7 Answers
হুম্ম নেওয়া যাবে তবে জিনিস টি যার তার কাছে পৌছে দেওয়ার চেস্টা করতে হবে। টাকা পয়সা হলে মসজিদে দান করে দিতে হবে
যায়দ ইব্নু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ তাঁর বাঁধনের রশি অথবা বললেন, থলে-ঝুলি ভাল করে চিনে রাখ। অতঃপর এক বছর পর্যন্ত তার ঘোষণা দিতে থাক। তারপর (মালিক পাওয়া না গেলে) তুমি তা ব্যবহার কর। অতঃপর যদি এর প্রাপক আসে তবে তাকে তা দিয়ে দেবে। সে বলল , ‘হারানো উটের ব্যাপারে কী করতে হবে?’ এ কথা শুনে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন রাগ করলেন যে, তাঁর গাল দু’টো লাল হয়ে গেল। অথবা বর্ণণাকারী বলেন, তাঁর মুখমন্ডল লাল হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ ‘উট নিয়ে তোমার কী হয়েছে? তার তো আছে পানির মশক ও শক্ত পা। পানির নিকট যেতে পারে এবং গাছ খেতে পারে। কাজেই তাকে ছেড়ে দাও এমন সময়ের মধ্যে তার মালিক তাকে পেয়ে যাবে।’ সে বলল, ‘হারানো ছাগল পাওয়া গেলে?’ তিনি বললেন, ‘সেটি তোমার হবে, নাহলে তোমার ভাইয়ের, না হলে বাঘের।’ সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৯১
না, যদি নিয়েফেলেন তাহলে মালিকের নিকট পৌছে দেওয়া আপনার দায়িত্ব হয়ে যাবে। তাই হাতে না নেওয়াই উত্তম।
কোন জিনিস কুড়িয়ে পাওয়ার পর মনের সংশয় দূর হওয়া পর্যন্ত ঘোষণা করবে। তবে যদি সে জিনিসের মূল্যের পরিমাণ ১০ দিরহাম (বর্তমানে প্রতি তোলা রূপার মূল্য ১২০০/- টাকা হলে ১০ দিরহামের মূল্য দাঁড়ায় ৩,১৫০/- টাকা) বা তার বেশি হলে এক বছর ঘোষণা দেবে। ঘোষণাটি এমন স্থানে হতে হবে, যেখানে ঘোষণা দিলে তা মালিকের কাছে পৌঁছবে বলে প্রবল ধারণা হয়। বিশেষ করে যেখানে পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে ঘোষণা দেয়া উত্তম। কারণ সাধারণত সম্পদ হারানোর পর সম্পদের মালিক সেখানেই খুঁজে থাকে, যেখানে সে তা হারায়। তারপর মানুষের সম্মিলনস্থলে যেমন- বাজার, মসজিদের দরজা; যখন মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হন, তবে মসজিদের ভেতরে ঘোষণা করা বৈধ নয়। কেননা মসজিদ ইবাদতের জন্য তৈরি হয়েছে; কুড়ানো বিষয়ের ঘোষণার জন্য নয়। এরপর যদি দৃঢ় বিশ্বাস হয় মালিক তা আর খুঁজতে আসবে না, তাহলে তা গরিবদের মাঝে সদকা করে দিবে। নিজে গরিব হলে প্রয়োজনে নিজেও ব্যবহার করতে পারবে। তবে যদি কোন সময় মালিক এসে খুঁজে তাহলে তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ৬/৪৪৪, ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া ৯/১৯৩ ) উল্লেখ্য, কুড়িয়ে পাওয়া টাকা/জিনিস কোন মসজিদে দান করা যাবে না। তবে মাদ্রাসার গোরাবা ফান্ডে জমা করে দেয়া যাবে। সূত্র: কোরআনের জ্যোতি
কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস নেওয়া যাবে না। কুড়িয়ে পাওয়া সম্পদকে আরবিতে লোকতা বা লোকাতা বলে। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়, 'কুড়ানো বস্তু' বলতে বোঝায়, এমন সম্পত্তি যা তার মালিক থেকে পড়ে গেছে, আর অন্য কেউ তা কুড়িয়ে নিয়েছে। অথবা এমন বস্তু যা কোনো ব্যক্তি পড়ে থাকতে দেখে কুড়িয়ে নিয়েছে এবং আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, তোমাদের কেউ যখন কোনো কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু কুড়িয়ে নেয় সে যেন তার ওপর দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী রাখে, তারপর সে যেন তা গোপন না করে, পরিবর্তন-পরিবর্ধন না করে, তারপর যদি তার মালিক আসে, তবে সে সেটার অধিকারী, আর যদি না আসে, তবে সেটা আল্লাহর সম্পদ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। (ইবনে হিব্বানঃ ৪৮৯৪)। যে ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির মালামাল কুড়িয়ে পায় এবং মালিককে ফেরত দানের উদ্দেশে নিজের তত্ত্বাবধানে রাখে তাহলে উদ্ধারকারীর ওপর নিম্নোক্ত দায়িত্বগুলো আরোপিত হবে। ১. উদ্ধারকারীর দায়িত্ব হচ্ছে প্রকৃত মালিকের কাছে কুড়ানো বস্তু পৌঁছে দেয়ার জন্য যথোপযুক্ত সময় পর্যন্ত ঘোষণা দিতে থাকা। ২. প্রাপ্ত দ্রব্য সম্পর্কে যথোপযুক্ত যত্ন গ্রহণ করা উদ্ধারকারীর কর্তব্য। অবশ্য যুক্তিসঙ্গত যত্ন নেয়ার পরও দ্রব্যের কোনো ক্ষতি হলে এ জন্য তাকে দায়ী করা যাবে না। ৩. প্রাপ্ত বস্তু আমানত হিসেবে থাকবে যখন উদ্ধারকারী এ মর্মে সাক্ষী রাখবে যে, সে হেফাজত করা এবং মালিককে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য তা উঠিয়ে নিচ্ছে। ৪. যদি বস্তুটির মূল্য কম হয় তাহলে কিছুদিন ঘোষণা দেবে। পক্ষান্তরে বেশি হলে এক বছর ঘোষণা দেবে। আর মালিককে খুঁজে পাওয়া না গেলে তা সদকা করে দেবে। ৫. উদ্ধারকারীর কখনোই উচিত নয় প্রাপ্ত দ্রব্য নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করা। তবে যদি নিরুপায় হয় তাহলে সে শরিয়ত নির্ধারিত পন্থায় ব্যবহার করতে পারবে। ৬. নিজের অনুরূপ দ্রব্যের সঙ্গে কখনোই কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর সঙ্গে মিশ্রণ করা উদ্ধারকারীর উচিত নয়। ৭. উদ্ধারকারী যদি আদালতের নির্দেশ ছাড়া তার রক্ষণাবেক্ষণে অর্থ ব্যয় করে তাহলে সে স্বেচ্ছাদানকারী হবে। ৮. প্রকৃত মালিককে পাওয়ার পর যুক্তিসঙ্গত পারিশ্রমিক প্রাপ্তিসাপেক্ষে ওই দ্রব্য প্রত্যর্পণ করাও উদ্ধারকারীর দায়িত্ব। ৯. কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসের যদি কোনো বৃদ্ধি বা লাভ হয় তবে তাও প্রকৃত মালিককে প্রদান করতে হবে। ১০. কুড়ানো বস্তু বিক্রি করা হলে নিজ পাওনা বাদে অবশিষ্ট অর্থ প্রকৃত মালিককে দিতে হবে। (হেদায়া)। যদি বস্তুটির মূল্য ১০ দিরহামের কম হয়, তাহলে কয়েকদিন ঘোষণা দেবে (এখানে কয়েক দিন অর্থ আদালত যে কয় দিন সমীচীন মনে করেন) অথবা ব্যক্তি তার বিবেক অনুসারে তা যথেষ্ট মনে করে। (মারগিনানী, হিদায়াঃ ২/৪১৭।) পক্ষান্তরে ১০ দিরহাম বা তার বেশি হলে এক বছর ঘোষণা দেবে। তবে কুড়ানো বস্তু সংক্রান্ত ঘোষণাটি এমন স্থানে হতে হবে, যেখানে ঘোষণা দিলে তা মালিকের কাছে পৌঁছবে বলে সমূহ ধারণা হয়। বিশেষ করে যেখানে বস্তুটি কুড়িয়ে পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে ঘোষণা দেয়া উত্তম। কারণ সাধারণত সম্পদ হারানোর পর সম্পদের মালিক সেখানেই খুঁজে থাকে, যেখানে সে তা হারায়। তারপর মানুষের সম্মিলনস্থলে যেমন, বাজার, মসজিদের দরজা; যখন মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হন, তবে মসজিদের ভেতরে ঘোষণা করা বৈধ নয়। কেননা মসজিদ ইবাদতের জন্য তৈরি হয়েছে; কুড়ানো বিষয়ের ঘোষণার জন্য নয়। আর যদি মরুভূমি বা বিস্তীর্ণ মাঠে কোনো বস্তু পাওয়া যায় তবে তা নিকটস্থ লোকালয়ে প্রচার ও ঘোষণা করতে হবে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy