ঘন ঘন সর্দি হওয়ার কারন কি?
আমার মাঝে মাঝে সর্দি লাগে ১-১.৫মাস পরপরই। আর আমার সর্দি লাগলে অনেক হার্চি হয় চোখ দিয়ে মনে হয় সর্দির পানি চলে আসে,,আসলে আমার সর্দি লাগলেই একটা কঠিন অবস্থা হয়ে পরে, আমি কি ভাবে ঘন ঘন সর্দি থেকে মুক্তি পেতে পারি??
2 Answers
চিকিৎসা-বিজ্ঞানের এই সাধারণ তথ্যানুসারে বেশিরভাগ মানুষ ঋতু পরিবর্তনের সময় ‘ঠাণ্ডা’ জ্বরে পড়েন। তবে এই জ্বর ঘন ঘন হলে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন আছে ।সর্দি জ্বরের পেছনে দায়ী প্রায় দুইশরও বেশি প্রজাতির ভাইরাস। তবে ‘রাইনোভাইরাস’য়ে মানুষ বেশি আক্রান্ত হয় ।তারপরও এখন পর্যন্ত এর নিয়ামক ওষুধ নেই। আর এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একই ঋতুতে আবারও ভোগার সম্ভাবনাও থাকে।প্রতিটি সংক্রমণের একটি ‘ইনকিউবেশন’ সময় থাকে। মানে জীবাণুর সংস্পর্শে আসার পর থেকে রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়া পর্যন্ত।সাধারণ সর্দি জ্বর বাতাস, স্পর্শ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির বিভিন্ন ব্যবহার্য বস্তুর মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
শীত এবং বসন্তকালে এই সর্দি জ্বর বেশি দেখা দেয়। এর সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে আছে
- শীতকালে মানুষ বেশিরভাগ সময় ঘরে কাটায়, যে কারণে হাঁচি কাশির মাধ্যমে জীবাণু ছড়ায় বেশি।
- যেসব ভাইরাসের আক্রমণে এই সর্দি জ্বর হয় সেগুলো শীতকালের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বেশি সময় টিকে থাকতে পারে। ফলে সংক্রমণের সময়সীমা যেমন দীর্ঘ হয় তেমনি বেশি সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়।শী
- শীতকালে ভাজাপোড়া খাওয়া হয় বেশি। ফলে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থেকে শরীর বঞ্চিত হয়।
- শীতের অলস সময়ে মানুষ শারীরিক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকতে চায়, ফলে সমস্যা আরও জটিল হয়।
করণীয়
- সর্দি জ্বর এবং ফ্লু থেকে একেবারে মুক্তি পাওয়ার উপায় নেই। তবে প্রতিরোধের জন্য বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
- হাত পরিষ্কার রাখা জরুরি। কারণ, এই ভাইরাস শরীরের বাইরের অংশেই কয়েক ঘণ্টা জীবিত থাকতে পারে।
- হাঁচি, কাশি দেওয়ার সময় হাতের বদলে কনুই কিংবা বগল মুখের সামনে নিয়ে আসলে জীবাণু ছড়াবে কম।
- যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল তারা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জন্য বেশি করে সবুজ শাকসবজি, ফলমূল খেতে হবে, সঙ্গে চাই শরীরচর্চা।
- ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকা সব ঋতুতেই জরুরি। অসুস্থ অবস্থায় ঘরের দরজা জানালা বন্ধ রাখলে সেই জীবাণু ঘরের মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়বে।
- সময় মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।
- ১০১.৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি তাপমাত্রার জ্বর ও সঙ্গে শরীর ব্যথা যদি ১০ থেকে ১২ পর্যন্ত থাকে তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
মনে রাখবেন: এইসাধারণ রোগের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ঘরোয়া উপায় অবলম্বন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে আপনা থেকেই রোগ সেরে যাবে।
দূষিত বায়ুর কারণে আমাদের অনেকেরই এ ধরণের এলার্জি হয়। প্রতিকার প্রথমে । খোলামেলা জায়গায় থাকার চেষ্টা করবেন, সকাল বিকাল হাটাহাটি করলে ভালো লাগবে। বিছানাসহ ঘর যথাসম্ভব ধুলামুক্ত রাখবেন। অযথা ওষুধ সেবনের প্রয়োজন নেই। ডাক্তারের পরামর্শ নিলে ভালো হয়।