1 Answers

ফসলের পৃথকীকরণ দূরত্ব বলতে একই প্রজাতির বা নিকটবর্তী প্রজাতির ভিন্ন ভিন্ন জাতের ফসলের ক্ষেতের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা বোঝায়। এটি মূলত ক্রস-পরাগায়ণ (cross-pollination) এড়ানোর জন্য ব্যবহৃত একটি ব্যবস্থা, যাতে এক জাতের ফসলের ফুলের পরাগরেণ অন্য জাতের ফুলের সাথে মিলিত না হয়।

বীজ উৎপাদনে পৃথকীকরণ দূরত্বের গুরুত্ব:

জাতের বিশুদ্ধতা বজায় রাখা:

  • বীজ উৎপাদনে ফসলের পৃথকীকরণ দূরত্ব বজায় রাখা খুবই জরুরি, কারণ যদি দুটি ভিন্ন জাতের ফসল কাছাকাছি অবস্থান করে, তাহলে ক্রস-পরাগায়ণের মাধ্যমে এক জাতের ফুলের পরাগ অন্য জাতের সাথে মিশে যেতে পারে। এর ফলে উৎপাদিত বীজের জাত বিশুদ্ধ থাকবে না।

ফসলের উৎপাদনশীলতা ও গুণগত মান বজায় রাখা:

  • পৃথকীকরণ দূরত্ব বজায় রাখার ফলে ফসলের গুণগত মান বজায় থাকে। ফসলের ফলনশীলতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অবিকৃত থাকে, যা শুদ্ধ জাতের ফসল উৎপাদনে সহায়তা করে।

জেনেটিক বৈশিষ্ট্য রক্ষা:

  • ফসলের পৃথকীকরণ দূরত্ব না থাকলে পরাগায়ণের মাধ্যমে একটি জাতের সাথে অন্য জাতের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য মিশে যেতে পারে। এতে এক জাতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য যেমন, উচ্চ ফলন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, অথবা নির্দিষ্ট আকারের ফল পাওয়ার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধ:

  • যদি দুটি ভিন্ন প্রজাতির ফসল কাছাকাছি চাষ করা হয়, তবে এক প্রজাতির রোগ বা পোকামাকড় সহজেই অন্য প্রজাতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পৃথকীকরণ দূরত্ব বজায় রাখলে এই ধরনের ঝুঁকি কমে যায় এবং ফসল সুস্থ থাকে।
9 views

Related Questions