1 Answers
১. হযরত খাদীজাতুল কুবরা বিনতে খুওয়াইলিদ : বিবাহকালে রাসূল (ছাঃ)-এর বয়স ২৫, তাঁর বয়স ৪০, মৃত্যুকালে বয়স ৬৫, মৃত্যুকাল- ১০ নববীসন, মৃত্যুর স্থান- মক্কা, রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে দাম্পত্যকাল- প্রায় ২৫ বছর। জ্ঞাতব্য : পূর্বে তিনি দুই স্বামী হারান। ২য় স্বামীর ঔরসে তাঁর গর্ভজাত ৩ পুত্র ছিলেন। যারা সবাই ছাহাবী ছিলেন রাসূল (ছাঃ) ছিলেন তাঁর তৃতীয় স্বামী এবং রাসূল (ছাঃ)-এর তিনি ছিলেন প্রথমা স্ত্রী। তিনি বেঁচে থাকা অবধি রাসূল (ছাঃ) দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। ২. সওদা বিনতে যাম‘আহ : রাসূল (ছাঃ)-এর বয়স ৫০, তাঁর বয়স ৫০, বিবাহসন ১০ নববীবর্ষ, মৃত্যুসন ১৯ হিঃ, বয়স ৭২, মৃত্যুর স্থান- মদীনা, রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে দাম্পত্যকাল- ১৪ বছর। জ্ঞাতব্য : প্রথমে ইনি ইসলাম কবুল করেন। পরে তাঁর উৎসাহে স্বামী সাকরান বিন আমর মুসলমান হন। অতঃপর উভয়ে হাবশায় হিজরত করেন। সাকরান সেখানে মৃত্যুবরণ করলে সন্তান নিয়ে তিনি চরম বিপদে পড়েন। একই সময়ে খাদীজাকে হারিয়ে বিপদগ্রস্ত রাসূল (ছাঃ) সংসারে সুপটু সওদাকে বিয়ে করেন ও তার হাতে সদ্য মাতৃহারা সন্তানদের দায়িত্ব অর্পণ করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীছের সংখ্যা ৫টি। তন্মধ্যে ১টি বুখারীতে ও ৪টি সুনানে। ৩. আয়েশা বিনতে আবুবকর : রাসূল (ছাঃ)-এর বয়স ৫৪, স্বামীগৃহে আগমনের বয়স-৯, বিবাহ সন ১ হিজরী, মৃত্যুসন- ৫৭হিঃ, বয়স- ৬৩; মৃত্যুর স্থান- মদীনা; দাম্পত্যকাল-৯ বছর। জ্ঞাতব্য : ইনিই একমাত্র কুমারী স্ত্রী ছিলেন। কোন সন্তানাদি হয়নি। রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে আত্মীয়তার বন্ধন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আবুবকর (রাঃ) এই বিবাহ দেন। নবীপত্নীগণের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বাধিক জ্ঞানী ও বুদ্ধিমতী। তাঁর বর্ণিত হাদীছের সংখ্যা ২২১০টি। তন্মধ্যে ১৭৪টি মুত্তাফাক্ব আলাইহ, ৫৪টি এককভাবে বুখারী ও ৬৭টি এককভাবে মুসলিম। ৪. হাফছাহ বিনতে ওমর : রাসূল (ছাঃ)-এর বয়স ৫৫, তাঁর বয়স ২২, বিবাহ সন ৩ হিজরী; মৃত্যুসন-৪১হিঃ, বয়স-৫৯; মৃত্যুর স্থান মদীনা; দাম্পত্য কাল- ৮ বছর। জ্ঞাতব্য : তাঁর স্বামী খুনায়েস বিন ওযাফাহ প্রথমে হাবশা ও পরে মদীনায় হিজরত করেন। বদর ও ওহোদ যুদ্ধে শরীক ছিলেন। ওহোদে যখমী হয়ে মারা যান। পরে রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে হাফছার বিয়ে হয়। তিনি মোট ৬০টি হাদীছ বর্ণনা করেন। তন্মধ্যে মুত্তাফাক্ব আলাইহ ৪, এককভাবে মুসলিম ৬। আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) তাঁর সহোদর ভাই ছিলেন। ৫. যয়নব বিনতে খুযায়মা : রাসূল (ছাঃ)-এর বয়স ৫৫; তাঁর বয়স প্রায় ৩০; বিবাহ সন ৩ হিজরী; মৃত্যুসন- ৩হিঃ বয়স- ৩০; মৃত্যুর স্থান মদীনা; দাম্পত্যকাল- ৩ মাস। জ্ঞাতব্য : পরপর দুই স্বামী হারিয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর ফুপাতো ভাই আব্দুল্লাহ বিন জাহশের সাথে তৃতীয় বিবাহ হয়। কিন্তু তিনি ওহোদ যুদ্ধে শহীদ হলে রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে চতুর্থ বিবাহ হয়। গরীবের মা হিসাবে তিনি ‘উম্মুল মাসাকীন’ নামে খ্যাত ছিলেন। ৬. উম্মে সালামাহ : রাসূল (ছাঃ)-এর বয়স ৫৬; তাঁর বয়স ২৬; বিবাহ সন ৪ হিঃ; মৃত্যুসন ৬০ হিঃ; বয়স ৮০ বছর; মৃত্যুর স্থান মদীনা; দাম্পত্যকাল- ৭ বছর। জ্ঞাতব্য : রাসূল (ছাঃ)-এর আপন ফুপাতো ভাই আবু সালামাহ্র স্ত্রী ছিলেন। উভয়ে হাবশায় হিজরত করেন। বদর ও ওহোদ যুদ্ধে শরীক হন। ওহোদে যখমী হয়ে স্বামী শাহাদাত বরণ করেন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তিনি রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে বিবাহিত হন। তাঁর দূরদর্শিতাপূর্ণ পরামর্শ হোদায়বিয়ার ঘটনায় খুবই ফলপ্রসু হয়েছিল। তাঁর বর্ণিত হাদীছের সংখ্যা ৩৭৮, তন্মধ্যে মুত্তাফাক্ব আলাইহ -১৩, এককভাবে বুখারী-৩, মুসলিম-১৩। ৭. যয়নব বিনতে জাহশ : রাসূল (ছাঃ)-এর বয়স ৫৭; তাঁর বয়স ৩৬; বিবাহ সন ৫হিঃ মৃত্যুসন ২০হিঃ; বয়স ৫১ বছর, মৃত্যুর স্থান মদীনা; দাম্পত্যকাল- ৬ বছর। জ্ঞাতব্য : রাসূল (ছাঃ)-এর ফুপাতো বোন ছিলেন। প্রথমে রাসূল (ছাঃ)-এর পোষ্যপুত্র যায়েদ বিন হারেছাহ্র সাথে বিবাহ হয়। পরে যায়েদ তালাক দিলে আল্লাহ্র হুকুমে রাসূল (ছাঃ) তাকে বিয়ে করেন প্রচলিত দু’টি কুসংস্কার দূর করার জন্য। এক- সে যুগে পোষ্যপুত্রকে নিজ পুত্র এবং তার স্ত্রীকে নিজ পুত্রবধু মনে করা হ’ত ও তার সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ মনে করা হ’ত। দুই-ইহুদী ও নাছারাগণ ওযায়ের ও ঈসাকে আল্লাহ্র পুত্র গণ্য করত (তওবা ৯/৩০)। অথচ সৃষ্টি কখনো সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্র পুত্র হ’তে পারে না। যেমন অপরের ঔরসজাত সন্তান কখনো নিজ সন্তান হ’তে পারে না। ৮. জুওয়াইরিয়া বিনতুল হারেছ : রাসূল (ছাঃ)-এর বয়স ৫৭; তাঁর বয়স ২০; বিবাহ সন ৫হিঃ; মৃত্যুর সন ৫৬হিঃ; বয়স- ৭১; দাম্পত্যকাল- ৬ বছর। জ্ঞাতব্য : ইনি বনু মুছত্বালিক সর্দার হারেছ বিন আবু যাররাবের কন্যা ছিলেন। যুদ্ধে বন্দী হয়ে রাসূল (ছাঃ)-এরসাথে বিবাহিতা হন এবং রাসূল (ছাঃ)-এর শ্বশুরকুল হওয়ার সুবাদে একশতের অধিক যুদ্ধবন্দীর সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়। ফলে তারা সবাই মুসলমান হয়ে যায়। জুওয়াইরিয়ার প্রথম স্বামী ছিলেন মুসাফিহ বিন সুফিয়ান মুছতালিক্বী। তিনি মোট ৭টি হাদীছ বর্ণনা করেন। তন্মধ্যে বুখারী ২ও মুসলিম ২। ৯. উম্মে হাবীবাহ রামলাহ বিনতে আবু সুফিয়ান : রাসূল (ছাঃ)-এর বয়স ৫৮; তাঁর বয়স ৩৬; বিবাহ সন ৬হিঃ; মৃত্যুকাল- ৪৪হিঃ; বয়স ৭২; মৃত্যুর স্থান মদীনা; দাম্পত্যকাল- ৬ বছর। জ্ঞাতব্য : কুরায়েশ নেতা আবু সুফিয়ানের কন্যা ছিলেন। ওবায়দুল্লাহ বিন জাহশ তার প্রথম স্বামী ছিলেন। উভয়ে মুসলমান হয়ে হাবশায় হিজরত করেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে স্বামী খৃষ্টান হয়ে যায় ও মারা যায়। তিনি একটি কন্যা সন্তান নিয়ে বিধবা হন। রাসূল (ছাঃ) তার চরম বিপদের কথা জানতে পেরে বিবাহের পয়গাম পাঠান। বাদশাহ নাজ্জাশী স্বয়ং তার বিবাহের খুৎবা পাঠ করেন ও সবাইকে দাওয়াত খাওয়ান। পরে তাকে মদীনায় পাঠিয়ে দেন। তিনি ৬৫টি হাদীছ বর্ণনা করেন। তন্মধ্যে মুত্তাফাক্ব আলাইহ-২টি ও মুসলিম-৩টি। ১০. ছাফিয়া বিনতে হুয়াই বিন আখত্বাব : রাসূল (ছাঃ)-এর বয়স ৫৯; তাঁর বয়স ১৭; বিবাহ সন ৭হিঃ; মৃত্যুর সন ৫০ হিঃ; বয়স ৬০; মৃত্যুর স্থান মদীনা; দাম্পত্যকাল- পৌনে চার বছর। জ্ঞাতব্য : খায়বর যুদ্ধে বন্দী হন। পরে ইসলাম কবুল করে রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে বিবাহিতা হন। ইহুদী বনী নাযীর গোত্রের সর্দার হুয়াই বিন আখত্বাব তার পিতা ছিলেন এবং অন্যতম সর্দার কেনানাহ বিন আবুল হুকাইক তার স্বামী ছিলেন। উভয়ে নিহত হন। হযরত হারূণ (আঃ)-এর বংশধর ছিলেন। তিনি ১০টি হাদীছ বর্ণনা করেন। তন্মধ্যে মুত্তাফাক্ব আলাইহ ১টি। ১১. মায়মূনা বিনতুল হারেছ : রাসূল (ছাঃ)-এর বয়স ৫৯; তাঁর বয়স ৩৬; বিবাহ সন ৭ হিঃ; মৃত্যুর সন ৫১হিঃ; বয়স ৮০; মৃত্যুস্থান মক্কার নিকটবর্তী সারফ নামক স্থানে। দাম্পত্যকাল- সোয়া তিন বছর। জ্ঞাতব্য : ইনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) ও খালেদ বিন ওয়ালীদ (রাঃ)-এর আপন খালা ছিলেন এবং উম্মুল মুমিনীন হযরত যয়নব বিনতে খুযায়মার বৈপিত্রেয় বোন ছিলেন। তাঁর পূর্বের দুই স্বামী মারা গেলে ভগ্নিপতি হযরত আববাস (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে তার বিবাহের প্রস্তাব দেন। ফলে ৭ম হিজরীতে ক্বাযা ওমরাহ শেষে মক্কার অদূরে সারফ নামক স্থানে উক্ত বিবাহ সম্পন্ন হয় এবং এটিই ছিল রাসূল (ছাঃ)-এর সর্বশেষ বিবাহ। তিনি মোট ৭৬টি হাদীছ বর্ণনা করেন। তন্মধ্যে মুত্তাফাক্ব আলাইহ-৭, এককভাবে মুসলিম-১, বুখারী-১টি। বাকীগুলি অন্যান্য হাদীছগ্রন্থে স্থান পেয়েছে। কিলাব ও কিন্দাহ গোত্রের আরও দু’জন মহিলা রাসূল (ছাঃ)-এর স্ত্রী ছিলেন বলে কেউ কেউ বলেছেন। তবে সে বিষয়ে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে। অবশ্য এ ব্যাপারে সকলে একমত যে, তাদেরকে রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে বিদায় করা হয় নাই। এতদ্ব্যতীত রাসূল (ছাঃ)-এর দু’জন দাসী ছিল। এক- মারিয়া ক্বিবতিয়া এবং দুই- রায়হানা বিনতে যায়েদ। যিনি বনু কুরায়যার যুদ্ধে বন্দিনী হন। আবু ওবায়দাহ আরও দু’জনের কথা বলেছেন। যাদের একজন কোন এক যুদ্ধের বন্দিনী। অন্যজন যয়নব বিনতে জাহশ (রাঃ) কর্তৃক হেবাকৃত।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy