1 Answers
নিচে উল্লিখিত নিয়মগুলো অনুসরণ করে সাধু ভাষাকে চলিত ভাষায় রূপান্তরিত করা যায়: ১। ই-স্বরধ্বনির লোপ: ক্রিয়াপদের মধ্যে ই-স্বরধ্বনি থাকলে চলিত রীতিতে ই-স্বরধ্বনি লোপ পায়। যেমন—খাইব>খাব, আসিবে>আসবে। ২। উ-স্বরধ্বনির লোপ: চলিত রীতিতে উ-স্বরধ্বনি লোপ পায়। যেমন—হউক>হোক, থাউক>থাক। ৩। হ-কারের লোপ: চলিত ভাষায় রূপান্তরের সময় পদের মধ্যে হ-কারের লোপ হয়। যেমন—তাহা>তা, যাহা>যা। ৪। উ-ধ্বনির পরিবর্তন: পদের শেষে অ-আ স্বরধ্বনি থাকলে চলিতরীতিতে পূর্ববর্তী উ-স্বরধ্বনি ও-ধ্বনিতে পরিবর্তিত হয়। যেমন—শুন>শোন উঠে>ওঠে। ৫। আ-ধ্বনির পরিবর্তন: পূর্ববর্তী ই-ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী অক্ষরের আ-ধ্বনি এ-ধ্বনিতে পরিবর্তিত হয়। যেমন—গিয়া>গিয়ে মিঠা>মিঠে। ৬। অপিনিহিতি, অভিশ্রুতি ও স্বরসংগতির প্রভাবে পরিবর্তন: অপিনিহিত, অভিশ্রুতি ও স্বরসংগতির প্রভাবে সাধুরীতির পরিবর্তন ঘটে। যেমন—করিয়া>করে, ছুটিয়া>ছুটে। উদাহরণ: সাধুরীতি: দেখিলাম, এই সতেরো বছরের মেয়েটির ওপরে যৌবনের সমস্ত আলো আসিয়া পড়িয়াছে, কিন্তু এখনো কৈশোরের কোল হইতে সে জাগিয়া উঠে নাই। ঠিক যেন শৈলচূড়ার বরফের উপর সকালের আলো ঠিকরিয়া পড়িয়াছে, কিন্তু বরফ এখনো গলিল না। আমি জানি, কী অকলঙ্ক শুভ্র সে! চলিতরীতি: দেখলাম, এ সতেরো বছরের মেয়েটির ওপরে যৌবনের সমস্ত আলো এসে পড়েছে, কিন্তু এখনো কৈশোরের কোল থেকে সে জেগে ওঠেনি। ঠিক যেন শৈলচূড়ার বরফের ওপর সকালের আলো ঠিকরে পড়েছে, কিন্তু বরফ এখনো গলল না। আমি জানি, কী অকলঙ্ক শুভ্র সে!