1 Answers

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন: সম্ভাবনা ও সমস্যা

ভূমিকা
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ যা অতি দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। কৃষি, শিল্প, রপ্তানি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উন্নয়ন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। তবে, এর পাশাপাশি রয়েছে কিছু সমস্যা যা অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করছে। এই রচনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা এবং সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো।


সম্ভাবনা

১. কৃষি খাতের উন্নয়ন
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উপকরণের সহজলভ্যতা কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। ফলে কৃষি উৎপাদন বেড়েছে এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে।

২. রপ্তানি খাতের বিস্তৃতি
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বিশ্বব্যাপী একটি প্রধান রপ্তানি খাত। এ ছাড়াও পাট, চামড়া, হিমায়িত মাছ এবং আইটি খাতের সেবা রপ্তানি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।

৩. বিদেশি রেমিট্যান্স
বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

৪. তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রগতি
তথ্যপ্রযুক্তি খাত বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। ফ্রিল্যান্সিং, সফটওয়্যার রপ্তানি এবং আইটি পণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

৫. বিশাল যুবশক্তি
বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ হলো যুবসমাজ, যা দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে দেশের উন্নয়ন দ্রুততর হবে।

৬. অবকাঠামো উন্নয়ন
পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের মতো অবকাঠামো প্রকল্প দেশের অর্থনীতির সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করছে।


সমস্যা

৭. দারিদ্র্য ও বৈষম্য
বাংলাদেশে এখনও একটি বড় অংশের মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রধান বাধা।

৮. দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাব
দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক জটিলতা অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিলম্বিত করে। এটি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৯. বেকারত্ব
যুবশক্তি থাকা সত্ত্বেও কর্মসংস্থানের অভাব বেকারত্বের সমস্যা সৃষ্টি করছে। এটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ধীর করে।

১০. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রায়শই ক্ষতিগ্রস্ত করে।

১১. পরিবেশগত সমস্যা
অপরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং পরিবেশ দূষণ দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে হুমকি তৈরি করছে।


উপসংহার
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভাবনাময় হলেও সমস্যাগুলো দূর করা জরুরি। দক্ষ নেতৃত্ব, সুশাসন এবং যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব। দেশের বিপুল যুবশক্তি, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং নতুন প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার অর্থনৈতিক উন্নয়নকে টেকসই করতে পারে। তাই সবাই মিলে কাজ করলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্ব দরবারে একটি উদাহরণ হয়ে উঠবে।

8 views

Related Questions

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার তিন বছর ধরে ৭ শতাংশের ওপরে যা নিয়ে দেশের নীতিনির্ধারকসহ বিভিন্ন মহল স্বাভাবিকভাবেই বেশ উচ্ছ্বসিত। এই উচ্ছ্বাসে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে এইচএসবিসি গ্লোবাল রিসার্চের হালনাগাদ একটি প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদন অনুসারে ২০৩০ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৬তম অর্থনীতির দেশ, এখন যে অবস্থানে আছে অস্ট্রিয়া । কিন্তু জিডিপি প্রবৃদ্ধির উচ্চ হারই শেষ কথা নয়, নয় একমাত্র অভীষ্ট। এটি অর্থনীতির আকার বা পরিমাণ নির্দেশ করে মাত্র। বরং নীতিনির্ধারক মহলের কাছে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধির গুণগত দিকটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শুধু উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি বিশ্বের বহু দেশেই গরিবি যথেষ্ট কমাতে পারেনি, পারেনি সমাজে আয়বৈষম্য কমাতে, বরং তা বাড়িয়েছে। আসলে গরিবি কমা বা আগের তুলনায় বেশি মানুষের উন্নততর জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া নির্ভর করে প্রবৃদ্ধির বণ্টনের ওপর। বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধি এখনো সম্পদের সুসম বা ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে পারেনি, তা বিভিন্নভাবে সমাজে প্রতিফলিত হয়। (Translate into English)
1 Answers 6 Views
বাংলাদেশ অমিত সম্ভাবনার দেশ। গত বিশ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ৪.৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭.৮ শতাংশের অধিক হয়েছে। একই সময়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২.০ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ১.২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দুটো উপাদান বাংলাদেশের অর্থনীতির দ্রুত প্রবৃদ্ধি ও ব্যাপক দারিদ্রা হ্রাসের পেছনে প্রধান চালিকাশক্তির কাজ করেছে। একটি হলো রপ্তানি আয়ের অব্যাহত প্রবৃদ্ধি; আরেকটি হলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়ের ব্যাপক প্রবাহ। উল্লেখ্য বাংলাদেশ গত দশ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স পেয়েছে। বিশ্বের নীতিনির্ধারকগণ বাংলাদেশকে তাই দ্রুততর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দেশের সারিতে বিবেচনা করেন। (Translate into English)
1 Answers 4 Views