নেককার বান্দা চেনার উপায় কি?
4 Answers
তাদের মনে আল্লাহ ভিতী থাকে। আল্লাহ 'র হুকুম সঠিকভাবে পালোন করে। তারা সত্যবাদী হয়। নবির দেখানো পথে চলে।
নেককার বান্দা চেনার উপায়। কোন ব্যক্তি নেককার বা বদকার, তা সরাসরি বলা যায় না বা জানা যায় না। তবে নেককার বান্দাদের রয়েছে কিছু বৈশিষ্ট। জাগো নিউজে তার কয়েকটা তুলে ধরা হলো- হজরত শাকিক ইবনে ইবরাহিম জাহিদকে কোনো এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেন যে, মানুষ আমাকে নেককার বলে। কিভাবে বুঝব যে, আমি নেককার না বদকার? তিনি উত্তরে তিনটি গুণের কথা বললেন- ক. আল্লাহওয়ালা ব্যক্তিদের কাছে নিজের অভ্যন্তরীণ কার্যাবলী, ইবাদাত-বন্দেগির হালত তথা বিষয়াদির বর্ণনা করা। যদি তাঁরা তা পছন্দ করে, তবেই মনে করবে যে তুমি নেককার। খ. নিজের অন্তরের সামনে দুনিয়াকে পেশ কর। যদি দুনিয়ার লোভ-লালসা তোমাকে আকৃষ্ট করতে না পারে, তবে বুঝবে তুমি নেককার। গ. নিজের সামনে মৃত্যুকে উপস্থিত কর। যদি অন্তর নিজের মৃত্যুর ওপর সন্তুষ্ট থাকে আর তাড়াতাড়ি মাওলার দিদারে যাওয়ার আনন্দ অনুভব করে, তাহলে বুঝবে তুমি নেককার বান্দা। যদি কোনো বান্দা উপরোল্লিখিত তিনটি গুণ লাভ করিতে পারে তবে, তাহার জন্য উচিত সে যেন আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে এবং স্বীয় অক্ষমতা প্রকাশ করে। যাতে তাঁর আমলে রিয়া বা অহংকার তথা লোক দেখানো ইবাদতের আঁচড় প্রবেশ করতে না পারে। কেননা রিয়া সব আমলকে ধ্বংস করে দেয়। (অবলম্বেনে তাম্বীহুল গাফিলিন) *********** কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে এ বিশ্বাস প্রত্যেক মুসলিমেকেই রাখতে হবে। যদিও মহান আল্লাহ্ কিয়ামতের নির্দিষ্ট সময় মানুষকে বলে দেননি, কিন্তু পবিত্র কুরআন ও হাদীসে এর বিভিন্ন নিদর্শন বা চিহ্ন বলে দেয়া হয়েছে। এই নিদর্শনগুলো দুই ভাগে বিভক্ত। ১। আলামতে সুগরা বা ছোট আলামত। ২। আলামতে কুবরা বা বড় আলামত। আপনাদের জ্ঞাতার্থে কিয়ামতের ছোট ও বড় আলামত নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হল। আলামতে সুগরা বা ছোট আলামতঃ কেয়াতের ছোট ছোট আলামতগুলোর অন্যতম হলো- ১। এমন কিছু ঘটনা ঘটবে যা পূর্বে কখনো ঘটেনি এবং ঘটার কোন ধারণাই ছিল না। ২। অমুসলিমদের হাতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ সম্পদ আহরিত হবে। ৩। মানুষ তার বাসস্থানকে শিল্প কারুকার্জ দিয়ে সুশোভিত করাকে গুরুত্ব দিবে। ৪। জমিনের অংশসমূহ নিকটবর্তী হয়ে যাবে। ৫। শিক্ষায় বিপ্লব ঘটে যাবে কিন্তু দ্বীনি শিক্ষা সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে যাবে। ৬। মহিলারা অশ্লীলতায় ডুবে যাবে। মহিলাদের সৌন্দর্য চর্চা কেন্দ্রের ব্যাপক বিস্তার ঘটবে। ৭। মহিলারা পুরুষের আকৃতি ধারণ করবে আর পুরুষ মহিলার আকৃতি ধারণ করবে। ৮। কিছু মুসলমান মদ পান করবে অন্য নামে। ৯। মানুষের মধ্যে সুদের ব্যাপক বিস্তার হয়ে যাবে। ১০। অভিনন্দন ও অভিবাদন মানুষের কাছে অভিশাপ হয়ে যাবে। ১১। জমিনের বিভিন্ন অংশে ভূমিকম্প বৃদ্ধি পাবে। ১২। হঠাত্ মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাবে আর হত্যা বৃদ্ধি পাবে। ১৩। মানুষ কথায় সুন্দর হবে, আর কাজে অসুন্দর হবে। ১৪। কন্যা সন্তানরা তার মাকে শাসন করবে এবং মায়ের অনুকরণীয় হবে। ১৫। বেপর্দা ব্যক্তিরাই সমাজের নেতৃত্ব দিবে। ১৬। সমাজের নিকৃষ্ট এবং রাখাল শ্রেণীর লোকেরা সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করবে। ১৭। জগতের লোকেরা সুউচ্চ টাওয়ার নির্মাণে একে অপরে প্রতিযোগিতা করবে। ১৮। মানুষ তার সন্তানের চাইতে কুকুর লালন পালনকে বেশি প্রাধান্য দিবে। ১৯। নারীরা চুলের খোপা মাথার ওপরে এমনভাবে বাঁধবে যেন উটের পিঠের উঁচু জায়গার মতো দেখাবে। ২০। দুনিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা অতিদ্রুত ও সহজ হয়ে যাবে। ২১। সময় তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যাবে। ২২। দাসী ও সমাজের নিকৃষ্ট মেয়েরা যে সন্তান জন্ম দেবে সে সমাজের অন্যতম নেতা হবে। ২৩। অবৈধ জারজ সন্তানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে । ২৪। সমাজে সম্মানিত কুলীন ভদ্রলোকগুলো কোণঠাসা হয়ে যাবে আর নিকৃষ্ট অসম্মানী লোকগুলো বেপরোয়া সাহসী হবে। ২৫। বড়কে সম্মান করবে না। ছোটকে স্নেহ করবে না। ২৬। সমাজে নেতা নেতৃত্ব বেড়ে যাবে বিশ্বস্ততা কমে যাবে। ২৭। উলঙ্গ আর বেহায়াপনার প্রতিযোগিতায় নারীরা ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত হবে। ২৮। জেনা ব্যাভিচার আর মদপান বেড়ে যাবে। ২৯। প্রকৃত আত্মীয়দের ছেড়ে বন্ধু-বান্ধবদের আতিথেয়তা বেড়ে যাবে। ৩০। সমাজে ফাসাদ দুর্নীতি ব্যাপক আকার ধারণ করবে। ৩১। অযোগ্য ও অসৎ ব্যক্তিরা সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতা নির্বাচিত হবে। ৩২। মসজিদগুলো চাকচিক্য ও জাঁকজমকপূর্ণ হবে। লোকেরা পরস্পর মসজিদ নিয়ে গর্ব করবে। ৩৩। ঘন ঘন বাজার/মার্কেট নির্মিত হবে। ৩৪। সহজ সরল ব্যক্তিরা অবহেলার পাত্র হবে আর প্রতারকদের চালাক চতুর বলে প্রশংসা করা হবে। ৩৫। দুনিয়ার সম্মান ও সম্পদ অর্জনের জন্য ইসলামী জ্ঞান (ইলম) শিক্ষা ও প্রচার করা হবে। ৩৬। ইহুদী, খৃস্টানদের মত মুসলিমদেরও লক্ষ্য, উদ্দেশ্য হবে দুনিয়ার সম্পদ, সম্মান আর ক্ষমতা অর্জন। (বিভিন্ন সাইট থেকে কপিকৃত)
এক জন নেককার বান্দা সব সময় ইমানের সাথে চলে বাবা-মায়ের কথা মনে চলে ৷ নবী রাসূলে দেখানো পথে চলে ৷ সময় মতো সালাত আদায় করে ৷ ইসলামের জন্য নিজের জীবনে কে হাসি মুখে দিতে পারে
হাদিস অনুসারে এটা চেনার খুব সহজ একটা পদ্ধতি হলো, যাকে দেখলেই আল্লাহ্ তায়ালার কথা স্মরণ হয় তিনিই একজন নেককার বান্দা। তাদের মৃত্যু বেশীরভাগই ইবাদরত অবস্থায় বা সম্মানের সাথে হয়। তবে এরকম না হলেও অন্তত অসম্মান বা অবহেলায় তাদের মৃত্যু কক্ষনোই হবেনা।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy