব্যথা হচ্ছে মাথা ব্যথা, একবার  না একবার হবেই। দ্বিতীয় ব্যথাটিই হচ্ছে, মেরুদণ্ডের ব্যথা। হয়তো এটা ঘাড়ে ব্যথা হবে, কোমর ব্যথা হবে , নয়তো পিঠ ব্যথা হবে। বলা হয়, ৪০ থেকে ৫০ ভাগ মানুষ পৃথিবীতে এই ব্যথায় ভুগবেই। এর মধ্যে ১ ভাগ ক্রনিক ব্যথায় চলে যায়। অর্থাৎ নিয়মিত ভুগতে পারে।  আপনি হয়তো ছোট খাটো কোনো অনিয়ম করলেন তার কারণে এই ব্যথা হতে পারে। ধরেন, আপনি বাসায় একটি স্যুটকেস টান দিতে গেলেন একটু কুঁজো হয়ে, ভারী একটি জিনিস তুলতে গেলেন,  এই তুলতে গেলেই হয় কি, আমাদের মেরুদণ্ডের মধ্যে একটি শক্ত হাঁড় থাকে, একটি নরম হাঁড় থাকে, একটা মাংস পেশি থাকে। এই মাংস পেশির চাপের কারণে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ব্যথাটি হয়। মূলত এটাকে যান্ত্রিক ব্যথা বলি। তবে এই ব্যথা চলে যায়। কোনো ওষুধেরও প্রয়োজন হয় না। বেশি হলে হয়তো একটি পেশির রিলাক্সেন ওষুধ লাগতে পারে। মানুষ এই ব্যথায় বেশি আক্রান্ত হয়। আর এটা ভালোও হয়ে যায়।  বাকি ২০ শতাংশ হলো অন্য কোনো কারণে হয়। এর মধ্যে যে কারণটা রয়েছে, আমাদের যেই নরম হাঁড়টি রয়েছে এটা একটা ডিক্সের মতো, এটি স্প্রিংয়ের মতো কাজ করে। এটি যখন দুর্বল হয়ে যায়, তখনই সমস্যা তৈরি হয়ে যায়। আর এর উপর যে মেরুদণ্ড আছে, সেটা যখন ক্ষয় হওয়া শুরু হয় তখন অস্টিও আরথ্রাইটিস হয়ে যায়। মূলত যখন হাঁড়টি ক্ষয় হয়ে যাবে তখন ডিস্কের ওপর সে চাপ দিবে, চাপ দিলে আমাদের দুই পাশ থেকে অনেক স্নায়ু যায়, যেটা পা-কে নিয়ন্ত্রণ করে, ঘাড়ে হলে হাতকে নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলো যখন কমপ্রেশন হবে, তখন সমস্যা হয়। যদি বাম দিকের ঘাড়ে চাপ হয়, তখন বাম হাতে সমস্যা হবে। ডান দিকের ঘাড়ে হলে ডান হাতে ব্যথা হবে।

6341 views