চোখ ভাল হবে কি?
3 Answers
না হবার সম্ভাবনা বেশি, যেহেতু ছোটোবেলা থেকেই এরকম। এক্ষেএে আপনি ডক্টরের পরামর্শ নিতে পারেন।
সাধারণত কোনো কিছুর দিকে তাকালে দুই চোখের মণি একই সঙ্গে একইভাবে নড়ে। এভাবে স্বাভাবিক চোখে মণি দুটো একই রেখায় থাকে। কিন্তু ট্যারা চোখে একসঙ্গে দুই চোখের মণি একইভাবে নড়াচড়া করে না। এ কারণে দৃষ্টি একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মেলে না। অন্য কেউ দেখলে মনে হবে দুই চোখের মণি দুই দিকে তাকিয়ে আছে। সাধারণত ট্যারা হয় ডানে বা বাঁয়ে। তবে ওপরে-নিচের দিকেও হতে পারে। কিছু ট্যারা আছে, যা সব সময় বোঝা যায় না, বিশেষ কোনো দিকে তাকালে বোঝা যায়।
ট্যারার কয়েকটি প্রকার আছে। প্রকারভেদে এর কারণ ও চিকিৎসাও আলাদা হতে পারে।
ট্যারা কেন হয়?
অনেক কারণে ট্যারা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কারণও জানা যায় না। সাধারণ কারণগুলো-
* জন্মগত: শিশু জন্ম থেকেই ট্যারা চোখ নিয়ে জন্মায়।
* মায়োপিয়া : স্বল্পদৃষ্টিজনিত সমস্যা। এতে দূরের বস্তু দেখার অসুবিধা দেখা যায়।
* হাইপারোপিয়া : কাছের বস্তু দেখার অসুবিধাজনিত ত্রুটি।
* অস্টিগম্যাটিজম : যখন চোখের কর্নিয়া অমসৃণভাবে বাঁকানো থাকে। এতে চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যা তৈরি হয়।
* দৃষ্টিশক্তিজনিত ত্রুটি থেকেও ট্যারা হয়। সাধারণত শিশুর বয়স দুই বছর হওয়ার পর থেকে এটা দেখা যায়।
* ছোটবেলায় কিছু ভাইরাল ইনফেকশন হলে, যেমন হাম।
* ডাউন সিনড্রোমের মতো কিছু জেনেটিক কারণ।
* হাইড্রোসেফালাস বা মস্তিষ্কে পানি জমার মতো অসুখ হলে।
* চোখের মাংসপেশির অস্বাভাবিক আচরণ।
* মা-বাবার মতো নিকটাত্মীয়ের যদি চোখের ট্যারা সমস্যা থাকে।
* সেরেব্রাল পালসি বা স্নায়ুতান্ত্রিক কিছু সমস্যা থাকলে।
* সময়ের আগেই জন্মানো শিশু (প্রিম্যাচিউর বেবি) বা স্বল্প ওজন নিয়ে জন্মানো শিশু।
* আঘাতে চোখের মাংসপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে।
কেন চিকিৎসা দরকার
ট্যারা চোখের জন্য সৌন্দর্যহানি হয় কিন্তু তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয় চোখের। তাই রোগটি নির্ণিত হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করা জরুরি। প্রথমে নির্ণয় করা জরুরি কী কারণে ট্যারা হয়েছে। কারণের ওপর ভিত্তি করেই হয় চিকিৎসা।
শিশুদের ক্ষেত্রে ট্যারা ধরা পড়ামাত্র চিকিৎসা করা দরকার। অন্যথায় চোখের গঠন ত্রুটিযুক্ত হতে পারে, দৃষ্টিশক্তির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের যদি ট্যারা সমস্যা থাকে, তারা একই বস্তু দুটি দেখেন। শিশুদের ক্ষেত্রে দ্বি-দৃষ্টির এ সমস্যাটি হয় না। কারণ শিশুদের মস্তিষ্ক গঠন তখনো চলতে থাকে। মস্তিষ্ক দ্বি-দৃষ্টির সমস্যাটিকে নিজেই সমাধান করে। যদি তা না হয়, তাহলে মস্তিষ্ক ওই চোখের দেখার ক্ষমতাই বন্ধ করে দেয় বা কমিয়ে দেয়। এ কারণেই শিশুদের ট্যারা চোখের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা উচিত।
সাধারণত চোখের নড়াচড়ার জন্য অনেকগুলো মাংসপেশি কাজ করে, যা চোখের চারপাশে থাকে। এই মাংসপেশিগুলোর ক্ষমতা কমে গেলে ট্যারার সমস্যা হতে পারে। হঠাৎ করেও চোখ ট্যারা হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশু বয়সে যাদের ট্যারার সমস্যা চিকিৎসা করে ভালো করা হয়েছিল, পরিণত বয়সেও আবার সমস্যাটি দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসা
ট্যারার আসল কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বলা হয়, যত কম বয়স থেকে চিকিৎসা শুরু করা হবে সাফল্যের সম্ভাবনা তত বেশি। চিকিৎসার মধ্যে আছে-
চশমা : ট্যারা চোখের চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় চশমা। দৃষ্টিজনিত যে সমস্যার জন্য চোখ ট্যারা হচ্ছে তা সংশোধনই এ চশমার কাজ। এ ধরনের চশমা চিকিৎসক দেখিয়ে নিতে হবে। সাধারণত যত বেশি সময় সম্ভব চশমা ব্যবহার করতে হয়।
চোখের ব্যয়াম : চোখের কিছু ব্যয়াম আছে। এগুলো চারপাশে থাকা মাংসপেশির কার্যক্ষমতা ঠিক করতে সাহায্য করে। এতেও ট্যারা চোখের সমস্যা কমে।
বটুলিনাম ইনজেকশন : কিছু ক্ষেত্রে এ ইনজেকশন দেওয়া হয়। যে মাংসপেশির কারণে ট্যারা সমস্যা হচ্ছে তাতে ইনজেকশনটি দেওয়া হয়। এতে সাময়িক সময়ের জন্য ট্যারা সমস্যা কমে। সাধারণত ইনজেকশনটি কার্যকর থাকে তিন মাসের মতো। এ সময়ের পরও যদি চোখের ট্যারা না সারে, অন্য চিকিৎসায় যেতে হয়। তবে এ ইনজেকশনের বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে।
অস্ত্রোপচার : চোখের নড়াচড়ার জন্য ছয়টি মাংসপেশি কাজ করে। এগুলো চোখের সঙ্গে সংযুক্ত। সাধারণত ট্যারা চোখের সমস্যা সমাধানে এর দুটি মাংসপেশিতে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়। এক বা উভয় চোখেই অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের অস্ত্রোপচারে হাসপাতালে থাকার তেমন প্রয়োজন পড়ে না। তবে সপ্তাহখানেক বিশ্রামের দরকার। অস্ত্রোপচারের কিছু ঝুঁকি থাকলেও সাধারণত দৃষ্টিজনিত অসুবিধা হয় না।
সুত্রঃ ইন্টারনেট
ধন্যবাদ!!!
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy