1 Answers
সাপ কামড়েছে জানলে দ্রুত হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে যাওয়া দরকার। কিন্তু যতক্ষণ চিকিৎসার বন্দোবস্ত না হচ্ছে ততক্ষণ যা করা দরকার, তা হল: • সাবান জল দিয়ে ক্ষতস্থানটা ধুয়ে ফেলা • শরীরের যে অংশে সাপ কমড়েছে সেটা যতটা সম্ভব স্থির করে রাখা। • ক্ষতস্থানটা পরিস্কার কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা। সাপ কামড়ানোর পর যদি ৩০ মিনিটের মধ্যে কোনও চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব না হয়, তাহলে আমেরিকান রেড ক্রসের উপদেশ হল: সাপ যেখানে কামড়েছে তার দুই থেকে চার ইঞ্চি উঁচুতে (অর্থাৎ হৃদ্পিণ্ডের দিকে) একটা জড়ানো ব্যাণ্ডেজ বাঁধা। ব্যাণ্ডেজটা খুব কষে বাঁধা যেন না হয়, সেক্ষেত্রে রক্ত-চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। মোটামুটি ভাবে ব্যাণ্ডেজের তলা দিয়ে যাতে একটা আঙুল গলিয়ে দেওয়া যায় - সেটা দেখতে হবে। এইবার ক্ষতের উপর কোনো 'সাক্শন' যন্ত্র সাবধানে বসিয়ে (যাতে কেটেছড়ে না যায়) বিষটাকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করা। এই ধরণের 'সাক্শন' যন্ত্র সর্প-দংশন কিট-এ পাওয়া যায়। তবে এই 'সাক্শন' পদ্ধতি ব্যবহারের ব্যাপারে দ্বিমত আছে। এতে বিষের অল্প অংশই বার করা যায়, বরং ঘষাঘষিতে বিষটি শরীর মধ্যে ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে বলে অনেকের অভিমত। সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকরি প্রাথমিক চিকিৎসা ঠিক কি হবে, সেটা বলা একটু মুশকিল। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরণের বিষধর সাপ থাকে। প্রত্যেক সাপের বিষ একরকম ভাবে দেহকে আক্রমণ করে না। ফলে এক রকম সাপের বিষের ক্ষেত্রে যে প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যকরি অন্য অন্য সাপের ক্ষেত্রে সেটি ভালোর থেকে মন্দ বেশি করতে পারে। তাই এ ব্যাপারে স্থানীয় স্বাস্থ্যবিভাগের পরামর্শ নেওয়াটা বিশেষ প্রয়োজনীয়। সর্প দংশনে কি সাপ কামড়েছে, সেটা জানা দরকার। সাধারণতঃ চিকিৎসকরা অ্যাণ্টিভেনিন বা অ্যাণ্টিভেনম (সাপের বিষের অ্যাণ্টিডোট, অর্থাৎ প্রতিরোধক) ব্যবহার করেন। দুরকমের অ্যাণ্টিভেনিন এখন পাওয়া যায়। এককালে অ্যাণ্টিভেনিন তৈরি করা হত ঘোড়ার উপর সাপের বিষ প্রয়োগ করার ফলে ঘোড়ার রক্তে যে প্রতিরোধ (অ্যাণ্টিবডি) গড়ে ওঠে সেটি সংগ্রহ করে। ১৯৫৪ সালে এই ধরণের অ্যাণ্টিভেনিন আমেরিকাতে প্রথম চালু হয়। এগুলি ব্যবহার করলে কিছু কিছু লোকের বিরূপ প্রতিক্রিয়াও হয়, সেইজন্য ডাক্তারদের এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। ইদানীং কালে এক ধরণের নতুন অ্যাণ্টিভেনিন বেরিয়েছে ভেড়ার অ্যাণ্টিবডি ব্যবহার করে। এটিতে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া কম হয়।