1 Answers
উক্ত কর্মসূচি অর্থাৎ ছয় দফা কর্মসূচি ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অপশাসন, শোষণ ও বৈষম্য থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার জন্য ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সর্বজনীন ভোটাধিকার, উভয় প্রদেশের জন্য অভিন্ন মুদ্রা চালু, সকল প্রকার কর ও শুল্ক ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতাসহ উভয় প্রদেশের জন্য নানা বিষয়ে ব্যাপক ক্ষমতা বরাদ্দের দাবি ভিত্তিক ছয় দফার প্রতি অতিদ্রুত ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে। ছয় দফার দাবিগুলো বিশ্লেষণ করে বলা যায়, এটি ছিল পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের দাবি। এ দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে পূর্ব বাংলা পাশ্চিম পশ্চিম পাকিস্তানের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকত না। ছয় দফা দাবি বাঙালিকে স্বাধীনতায় উদ্বুদ্ধ করেছিল।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ছয় দফার ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা বাস্তবায়নের আকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য বর্বর হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর বিজয় অর্জনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তি লাভ করে। এ কারণে ছয় দফা কর্মসূচিকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
উদ্দীপকের বর্ণনার তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি ছয় দফা কর্মসূচিকেই ইঙ্গিত করে। তাই বলা যায়, উক্ত কর্মসূচিই ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ।