1 Answers
স্পার্ম মরপোলোজি - শুক্রানুর আকার এবং গঠন - পুরুষ বন্ধত্বের জন্য সিমেন এ্যানালাইসিস এর একটি অংশ হল স্পার্ম মরপোলোজি। স্পার্ম মরপোলোজি পরীক্ষা দিয়ে মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে বীর্যে শুক্রানুর হার দেখা হয়। স্বাভাবিক শুক্রানুর মাথা ডিম্বাকার এবং লম্বা লেজ থাকে (দেখেতে অনেকটা বাঙাচির মত)। অস্বাভাবিক শুক্রানুর মাথা অথবা লেজ বিকৃত, যেমন খুব বড় আকৃতির মাথা, ভাংগা অথবা একই শুক্রানুর দুইটি লেজ থাকে। এ সকল অস্বাভাবিকতা হয়ত শুক্রানুর ডিম্বের কাছে যাওয়া ব্যহত করে। যাইহোক, বীর্যে সংখ্যার হার হিসেবে বিশাল অংকের অস্বাভাবিক শুক্রানু থাকা একটি সাধারন বিষয়, এবং এটি নারীর গর্ভধারনের ক্ষেত্রে কোন বড় বিবেচ্ছ্য নয়। বস্তুতঃপক্ষে একজন পুরুষের শুক্রাণু নমুনা স্বাভাবিক বিবেচিত হয়না, যদি না অধিকাংশ শুক্রাণু আকৃতির অস্বাভাবিক পরিসীমায় না হয়। অস্বাভাবিক শুক্রানুর নিষেকে যদি নারী গর্ভধারন করেন তাহলে গর্ভের সন্তান অস্বাভাবিক হবার কোন সম্ভাবনা নেই। শুক্রানুর আকার ছাড়াও স্পার্ম মরপোলোজি দ্বারা শুক্রানুর সংখ্যা এবং এর চলার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। চলার অক্ষমতা এবং স্বল্প সংখ্যক শুক্রানু উপস্থিতি স্বাভাবিক ভাবেই অস্বাভাবিক স্পার্ম মরপোলজিতে দেখা যায় এবং এটা পুরুষ বান্ধত্বের কারনও হতে পারে। যদি বীর্য পরীক্ষায় অস্বাভাবিক স্পার্ম মরপোলজি অথবা অন্য কোন অনিয়ম পাওয়া যায় তাহলে প্রথমতঃ "ওয়েট এন্ড সি" মানে রোগীকে অপেক্ষা করা এবং পুনঃপরীক্ষার জন্য বলা হয়। পরবর্তী পরীক্ষা সাধারনত চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর করা হয় এবং দেখা হয় প্রাকৃতিক ভাবে শুক্রানুতে কোন পরিবর্তন এসেছে কিনা? যদি দ্বিতীয় পরীক্ষায়ও আশানুরুপ ফলাফল পাওয়া না যায় তখন এর কারন উদঘাটনের জন্য অন্যান্য আনুষাঙ্গিক পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শুক্রনুর সমস্যাগুলো জন্মগত এবং তা চিকিৎসা করা অসম্ভব। অন্য ক্ষেত্রে যে সকল কারনে শুক্রানুর সমস্যা তা চিকিৎসার মাধ্যমে শুক্রানুর কোয়ালিটি ইমপ্রুভ হতে পারে। কিছু সাধারন ক্ষেত্রে শুক্রানু অস্থায়ী ভাবে কিংবা স্থায়ীভাবে চিকিৎসা করা যায়। যেমন: অন্ডকোষের ভিতর শিরা-উপশিরার আকার বৃদ্ধির সাহায্যে (varicocele) উচ্চমাত্রায় উষ্ণতা/তাপ এর সাহায্যে। কিছু নির্দ্ধিষ্ট নিষিদ্ধ ঔষধ ব্যবহার করে। সংক্রামন অস্বাভাবিক স্পার্ম মরপোলজি, শুক্রানুর চলমানতা সমস্য অথবা কম সংখ্যায় শুক্রানুর উপস্থিতিতেও হয়তো গর্ভধারন সম্ভব! যাইহোক গর্ভধারন সব সময় সঠিক সময়ে আসেনা। কিছু যুগলের ক্ষেত্রে এর জন্য বছর লেগে যায়। যদি অনেক চেষ্টায়ও আপনি গর্ভধারনে সফল হচ্ছেন না, বর্তমান যুগে প্রজুক্তির বিশাল বিকাশে এ বিষয়ে বেশি চিন্তা না করলেও চলে।