3 Answers
হাঁপানি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। সঠিক চিকিৎসা এবং ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে হাঁপানি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেসব উত্তেজনের (ট্রিগার) কারণে হাঁপানির তীব্রতা বেড়ে যায় রোগীকে সেগুলো শনাক্ত করতে হবে এবং পরিহার করতে হবে। এছাড়া সব হাঁপানি রোগীকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি নজর রাখতে হবে। ধূমপান এবং তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে। ঠান্ডা বাতাস হাঁপানির তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। এই সময় ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে হবে। ব্যায়াম এবং শারীরিক পরিশ্রম নিরুৎসাহিত করা উচিত নয়। ব্যায়াম শরীর ভালো রাখে এবং উচ্চরক্তচাপ ও অন্যান্য জটিল রোগবালাই থেকে শরীরকে রক্ষা করে। সঠিক ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যায়ামের সময় বা পরে হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা পরিহার করা সম্ভব। বাড়ির পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং বাড়িতে অবাধ বিশুদ্ধ বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ওষুধ দুই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয় যেমন- (১) হাঁপানি প্রতিরোধক (২) হাঁপানি উপশমকারক হাঁপানি প্রতিরোধক যেসব ওষুধের ব্যবহার হাঁপানি রোগে আক্রান্ত হওয়া প্রতিরোধ করে তাদের হাঁপানি প্রতিরোধক বলা হয়। দুপ্রকারের ওষুধ হাঁপানি প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ওষুধসমূহ এসব ওষুধ শ্বাসনালির প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হাঁপানি প্রতিরোধ করে। এই শ্রেণীর বহুল ব্যবহৃত বুসোনাইড, ক্লোমিথাসেন, ফ্লুটিকাসোন ইত্যাদি। ব্রঙ্কোডাইলেটর বা শ্বাসনালি প্রসারক : এসব ওষুধসমূহ দ্রুত শ্বাসনালিকে প্রসারিত করে হাঁপানির তীব্রতা প্রতিরোধ করে। হাঁপানি উপশমকারক ব্রঙ্কোডাইলেটরসমূহ উপশমকারক হিসেবে কাজ করে। ব্রঙ্কোডাইলেটরসমূহ শ্বাসনালিকে দ্রুত প্রসারিত করে ফলে ফুসফুসে সহজে বায়ু চলাচল করতে পারে এবং এর মাধ্যমে হাঁপানি আক্রান্ত রোগীর উপসর্গসমূহ দ্রুত উপশম হয়। দু ধরনের ব্রঙ্কোডাইলেটর বা শ্বাসনালি প্রসারক আছে যেমন- ক্ষণস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর যেমন-সালবিউটামল। এসব ওষুধ দিনে ৩-৪ বার ব্যবহার করতে হয়। দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর যেমন-ব্যামবিউটামল। এসব ওষুধ দিনে একবার ব্যবহার করতে হয়। মৃদু বা মাঝারি হাঁপানিতে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষণস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর (যেমন-সালবিউটামল) ব্যবহার করলে কোনো ধরনের ক্লিনিক্যাল সুবিধা পাওয়া যায় না। তাই এসব ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর (যেমন-ব্যামবিউটামল) ব্যবহার করতে হবে। রাত্রিকালীন হাঁপানিতে মোডিফাইড রিলিজড থিওফাইলিনের বিকল্প হিসেবে ব্যামবিউটামল ব্যবহার করে ভালো সুফল পাওয়া যায়। হাঁপানির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক রোগীই হাঁপানি চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলে কিন’ অনিয়ন্ত্রিত হাঁপানি আরও ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। সঠিক চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবহারের মাধ্যমে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণ না করলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং অকেজো হবে। শিশুদের হাঁপানির ঠিকমতো চিকিৎসা না করালে বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং মায়েদের বেলায় গর্ভস্থ ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। হাঁপানি চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া করটিকোস্টেরয়েডের ব্যবহার ওরাল ক্যানডিয়াসিস সৃষ্টি করতে পারে। যেসব রোগী ইনহেলারের মাধ্যমে করটিকোস্টেরয়েড ব্যবহার করে তাদের অস্টিওপেরোসিস প্রতিরোধ করার জন্য নিয়মিত ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট (যেমন-অসটোক্যাল/অসটোক্যাল জেআর) গ্রহণ করা উচিত। থিয়োফাইলিন এবং এ জাতীয় ওষুধসমূহ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং রোগীকে অবসন্ন করে দেয় বলে থিয়োফাইলিনের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ব্রঙ্কোডাইলেটর যেমন-ব্যামবিউটামল (ডাইলেটর) ব্যবহার করা উচিত। ডা. একেএম মোস্তফা হোসেন পরিচালক জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল মহাখালী, ঢাকা-১২১২
শাসকষ্ট প্রতিরোধে Deslor 5mg tablet, দিনে একটি খেতে পারেন। ধুলাবালি, ময়লা, এগুলো এড়িয়ে চলুন। রোগ প্রতিকারের চে প্রতিরোধই ভাল। তুলসি পাতা বেটে খেতে পারেন, Antazol drop ব্যবহার করতে পারেন,
শ্বাসকষ্ট প্রতিকারের একটা বিশেষ দিক হচ্ছে যেসব খাবার বা অভ্যাসের কারণে শাসকষ্ট হয় সেসব থেকে বিরত থাকা। যেমন ধুলোবালি যাওয়া,ধুমপান করা, পশু পাখির লোম কোনভাবে নাকে প্রবেশ,ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy