1 Answers
কুষ্ঠ রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ কুষ্ঠ সংক্রমণের ৫ থেকে ৭ বছর পর সাধারনত কুষ্ঠ রোগের উপসর্গসমূহ দেখা দিতে থাকে এবং পর্যায়ক্রমে উপসর্গগুলো বাড়তে থাকে। কুষ্ঠ রোগ হলে সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ দেখা যায়ঃ ত্বকে লালচে দাগ অথবা মসৃণ সাদাটে দাগ দেখা যায়। ত্বকের যেসব স্থান সংক্রমিত হয় সেসব জায়গায় পিন্ড দেখা যায় বা ফুলে যায়। স্পর্শ, ব্যথা এবং তাপমাত্রার অনুভূতি হ্রাস পায়। নিজের (যাদের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে) অজান্তেই কোন ক্ষতি করতে পারে যেমন- শরীরের কোন জায়গা আগুনে পুড়ে যাওয়া, কাটা ইত্যাদি। আবার অনেক ক্ষেত্রে, হাত বা পায়ের আঙ্গুল হারাতে পারে। টিউবারকিউলয়েড কুষ্ঠের ক্ষেত্রে, ত্বকে লালচে দাগের সাথে কিছু কিছু জায়গায় মসৃণ সাদাটে দাগ হতে পারে এবং আক্রান্ত স্থান অসাড় হয়ে যায়। লেপরোমেটাস কুষ্ঠের ক্ষেত্রে, ত্বকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক পিন্ড হতে পারে কিংবা অনেকখানি স্থান জুড়ে নানান আকারের লালচে দাগ হতে পারে, মাংসপেশী দূর্বল হয়ে পড়ে এবং শরীরের বেশিরভাগ স্থান অসাড় হয়ে যায়। এ রোগে শরীরের বেশিরভাগ অঙ্গ এবং ত্বকের বেশির ভাগ অংশ আক্রান্ত হতে পারে। বর্ডারলাইন কুষ্ঠের ক্ষেত্রে, টিউবারকিউলয়েড কুষ্ঠ এবং লেপরোমেটাস কুষ্ঠের প্রায় সকল বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় এটা টিউবারকিউলয়েড কুষ্ঠের মত বৈশিষ্ট্য দেখায় এবং পরবর্তীতে অবস্থা খারাপ হলে লেপ্রোমেটাস কুষ্ঠের বৈশিষ্ট্য দেখায়। কুষ্ঠ রোগ প্রতিরোধে করনীয় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে নিঃসৃত তরল জাতীয় পদার্থ যেমন- নাক-মুখ দিয়ে ঝরা সর্দির মাধ্যমে এ রোগ ছড়াতে পারে। এসবের সংস্পর্শে আসা যাবে না। যদিও সাধারনত স্পর্শের মাধ্যমে এটি ছড়ায় না তারপরেও কুষ্ঠ রোগীর স্পর্শের ব্যপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে মেলামেশায় কুষ্ঠের সংক্রমন হতে পারে। তাই, আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশার ব্যপারে সাবধান হতে হবে। পরিবারে কেউ এ রোগে আক্রান্ত থাকলে জীবাণুর সংক্রমনে কুষ্ঠ রোগ হবার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে, জীবাণু সংক্রমনের ব্যপারে অধিক সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আক্রান্ত রোগীর ত্বকের ফুসকুড়ি এবং ফুসকুড়ি থেকে নিঃসরিত পদার্থের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে। বিসিজি টিকা গ্রহনের মাধ্যমে কুষ্ঠ রোগ প্রতিরোধ করা যেতে পারে। চিকিৎসা কুষ্ঠ রোগের সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হলেও এটা অধিক সংক্রমক নয়। সাধারনত কুষ্ঠ রোগে মৃত্যুর হার অত্যন্ত কম। কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা সাধারনত রোগের ধরণ, মাত্রা, রোগীর বয়স ইত্যাদি কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে। সমস্ত বিষয় বিবেচনা করে প্রধানত দুইভাবে কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা করা হয়। যেমন- দীর্ঘ সময় ধরে এন্টিবায়োটিক জাতীয় ঔষধ সেবনের মাধ্যমে অথবা ড্যাপসোন দিয়ে সারা জীবন ধরে চিকিৎসা। কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং তার পরিবারকে অনেক মানসিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়।