1 Answers

মূলভাবঃ মানবজীবন সংক্ষিপ্ত কিন্তু এ সংক্ষিপ্ত জীবনে কিছু মানুষ এমন কিছু কীর্তি করে যায় যার জন্য সে সারাজীবন মানুষের মনে বেচে থাকে। যে কারণে দৈহিক বিনাশ ঘটলেও কীর্তিমান ব্যক্তি মানুষের মনে অমরত্ব লাভ করে। 

ভাব-সম্প্রসারণঃ মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী কিন্তু কর্মময়। জীবনে প্রকৃত সুখ ও সব কার্যাবলি, এ কর্মের মধ্যেই নিহিত। ধরিত্রীর অবারিত আলো বাতাসের সাথে মিলে যথাসাধ্য কাজ করে চলাই তার কাজ। এ সুন্দর পৃথিবীতে মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি কখনো মানুষকে বিপথগামী করেন নি, মানুষকে এ সুন্দর সুশৃঙ্খল ও মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। মানুষ কর্মের মাধ্যমেই তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত করবে। কিন্তু এ কর্ম হবে সত্য ও সুন্দরের পথে । কীর্তিমান মানুষ জগতের জ্যোতি হয়ে বেঁচে থাকেন যুগ-যুগান্তর ধরে। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে বহু জ্ঞানের অধিকারী করেছেন। তারা যদি এ জ্ঞানকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে তবে অমরত্ব লাভ করবে। যেসব লোক সুপথে কর্মের মধ্য দিয়ে জীবনকে পরিচালিত করে তারা জীবনে অনেক সুখী সমৃদ্ধশালী হতে পারে; ফলে কর্মময় ক্ষণস্থায়ী জীবন হয় সার্থক ও সত্য। কর্মবিমুখ ব্যক্তিকে সাধারণত সবাই অলস বলে আখ্যায়িত করে। অলস মানুষ ঘুণে ধরা কাঠ ও মরিচা ধরা লাহোর মতো। তারা সমাজে অপাংক্তেয় হিসেবেই চিহ্নিত। হাদিসে রয়েছে, 'অলস মানুষের মাথা শয়তানের আড্ডাভূমি'। কর্মবিমুখতার জন্য বর্তমান সমাজে অনেক যুবক কালোবাজারি, মদ্যপায়ী, সন্ত্রাসী হয়ে পড়েছে। তাদেরকে কর্মসাগরে উদ্বুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন। লেখকের ভাষায় “কর্মের গভীর মন্ত্রে উদ্ভাসিত হয়ে মানুষের কল্যাণার্থে জীবনকে পরিচালিত করাই জীবনের প্রকৃত সুখ।" অনেক সাধারণ ঘরের সন্তান কর্মগুণে পৃথিবীর বুকে অমর হয়ে আছেন। মানুষ তার বয়েসর ওপর ভিত্তি করে বাঁচে না। কর্মের মধ্যেই তার বেঁচে থাকা সার্থক হয়। সাধনায় সফল কৃতিত্ব লাভ করা যায়। মহান আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, 'তোমাদের কর্মফল তোমরা একদিন ভোগ করবেই'। এ বাণীটি কর্মকেই বড় করে, কেননা বয়সে মানুষ স্মরণীয় হয় না। বড় হওয়া এবং স্মরণীয় হওয়ার মাধ্যম হলো কর্ম। কর্মই মানবজীবনের সুখ ও সমৃদ্ধি এনে দিতে পারে। 

মন্তব্য: আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষণকে কাজে লাগানো দরকার। পৃথিবীতে কিছু কীর্তি রাখার প্রচেষ্টা করা মানবতার সত্যিকারের প্রকাশ ।কারন মানুষ বাচে তার কর্মের মধ্যে।

8 views

Related Questions

মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সবুজ বনভূমির মাঝে দৃষ্টিনন্দন হ্রদ আর লাল ইটের তৈরি ইমারত ক্যাম্পাসকে আরও নান্দনিক করে তুলেছে। পাশাপাশি এ- ক্যাম্পাস ‘সংস্কৃতির রাজধানী' নামেও পরিচিত। এ ছাড়া প্রতি বছর শীতকাল এলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়গুলো অতিথি পাখিতে পূর্ণ হয়ে যায়। তাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে অতিথি পাখির ক্যাম্পাস হিসেবেও অনেকে চেনেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার গৌরবময় ইতিহাসকে ভিত্তি করে নির্মিত কয়েকটি ভাস্কর্য এ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সবুজের মাঝে কংক্রিট বা ব্রোঞ্জে তৈরি ভাস্কর্যগুলো দাঁড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও ভাষা আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি হয়ে । এসব ভাস্কর্য এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস পৌছে দিচ্ছে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, ঐতিহ্য ও চেতনাকে স্মরণ রাখতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হয় ভাস্কর্য ‘সংশপ্তক'। যুদ্ধে জয়লাভ অথবা মৃত্যু – এই শপথে আবদ্ধ থেকে লড়াই করেন। যে অকুতোভয় বীর, তিনিই সংশপ্তক। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্থাপিত এই ভাস্কর্যটির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যুদ্ধে শত্রুর আঘাতে এক হাত, এক পা হারিয়েও রাইফেল হাতে লড়ে যাওয়া দেশমাতৃকার এক বীরসন্তানকে। ভাস্কর্যটির নির্মাতা শিল্পী হামিদুজ্জামান খান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্রোঞ্জের অবয়বে প্রতীকী ব্যঞ্জনায় প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন। আজকের প্রজন্মের কাছে ভাস্কর্যটি যে-কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের অনিঃশেষ প্রেরণা। হিসেবে কাজ করে।
1 Answers 6 Views