দাজ্জালের ফেৎনার চেয়ে বড় কোনো ফেৎনা আছে কি?
3 Answers
মানব জাতির জন্যে দাজ্জালের চেয়ে অধিক বড় বিপদ বা ফিতনা আর নেই। তাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের ফিতনা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালাতে দাজ্জালের ফিতনা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। (সহীহ বুখারী হাদিস নম্বরঃ ৮৩৩ হাদিসের মানঃ সহিহ)। দাজ্জালের ফিতনা ছাড়াও রাসুল (সাঃ) আরো বেশি ভয় করতেন! উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর স্ত্রী আয়িশা (রাঃ) তাঁকে বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে এই বলে দুআ করতেনঃ কবরের আযাব হতে, মাসীহে দাজ্জালের ফিতনা হতে এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিত্না হতে ইয়া আল্লাহ! আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! গুনাহ ও ঋণগ্রস্ততা হতে আপনার নিকট আশ্রয় চাই। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, আপনি কতই না ঋণগ্রস্ততা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যখন কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখন কথা বলার সময় মিথ্যা বলে এবং ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে। (সহীহ বুখারী হাদিস নম্বরঃ ৮৩২ হাদিসের মানঃ সহিহ)। জনাব! বর্তমানে আমার মতে উম্মতের বড় ফিতনা হচ্ছে মাল। কাব ইবনে ইয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফিতনা রয়েছে এবং আমার উম্মতের ফিতনা হচ্ছে মাল। (রিয়াযুস স্বা-লিহীন, হাদিস নম্বরঃ ৪৮৫ তিরমিযী ২৩৩৬, আহমাদ ১৭০১৭ হাদিসের মানঃ হাসান)।
একেক দৃষ্টিকোণ হতে একেকটি বড় ফেতনা, যেমন রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন _ মহিলাদের চেয়ে বড় কোন ফোতনার বস্তু রেখে যাইনি। অনুরূপ দাজ্জালের ফেতনা।
রাসূল (সঃ) দজ্জালের ফেতনার চাইতেও বিপথগামী এবং পথভ্রষ্ট আলেম উম্মতের জন্য বেশি ভয় পেতেন। “রাসুল (সঃ) বলেন, আমি আমার উম্মতের জন্য একটি বিষয়কে দাজ্জাল এর থেকেও বেশি ভয় করি। (একজন সাহাবী বললেন), আমি ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! সেটি কী? তিনি বললেন, বিপথগামী এবং পথভ্রষ্ট আলেম।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২১৬২১) (তাবরানী, হাদীস নং ৭৬৫৩) অপর এক বর্ণনায় এসেছে - “হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, শেষ যুগে কিছু সংখ্যক প্রতারক ও মিথ্যাবাদী আলেম লোকের আবির্ভাব ঘটবে। তারা তোমাদের কাছে এমন সব হাদীস বর্ণনা করবে যা কখনো তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা শোননি। সুতরাং, তাদের থেকে সাবধান থাকবে এবং তাদেরকে তোমাদের থেকে দূরে রাখবে। তারা যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করতে পারে এবং তোমাদেরকে ফিতনায় না ফেলতে পারে।” (সহীহ মুসলিম, ভূমিকা পর্ব (المقدمة), হাদিস নং ৭)