4 Answers
পেয়ারার মধ্যে রয়েছে ক্যালোরি, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস। কর্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন আছে সামান্য পরিমাণে, যেগুলো মানুষের শরীরে নানা রকম রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে, যা রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। পেয়ারা ব্লাডপ্রেসার ও সুগার লেভেল ঠিক রাখে। উপকারিতা : ১. পেয়ারা খেলে ওরাল আলসার থেকে পাওয়া যায়। ২. দাঁতের ব্যথায় পেয়ারা খেলে উপকার পাওয়া যায়। ৩. পেয়ারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে। ৪. পেয়ারা রক্ত চলাচল ঠিক রাখে। ৫. পেয়ারা খেলে অ্যাসিডিটি হতে মুক্তি পাওয়া যায়। ৬. হার্টের রোগীদের জন্য পেয়ারা বেশ উপকারী। ৭. অ্যাজমা রোগীদের জন্য পেয়ারা খুব উপকারী। ৮. পেয়ারা কোলেস্টরল কমাতে সাহায্য করে। ৯. পেয়ারায় প্রচুর ফাইবার থাকায় ব্লাডপ্রেসার নিয়ন্ত্রণে ভালো কাজ করে। ১০. পেয়ারায় পটাশিয়াম থাকায় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। ১১. পেয়ারা ওজন কমাতে সাহায্য করে। ১২. পেয়ারা গলা ও ফুসফুস ভালো রাখতে সাহায্য করে। ১৩. পেয়ারা খেলে মাড়ি শক্ত হয়। নিঃশ্বাস সতেজ থাকে। ১৪. পেয়ারা ডায়রিয়ার সমস্যায় বেশ ভালো উপকার করে। ১৫. পেয়ারা নিয়মিত খেলে ওজন কমতে সাহায্য করে। ১৬. ত্বকের টানটান ভাব বজায় রাখতে সাহায্য করে।
পেয়ারাঃ ভিটামিন-সি আর ময়েশ্চারসমৃদ্ধ ফল পেয়ারা। পেয়ারা বর্ষাকালীন ফল হলেও বর্তমানে বাজারে ও অলিগলিতে মেলে এই ফলের সন্ধান। প্রায় এক হাজার ৩০ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট ভিটামিন-এ এবং ৩৭৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি রয়েছে এই পেয়ারায়। উচ্চমাত্রার ভিটামিন-এ ও ‘সি’ ত্বক, চুল ও চোখের পুষ্টি জোগায়, ঠান্ডাজনিত অসুখ দূর করে। ত্বকের স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য ময়েশ্চার জরুরি। পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ময়েশ্চার, যা তারুণ্য বজায় রাখে দীর্ঘদিন, ত্বকের রুক্ষ ভাব দূর করে ও শীতে পা ফাটা রোধ করে। পেয়ারার ভিটামিন-এ ছোটদের রাতকানা রোগ ভালো করে। তবে বাচ্চারা পেয়ারার বীজ হজম করতে পারে না। তাই তাদের বীজ বাদ দিয়ে পেয়ারা খাওয়ানো উচিত। একটা পেয়ারায় রয়েছে চারটি কমলালেবুর সমান পুষ্টি। তাই সপ্তাহে অন্তত একটি হলেও পেয়ারা খাওয়া উচিত। পেয়ারার খোসায় রয়েছে আঁশজাতীয় উপাদান। পেয়ারার ভেতরেও রয়েছে আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও পাকস্থলীর ক্যানসার দূরীকরণে রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। পেয়ারায় রয়েছে ক্যারটিনয়েড, পলিফেনল, লিউকোসায়ানিডিন ও অ্যামরিটোসাইড নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ক্ষতস্থান শুকানোর জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ত্বককে ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে রক্ষা করে। ত্বক, চুল ও দাঁতের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
পেয়ারা খেলে যেসব উপকার হয়ঃ কাঁচা পেয়ারা হৃদ রোগের উপকার করে| কাঁচা পেয়ারা লবন দিয়ে খান কাশের ভাল উপকার হবে| কাঁচা পেয়ারা রক্ত বর্ধক| পেয়ারা বাত পিত্ত কফ নাশক| শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য কাঁচা পেয়ারা অত্যন্ত উপকারী যাদের হাতে পায়ে জ্বালা কাঁচা পেয়ারায় উপকার পাবেন| পেয়ারা পাতা দাঁতের মাড়ি ব্যথায় উপকার| তুলশি গিলই এবং পেয়ারা পাতা সেদ্ধজল জ্বরের জন্য অত্যন্ত উপকারী কাঁচা পেয়ারা আনন্দ দায়ক| নেশা মুক্তির জন্য কাঁচা পেয়ারার পাতা সেদ্ধ জল খাওয়ান| শিকড়, গাছের বাকল, পাতা এবং অপরিপক্ক ফল কলেরা, আমাশয় ও অন্যান্য পেটের পীড়া নিরাময়ে ভাল কাজ করে। ক্ষত বা ঘা-এ থেঁতলানো পাতার প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়। পেয়ারার কচি পাতা চিবালে দাঁতের ব্যথা উপশম হয়।
পেয়ারা আমাদের দেশে খুবই লাভজনক একটি ফল। সবচেয়ে বেশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল হচ্ছে পেয়ার। স্কার্ভি রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ডাক্তারগণ পেয়ারা গ্রহণ করতে উপদেশ দেন। এছাড়া পেয়ারা খেলে সহজে সর্দি কাশি ভাল হয়ে যায়।