1 Answers

                                                                                                                        উন্নত দেশের জন্য চাই সোনার মানুষ

আমরা অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা উন্নত হয়েছি। কিন্তু আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ, দেশ ও মানুষের সহমর্মিতা, সমবণ্টন এ পর্যায়ে এখনও আসেনি। জনগণের সমান অধিকার, সকল সুযোগ-সুবিধা, ন্যায্য বিচার আমরা এখনও দিতে পারিনি। এ জন্য আরও সোনার মানুষ দরকার। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, সোনার দেশ গড়তে হলে সোনার মানুষ দরকার, আমরা সেই সোনার মানুষ চাই।' আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ পেয়েছি। বিশ্বে আমাদের পরিচিতি বেড়েছে, আমরা অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা উন্নতও হয়েছি। কিন্তু আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ, দেশ ও মানুষের সহমর্মিতা, সমবণ্টন এ পর্যায়ে এখনও আসেনি। এ জন্য আরও সোনার মানুষ প্রয়োজন। আর সেই সোনার মানুষের বা সুনাগরিকের কিছু কতব্য হলোঃ নাগরিকের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত্য প্রকাশ করা। অর্থাৎ রাষ্ট্রের নির্দেশ মেনে চলা। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য প্রত্যেক নাগরিককে সর্বদা সজাগ এবং চরম ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। 

রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন এবং সংবিধান মেনে চলা এবং আইনের প্রতি সম্মান দেখানো নাগরিকদের অন্যতম দায়িত্ব। কেউ আইন অমান্য করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। স্বাভাবিক জীবনের ব্যাঘাত ঘটে। তাই সুষ্ঠু জীবনযাপন, শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে আইন মেনে চলতে হবে। সততা ও সুবিবেচনার সাথে ভোট দেওয়া নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য। এর ফলে যোগ্য ও উপযুক্ত প্রার্থী জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবে। অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ প্রার্থীকে ভোটদানে বিরত থাকা উচিত। রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান উৎস নাগরিকদের প্রদেয় কর ও খাজনা, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক, প্রতিরক্ষা এবং উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদনের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। নাগরিকদের যথাসময়ে কর প্রদান করে রাষ্ট্রীয় কাজে সহযোগিতা করতে হবে। রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা নাগরিকের কর্তব্য। সরকারের গৃহীত কোনো কাজ মানে হলো জনগণের কাজ। সরকারি কর্মকর্তা তদুপরি নাগরিকদের সততা ও কাজে একাগ্রতা ও নিষ্ঠার উপর সরকারের সফলতা, উন্নতি ও অগ্রগতি নির্ভর করে। 

প্রতিটি শিশুই রাষ্ট্রের নাগরিক। পিতামাতা তার অভিভাবক হিসেবে কাজ করেন। তাই সন্তানদের জীবনরক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রতিষেধক টীকাদান, সুস্থসবল রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে পাঠানো পিতামাতার দায়িত্ব। এতে করে সন্তান সুশিক্ষিত হয়ে সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে অবদান রাখবে। 

প্রত্যেক নাগরিককেই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থাকতে হবে। নিজস্ব সংস্কৃতি, রাষ্ট্রীয় অর্জন ও সফলতা এবং সবসময় দেশের মঙ্গল কামনা করা নাগরিকদের কর্তব্য। জাতীয় সংগীত, জাতীয় ইতিহাস, জাতীয় বীর ও মনীষীদের অবদানকে স্মরণ করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিককে একে অপরকে সহ্য করার ক্ষমতা থাকতে হবে। ভিন্নমতকে মূল্যায়ন করা এবং সম্মান করার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংহতি অর্জন করা সম্ভব। এটা প্রত্যেককেই বিশ্বাস করতে হবে যে বৈচিত্র্যের মধ্যেই সৌন্দর্য নিহিত। প্রত্যেক নাগরিককেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের এমনকি রাষ্ট্রের বেআইনী কোন কাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো নাগরিকদের নৈতিক দায়িত্ব। তবে কোনক্রমেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না। তাহলেই সুশাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে। আর এভাবেই সোনার মানুষের মাধ্যমে দেশ উন্নত দেশের কাতারে প্রতিষ্ঠিত হবে।

4 views

Related Questions

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল ও সুসংগঠিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফ্টওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। দিন দিন আমাদের দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বেড়েই চলেছে। এই ইন্টারনেট সবাই যাতে ইতিবাচক হিসেবে ব্যবহার করে, সে ক্ষেত্রে বেসিস অসামান্য ভূমিকা পালন করতে পারে। সম্প্রতি দেশের মুঠোফোন অপারেটরগুলো ফোরজির লাইসেন্স পেয়েছে। এটা আমাদের দেশের তথ্যপ্রযুক্তির জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কারণ, ইন্টারনেটের ধীরগতি এটা ব্যবহার করতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি করত। দেশের সর্বত্র সবার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির আলো ছড়িয়ে দিতে একটি সুসংগঠিত সংঘঠন হিসেবে বেসিসকে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে। (Bangla to English)
1 Answers 6 Views
আমরাজানি, কোভিত-১৯ মহামারির সময়েতথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক লেনদেন আমাদের সহযোদ্ধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবেসাধারণ মানুষ যথেষ্ট প্রযুক্তিবান্ধব না হওয়ার কারণেপ্রাথমিক পর্যায়ে অসুবিধা হয়েছে অনেকের। এ সময় প্রযুক্তিরসঙ্গে পরিচিত হতে বাধ্য হয়েছিআমরা। অনেক নারী পুরুষএখন তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক লেনদেন করছেন। এ পরিবর্তনের সুফলপেতে শুরু করেছে দেশেরব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।ব্যাপকহারে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ব্যাংকব্যাবসা ভাল হবে। তবেতার জন্য দরকার প্রয়োজনীয়ও সঠিক অবকাঠামো এবংদক্ষ জনবল। আর এ বিষয়টিনিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন সঠিক নেতৃত্ব। আমরা যদি এখনতথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ায় টিকে থাকা কঠিন হবে। তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক রূপান্তরের সুবিধা পাবে দেশের সাধারনমানুষ। (Translation [Bangla to English])
1 Answers 6 Views