1 Answers
পৃথিবীতে অসংখ্য জাতি-গোষ্ঠী রয়েছে। প্রত্যেক জাতির নিজস্ব ইউনিফরম তথা স্বতন্ত্র প্রতীক আছে। সে হিসেবে মুসলিম জাতিরও স্বতন্ত্র ইউনিফরম থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। আর এ কথা সর্বজন স্বীকৃত, যে জাতি নিজস্ব ইউনিফরম রক্ষা করে না, সে জাতি অচিরেই অন্য কোনো জাতির মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। গোঁফ ছোট রাখা এবং দাড়ি লম্বা রাখা মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতীক। দাড়ি রাখা কোনো ফ্যাশন নয়, এটি ইবাদত। এটি মহানবী (সা.)সহ সব নবীর সুন্নাত। সুন্নাহসম্মত দাড়ি কোনো ব্যক্তি মুসলিম হওয়ার অন্যতম নিদর্শন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা দাড়ি লম্বা করো এবং মোচ ছোট করো।’ দাড়িসংক্রান্ত এ বিশুদ্ধ হাদিস একাধিক হাদিসগ্রন্থে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) নিজেও দাড়ি রাখতেন। তাঁর দাড়ি ছিল কালো, গভীর, ঘন ও প্রশস্ত। তাঁর বক্ষ মোবারক দাড়িতে ভরে যেত। ইসলাম ধর্ম মতে, দাড়ি রাখা ওয়াজিব। চার মাজহাবের কোনো মাজহাবে এ নিয়ে বিতর্ক নেই। দাড়ি রাখা সুন্নত নয়, যেমনটা এ যুগের কেউ কেউ ধারণা করেন। সুতরাং এক মুষ্টির নিচে দাড়ি কাটা বা ছাঁটা হারাম। দাড়ি না রাখার অসংখ্য ক্ষতি রয়েছে—এক. দাড়ি মুণ্ডানো বা ছোট করা মুশরিক, অগ্নিপূজক ও বিধর্মীদের অভ্যাস। আর মুসলমানদের জন্য বিধর্মীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা হারাম। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য কোনো জাতির সাদৃশ্য (বেশভূষা, আকার-আকৃতি) অবলম্বন করে, সে ওই জাতির অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।’ (জামে ছগির, ২/৮) আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যদি কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অমান্য করে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।’ (সুরা জিন, ২৩) দাড়ি রাখার ধর্মীয় উপকারিতা এক. দৃষ্টিশক্তি ঠিক থাকে। ফলে ভালোভাবে কোরআন তেলাওয়াত সম্ভব হয়। দুই. দাড়ি থাকলে মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা যায়। অবৈধ কাজে অংশগ্রহণে লজ্জাবোধ হয়। তিন. মুমিন হিসেবে পরিচিত হওয়া যায়। নতুবা মুমিন-কাফির, পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যায়। চার. অপরিচিত স্থানে মারা গেলে মুসলমান হিসেবে সসম্মানে গোসল ও দাফন-কাফন নসিব হয়। পাঁচ. হাশরের ময়দানে রাসুলের উম্মত দাবি করা সহজ হবে এবং তাঁর সুপারিশ লাভ সম্ভব হবে। দাড়ি রাখার দৈহিক উপকারিতা মাওলানা আশেকে ইলাহি মিরাঠি (রহ.) তাঁর ‘ডারহি কি কদর ও হিকমত’ নামের বইয়ে লিখেছেন : ইউনানি চিকিৎসবিজ্ঞান অনেক আগেই এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে দাড়ি পুরুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। গলা ও বক্ষকে ঠাণ্ডা ও গরম থেকে রক্ষা করে । আধুনিক ডাক্তারদের মধ্যে একজন লিখেছেন : সব সময় দাড়িতে খুর চালালে চোখের শিরার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এতে চোখের জ্যোতি ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসে। অন্য এক ডাক্তার লিখেছেন : দাড়ি জীবাণুকে দাড়ির ভেতরে ঢুকতে প্রতিবন্ধতার সৃষ্টি করে। তাকে গলা, বক্ষ পর্যন্ত অতিক্রম করতে বাধা দেয়। দাড়ি না রাখা যৌনশক্তি শূন্যের কোঠায় পৌঁছে দেয়। এক ডাক্তার লিখেছেন, যদি সাত প্রজন্ম পর্যন্ত কোনো বংশের পুরুষদের মধ্যে দাড়ি মুণ্ডানোর অভ্যাস চালু থাকে, তাহলে অষ্টম প্রজন্মের সন্তান দাড়িবিহীন হবে। এর কারণ হলো, এর ফলে প্রত্যেক প্রজন্মে যৌনশক্তি হ্রাস পেতে পেতে অষ্টম জেনারেশনে একেবারে শূন্যের কোঠায় পৌঁছে যাবে । বিবিসির এক অনুষ্ঠান—ট্রাস্ট মি, আই অ্যাম এ ডক্টর—সম্প্রতি এই প্রশ্নে একটা ছোট্ট পরীক্ষা চালিয়েছে। এর ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্লিন শেভড পুরুষের চেয়ে দাড়িওয়ালাদের মুখে রোগ-জীবাণু বেশি, এমন কোনো প্রমাণ তারা পাননি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতাল সম্প্রতি এ নিয়ে গবেষণা চালায়। ‘জার্নাল অব হসপিটাল ইনফেকশনে’ প্রকাশিত এই গবেষণার ফলে বলা হচ্ছে, দাড়িওয়ালাদের চেয়ে বরং দাড়ি কামানো পুরুষের মুখেই বেশি রোগ-জীবাণু পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলছেন, মেথিসিলিন-রেসিস্ট্যান্ট স্ট্যাফ অরিয়াস (এমআরএসএ) বলে যে জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী, সেটি দাড়িওয়ালাদের চেয়ে দাড়ি কামানোদের মুখে তিন গুণ বেশি মাত্রায় পাওয়া গেছে। এর কারণ কী? গবেষকরা বলছেন, দাড়ি কামাতে গিয়ে মুখের চামড়ায় যে হালকা ঘষা লাগে, তা নাকি ব্যাকটেরিয়ার বাসা বাঁধার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। অন্য দিকে দাড়ি সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে। বিবিসির ‘ট্রাস্ট মি, আই অ্যাম এ ডক্টর’ অনুষ্ঠানে বেশ কিছু পুরুষের দাড়ি থেকে ব্যাকটেরিয়ার নমুনা সংগ্রহ করে একই ধরনের পরীক্ষা চালানো হয়। মোছ এর ক্ষেত্রে একেবারে কেটে ফেলতে হবে এমন বলা হয়নি,ছোট রাখতে বলা হয়েছে, আর এটি ছোট রাখায় ভালো, কারন আমাদের খাবার গ্রহন এর সময় এর স্পর্শ হয়,আর মোছে লেগে থাকা ময়লা পেটে গেলে নানা রোগ হতে পারে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy