2 Answers

এমন হলে নামাজ ছেরে দিতে হবে।কারন ওযু ছাড়া নামাজ পড়া কুফরি।তবে খেয়াল রাখতে হবে জামায়াতে ওযু ভঙ্গ হলে কারো সামনে দিয়ে হাটা যাবেনা,নিজ স্থানে বসে থাকতে হবে,তারপর জামায়াত শেষ হলে পুনরায় ওযু করে নামায অাদায় করতে হবে।

2780 views

মসজিদে জামায়াত চলাকালীন সময়ে যদি কোন মুসল্লীর বায়ু নির্গত হয় তখন তার করনীয় হচ্ছে অযু করে এসে নামায আদায় করা। কেননা হাদিসে এসেছে, মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন অযু বিনষ্ট হওয়ার পর অযু না করা পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদের কারো সালাত কবূল করবেন না। (সূনান তিরমিজী, হাদিস নম্বরঃ ৭৬ আবু দাউদঃ ৫৪, হাদিসের মানঃ সহিহ)। তবে নামাযরত অবস্থায় অযু ভেঙ্গে গেলে পুনরায় অযু করার পর কি প্রথম থেকে সালাত আদায় করবে না কি যেখানে অযু নষ্ট হয়েছিলে সেখান থেকে পূর্ণ করবে এ বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। জুমহুর বা অধিকাংশ ইমাম, যেমন ইমাম মালেক, শাফেঈ, আহমদ বিন হাম্বল (রহঃ) প্রমুখ ইমামগণ বলেন, এ ক্ষেত্রে করণীয় হল, তৎক্ষণাৎ নামায ছেড়ে বেরিয়ে এসে অযু করার পর পুনরায় প্রথম থেকে সালাত আদায় করা। পক্ষান্তরে ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এবং শাফেঈ এর প্রাচীন অভিমত অনুযায়ী, অযু করার পর বাকিটুকু আদায় করাই যথেষ্ট। প্রথম থেকে আদায় করার প্রয়োজন নাই। কারণ যেহেতু ১ম অংশটুকু সে অযু অবস্থায় আদায় করেছিলো। তারা তাদের মতের পক্ষে নিম্নোক্ত হাদিস দ্বারা দলীল পেশ করেন, আয়েশা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তির বমি হয়, নাক দিয়ে রক্ত পড়ে ও ভক্ষিত খাদ্য বস্তু মুখ পর্যন্ত চলে আসে কিংবা মযী নিৰ্গত হয় সে যেন (সালাত ছেড়ে) অযু করে নেয় এবং (এর মধ্যে কারো সাথে) কোন কথা না বলে; তাহলে সে সালাতের বাকি অংশ সমাধান করে নিবে। (ইবনে মাজাহ, আহমাদ প্রমুখ একে যঈফ বলেছেন। যঈফ ইবনে মাজাহঃ ১২২১) ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) বুলুগুল মারাম গ্রন্থে এ হাদিসটি যঈফ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এ মর্মে বর্ণিত হাদিসগুলো সহীহ-যঈফ হওয়ার কারণে সম্মানিত ফকীহদের মতামতে দ্বিমত সৃষ্টি হয়েছে। সালমান ফারসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে কারো যদি নামাজে অযু ছুটে যায় তাহলে সে যেন বের হয়ে অযু করে আসে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাঃ ৫৯৫৪) অযু করে ফিরে এসে ইমামের সঙ্গে নামাযে যোগদান করবে। ইমামের সালাম ফিরানোর পর সে উঠে দাঁড়িয়ে বাকি নামায যথারীতি আদায় করবে। অযু করে ফিরে আসতে আসতে যদি ইমামের নামায শেষ হয়ে যায়, তবে সে একাকি অবশিষ্ট নামায আদায় করবে। তবে শর্ত হচ্ছে এ সময় কোনো প্রকার কথা বলা যাবে না। কথা বললে পূর্ণ নামায আদায় করতে হবে।

2780 views

Related Questions