1 Answers

                                                                                                                  বাংলাদেশে একুশ শতকের ব্যাংকিং সেবা

ঐতিহ্যগতভাবে ব্যাংকিং একটি প্রাচীন পেশা যা সভ্যতা সৃষ্টির পর থেকেই চলে আসছে। ইউরোপের ইংল্যাহ্ এশিয়ার চীন কিংবা সেবার বিভিন্ন যার তত সমৃদ্ধ হচ্ছে। ব্যাংকিং সেবার এই আমূল পরিবর্তন এই একুশ শতকে এসে আমরা ভোগ করছি। এই একুশ শতকে এসে আমরা ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা উপভোগ করছি। ব্যাংকিং সেবায় যে পরিবর্তনগুলো এসেছে তা মূলত ঘটেছে লেনদেনের ক্ষেত্রে Digitalization এর করণে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, নরওয়ে বা ডেনমার্কের মতো দেশগুলোতে প্রতি পাঁচটি লেনদেনের চারটিতেই নগদ অ (Liquid) ব্যবহার করা হয় না। ব্লুমবার্গের New Economic Form Survey অনুযায়ী বিশ্ব জুড়েই নগদ অর্থের ব্যবহার কমে যাওয়ার হিড়িক পড়েছে। আর এই কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম নিজেদের ডিজিটাল জীবনযাত্রার সাথে নিজেদের অর্থনৈতিক লেনদেনকে মেলাতে চায়। তরুণ প্রজন্মের এই চাহিদার কাছেই হেরে যাচ্ছে Liquid Money. 

কাজেই একুশ শতকের ব্যাংকিং কার্যক্রমকে নিম্নোক্ত কারণে গতানুগতিক ব্যাংকিং কার্যক্রম হতে আলাদা করা যায়ঃ ১) নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি নেই; (২) অর্থের দ্রুত ও নিরাপদ হস্তান্তর; (৩) আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় সাশ্রয়; (৪) লেনদেনের প্রতিটি ধাপ চিহ্নিত; (৫) অপরাধমূলক কার্যক্রমে অর্থায়ন বন্ধ । বাংলাদেশে একুশ শতকের ব্যাংকিং সেবার কিছু উপাদান হলো ATM কার্ড, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, হোম ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, SMS ব্যাংকিং সহ নানা ধরনের অত্যাধুনিক সেবাই একুশ শতকের ব্যাংকিং সেবার প্রধান বৈশিষ্ট্য। 

Automated Teller Machine (ATM) বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় সেবা প্রদানকারী অনুষঙ্গ। এটি একটি প্লাস্টিক কার্ড যা চব্বিশ ঘণ্টাই নগদ কমা ও উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত হয়। ATM কার্ড থাকার কারণে এখন ৩৬৫ দিনের যেকোন সময় টাকা উত্তোলন করা যায়। স্বাক্ষর মিল-অমিলের ঝামেলা নেই, ঝামেলা নেই ভীড়ের মধ্যে লাইনে দাঁড়ানোর। এটি সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় করে। 

গ্রাহক তার একাউন্টে টাকা না থাকা সত্ত্বে যে কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলন করতে পারেন বা শপিংমল থেকে শপিং করতে পারেন-সেই কার্ডের নাম ক্রেডিট কার্ড। তবে এক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃক গ্রাহককে টাকা উত্তোলনের একটি নির্দিষ্ট সীমা দেয়া থাকে। 

ব্যাংক একাউন্টের ব্যালেন্স জানার জন্য এখন আর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখায় যেতে হয় না। বরং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখায় মোবাইল নম্বর Registration করে SMS ব্যাংকিং সেবার আওতায় যখন তখন একাউন্ট ব্যালেন্স ও স্টেটমেন্ট পাওয়া যায়। এই সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে শাখার গ্রাহক সেবার মান উন্নত করা সম্ভব হয়েছে। Automated Clearing House আরেকটি আলোড়ন সৃষ্টি কারী ব্যাংকিং সেবার নাম। এই নেটওয়ার্কের আওতায় এখন কেন্দ্রীয়ভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে Clearing সম্পন্ন হয়ে থাকে। এই সেবার অতিতায় গ্রাহকরা একদিনেই তার চেক তার ব্যাংকের যেকোন শাখায় মাধ্যমে Clearing করিয়ে অর্থ উত্তোলন করতে পারেন। এই কাজটি পূর্বে করতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লাগত।  কিন্তু এই অটোমেটেড হাউজ ব্যাংকিং ক্ষেত্রে ইত্যাদি অগ্রগতি সাধন করেছে।

আন্তঃব্যাংক লেনদেনের ক্ষেত্রে যে সেবাটি সবচেয়ে বেশি সাড়া জাগিয়েছে তা হলো Electronic Fund Transfer Network. এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোন ব্যাংক অন্য যে কোন ব্যাংকের যে কোন শাখায় যে কোন একাউন্টে অর্থ জমা ও উত্তোলন করতে পারে। এটি মূলত কর্পোরেট গ্রাহকদের শতশত কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেয়া, রেমিটেন্স নির্দিষ্ট গ্রাহকের একাউন্টে জমা হওয়া খুবই সহজ হয়েছে এই সেবার মাধ্যমে। মোবাইল ব্যাংকিং এমন একটি শাখাবিহীন ডিজিটাল ব্যাংকিং সিস্টেম যার মাধ্যমে স্বল্প খরচে দক্ষতার সাথে মানুষের সাথে ব্যাংকিং করা যায়। ব্যাংকিং সুবিধা বঞ্চিত মানুষের দোড়গোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর মোক্ষম অস্ত্র হলো মোবাইল ব্যাংকিং । 

মোবাইল ব্যাংকিং সেবার আওতায় রয়েছে অর্থ প্রেরণ, অর্থ গ্রহণ, নগদ জমা বা উত্তোলন, এক একাউন্ট হতে অন্য একাউন্টে টাকা প্রেরণ, ব্যালেন্স জানা, বেতন ভাতা প্রেরণ ও গ্রহণ, মোবাইল টপ-আপ (রিচার্জ), পণ্য ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদি। যেকোন মোবাইল ফোন ও সিম ব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট খোলা যায়। E-banking হলো ব্যাংকিং সেবার নতুন দ্বার যার মাধ্যমে দ্রুততা ও নির্ভুলতা নিশ্চিতপূর্বক ব্যাংক Client দেরকে কাম্য সেবা প্রদান সহ পারস্পরিক যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হয়। গ্রাহকদের দ্রুত ও সঠিক সেবা প্রদান, দৈনন্দিন ব্যাংকিং ব্যয় হ্রাস করা, কাগজে লেনদেন কমানো, তথ্যাবলী যথার্থভাবে সংরক্ষণ করা, সবুজ ব্যাংকিং সফলকরণ, আন্তঃব্যাকিং লেনদেন নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা সর্বোপরি ব্যাংকিং সেবা প্রদান প্রকিয়াকে সহজীকরণ ইত্যাদি উদ্দেশ্যে ব্যাংকিং হয়ে থাকে। সর্বোপরি, একুশ শতকের আধুনিক ব্যাংকিং সেবা বর্তমান ব্যাংকিং সেবাকে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে যেখানে আধুনিক সেবা সংবলিত সকল সুবিধাই রয়েছে। অবশ্য এই ব্যাংকিং সেবার অতি আধুনিকীকরণের জন্য বেশ কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বেশ বেড়ে গিয়েছে।

4 views

Related Questions

যুদ্ধ, নিপীড়ন, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে বাঁচতে আজ সারা বিশ্বে ৮ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত। বাস্তুচ্যুত মানুষের এ সংখ্যাা বাংলাদেশের জনসংখ্যা র প্রায় অর্ধেক । সারা বিশ্বের বাস্তুচ্যুতির প্রধান পাঁচটি উৎসদেশের একটি হচে।ছ মায়নমার। সেখান থেকে ২০১৭ সালে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় দেয়। এই শরণার্থীরা তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়: কিনুত তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং মায়ানমারের নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা – এসব কিছুই সম্ভব নয় আন্তর্জাতিক মহলের একট সার্বিক উদ্যোগ ছাড়া। তার পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ তাদের সুরক্সা, সহায়তা ও নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে নোয়াখালীর ভাসানচরে তাদের জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা একটি স্বতন্ত্র আবাসস্থল নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের একটি অংশ সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রত্যেক শরণার্থীর রয়েছে ব্যক্তিগত দুঃখ –কষ্ট , বঞ্চনা ও যন্ত্রণার ইতিহাস। বাংলাদেশে আশ্রিত এসব রোহিঙ্গা নিয়মিত সংগ্রাম করে যাচ্ছে মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতে। তারা আশাবাদী, একদিন তারা নিজ দেশ মায়ানমারে ফিরে যেতে পারবে। (Translate to English)
1 Answers 8 Views
গত দুই দশকে বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে ঘটেছে অভাবনীয় সব পরিবর্তন ও সাফল্য। তথ্যপ্রযুক্তি সময় ও দূরত্বকে জয় করেছে। বাংলাদেশও তথ্যপ্রযুক্তির স্পর্শে জেগে উঠেছে। দেশে সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য বিকাশ ঘটেছে। বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগসহ কষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আমদানি-রপ্তানি, সরকারি-বেসরকারিসহ অনেক কর্মকাও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে অটোমেটেড ডিজিটাল পদ্ধতিতে। ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে চালু হয়েছে অটোমেশন। অনলাইনে শেয়ার বাজার ও ব্যাংকিং কর্মকাণ্ডসহ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভর্তির জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়ার পাশাপাশি ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে পরীক্ষার ফলাফল। ফলে অপারেটর, প্রোগ্রামার, হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার পদে বহুলোকের কর্মসংস্থানেও সৃষ্টি হয়েছে। (Translate into English)
1 Answers 4 Views
ইসলামী ব্যাংকিং আল-কুরআন এর বিধিবিধান অনুসরণ করে পরিচালিত একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা যাতে সুদের বিনিময়ে ধার ও ঋণের লেনদেন নিষিদ্ধ। ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার লক্ষ্য হচ্ছে সুদ নির্মূলকরণ এবং অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা, ন্যায়বিচার দক্ষতা, স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির নীতি প্রতিষ্ঠা। ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার উদ্যোক্তা এবং পুঁজিমালিকের মধ্যে শিল্প অথবা বাণিজ্যিক ঝুঁকি সমানভাবে বণ্টন এবং বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আনুপাতিক মূলধনের ভিত্তিতে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকিং সবচেয়ে উৎপাদনশীল ও লাভজনক প্রকল্পে বিনিয়োগ করে। (Translate into English)
1 Answers 6 Views