3 Answers

অমুসলিমদেরকে সালাম দেওয়া যাবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা ইহূদী ও নাছারাদেরকে প্রথমে সালাম দিবে না’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৬৩৫)। তবে যদি তারা সালাম দেয় তবে শুধু ‘ওয়াআলাইকুম’(আপনার উপরেও) বলে উত্তর দিতে হবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৬৩৭)।

সাধারণভাবে অমুসলিমদের প্রতি শিষ্টাচার মূলক সম্ভাষণ করা যাবে। যেমন ‘আদাব’ অর্থাৎ ‘আমি আপনার প্রতি শিষ্টাচার প্রদর্শন করছি’। কিন্তু ইসলামী আক্বীদা ও আমল বিরোধী কিছু বলা বা করা যাবে না। যেমন কোন হিন্দুকে ‘নমস্কার’ বলা যাবে না। কেননা এর অর্থ ‘আমি আপনার সামনে মাথা ঝুঁকাচ্ছি। আপনি কবুল করুন’। অমনিভাবে ‘নমস্তে’ বলা যাবে না। কেননা এর অর্থ ‘আমি আপনার সামনে ঝুঁকছি’। (from Monthly At-tahreek)
4481 views Answered

এতু টুকু বলা যাবে যে আদাব

4481 views Answered

ভাই সালাম ইসলামের সৌন্দর্য, সালাম হচ্ছে একজন মুসলিম ভাইয়ের উপর অপর মুসলিম ভাইয়ের হক ও অধিকার। সুতরাং সালাম শুধু এক মুসলিম ভাই আরেক মুসলিম ভাইকেই দিতে পারবে। কোনো অমুসলিমকে সালাম দেওয়া যাবে না।


অমুসলিমকে সালাম না বরং উত্তমরূপে  কুশল বিনিময় করতে হবে। তারপর ও অপরিচিত লোক অমুসলিম হলে ও তাকে সালাম দেয়া যায়। 


তাছাড়া আপনারা তো আল্লাহকেই বিশ্বাস করেননা ভাই , সেখানে আপনাকে  আল্লাহর নাম দিয়ে  তথা সালাম দেয়া ও তো মূর্খামি। 


দেখুন ‘আস-সালামু আলাইকুম’  অর্থ কি আসে ,


আস-সালাম’ শব্দটি আল্লাহ্ তা’আলার উত্তম নামসমূহের অন্যতম। যার অর্থ শান্তি ও নিরাপত্তার আধার। বান্দা যখন এ কথা বলে তখন সে তার ভাইয়ের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও হেফাযত কামনা করে। 


সে হিসেবে ‘আস-সালামু আলাইকুম’ এর অর্থ, ‘আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সংরক্ষক। 



------ অমুসলিমদের অধিকার দেখুন -----



এমর্মে আল্লাহ তাআলা বলেন,


 لَّا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ أَن تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ – إِنَّمَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ قَاتَلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَأَخْرَجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ وَظَاهَرُوا عَلَىٰ إِخْرَاجِكُمْ أَن تَوَلَّوْهُمْ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُمْ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ


যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বহিষ্কার করে নি, তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে ও তাদের প্রতি ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালোবাসেন। আল্লাহ  তো তোমাদের তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং তোমাদেরকে বের করার কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে তারা জালিম। (সূরা মুমতাহিনা : ৮-৯)



তোমরা মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থেকো, যদিও সে কাফির অমুসলিম  হয়। তার মাঝখানে আর আল্লাহর মাঝখানে কোনো পর্দা নেই (অর্থাৎ তার বদদোয়া দ্রুত কবুল হয়ে যায়)।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১২৫৭৭)



------ অমুসলিমদের অধিকার 

তারপর ও কুরআন থেকে যা পেলাম এখন। সালাম অমুসলিমকে ও দেয়া যায় কিন্তু অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ বলেন না দিতে। 


 ‘যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিম নাগরিককে হত্যা করল, সে জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না, অথচ তার সুগন্ধি ৪০ বছরের রাস্তার দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।’ (বুখারি, হাদিস : ৩১৬৬)।


আবু বাকারা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোনো অমুসলিম নাগরিককে হত্যা করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।’ (মুসনাদে আহমদ : ২০৬৪৮)


আসমা বিনতে আবি বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার মা আমার কাছে এলেন রাসুলের যুগে মুশরিক অবস্থায়। তখন আমি রাসুল (সা.) থেকে ফাতওয়া তালাশ করে বললাম, আমার মা এসেছে, তিনি ইসলাম ধর্মবিমুখ। আমি কি তাঁর আত্মীয়তা রক্ষা করব? তখন তিনি বলেন, হ্যাঁ, তাঁর সঙ্গে আত্মীয়তা রক্ষা করো। (বুখারি, হাদিস : ২৬২০)



অমুসলিমদের দান-সদকা করার বিধান : সদকা শব্দটি সাধারণত নফল দান-অনুদান বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। সেই অর্থে যেকোনো অমুসলিমকে দান করা সব আলেমের ঐকমত্যে বৈধ। অমুসলিম প্রতিবেশী আক্রান্ত হলে, তারা বিপদগ্রস্ত হলে মুসলমানদের উচিত তাদের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া।


যদি কারো প্রতিবেশী কিংবা কোনো আত্মীয় অমুসলিম হয়, ইসলামের নির্দেশনা হলো—তার সঙ্গেও প্রতিবেশী বা আত্মীয়তার অধিকার রক্ষা করে চলতে হবে।


আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন তার আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬১৩৮)


ইত্যাদি ইত্যাদি 


4481 views Answered

Related Questions

Next steps