সুমীর মতে স্বাধীনতা যাতে স্বেচ্ছাচারিতায় পরিণত না হয়, সেজন্য কী কী রক্ষাকবচ থাকা দরকার? (প্রয়োগ)
1 Answers
উদ্দীপকের সুমীর মতে, স্বাধীনতা যাতে স্বেচ্ছাচারিতায় পরিণত না হয় সেজন্য স্বাধীনতার একাধিক রক্ষাকবচ থাকা দরকার।
স্বাধীনতাকে যে বিষয়গুলো রক্ষা করে তাই স্বাধীনতার রক্ষাকবচ। স্বাধীনতার প্রয়োজনীয় রক্ষাকবচের মধ্যে আছে আইন। আইন স্বাধীনতার অন্যতম শর্ত ও সহায়ক শক্তি, একইসাথে স্বাধীনতার প্রধান রক্ষাকবচ। আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর। এজন্য জন লক বলেছেন- 'যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না'। আবার, গণতন্ত্র স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকায় তা জনস্বার্থে পরিচালিত হবে। এই শাসন ব্যবস্থায় জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়। তাছাড়া জনগণ অধিকার সচেতন থাকার ফলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ স্বাধীনতা রক্ষার 'অতন্দ্রপ্রহরী' হিসেবে কাজ করে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ। সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যম জনমত গঠনে সহায়তা করে। এ কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একান্ত প্রয়োজন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রবন্ধ, নিবন্ধ, আলোচনা, সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয় ইত্যাদির মাধ্যমে জনগণের স্বাধীনতা হরণকারী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দূরভিসন্ধিমূলক কার্যক্রমকে তুলে ধরা হয়। এছাড়াও আইনের অনুশাসন, দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা, ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ, স্বাধীন বিচার বিভাগ, শিক্ষার প্রসার, সরকার ও জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক, সদা সতর্ক জনমত, সৎ ও সুনির্দিষ্ট নেতৃত্ব ইত্যাদি স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং বলা যায়, স্বাধীনতা যাতে স্বেচ্ছাচারিতায় পরিণত না হয় সেজন্য উল্লিখিত রক্ষাকবচগুলো থাকা দরকার।