1 Answers
বেদ হচ্ছে অফুরন্ত জ্ঞানের ভান্ডার। এজন্য বেদকে বলা হয় 'বেদ এক অখণ্ড জ্ঞান রাশি'।
বেদ হিন্দুদের আদি ধর্মগ্রন্থ। বেদের রয়েছে চারটি ভাগ। বিপুল সংখ্যক গ্রন্থের এক বিশাল ভাণ্ডার হলো এ বেদ। ধর্মীয় বিধান অনুসারে সঠিকভাবে জীবন পরিচালনা করতে আমাদের প্রত্যেকের জন্য চতুর্বেদ পাঠ করা অপরিহার্য। ঋক্, সাম, যজুঃ ও অথর্ব এ চারটি বেদ সংহিতা পাঠ করার মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। ঋগ্বেদ সংহিতা পাঠে বিভিন্ন বৈদিক দেবদেবী সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এবং তাদের কর্মচাঞ্চল্যকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়। সামবেদ হলো জগতের সমস্ত গানের আধার এবং উৎস। আর এ গান অর্থাৎ সামবেদ আমাদের মননশীলতাকে বাড়িয়ে দেয় এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে দেয় না। যজুর্বেদ পাঠ করে বিভিন্ন সময়ে যজ্ঞানুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষপঞ্জি বা ঋতু সম্পর্কে ধারণা জন্মে। সেকালের উপাসনা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেয় যজুর্বেদ। অথর্ববেদ পাঠে আয়ুর্বেদ বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এ সংহিতায় ইন্দ্রজাল, ব্যাধি নিরাময়, অনাবৃষ্টি রোধ, ভেষজবিদ্যা, শান্তি ও নানাবিধ শুভকর্মসংক্রান্ত মন্ত্রাদি ও নির্দেশনা রয়েছে। এখানে নানা ধরনের রোগব্যাধি এবং সেগুলোর প্রতিকারের উপায়স্বরূপ নানা প্রকার গুল্ম, লতা, বৃক্ষাদির বর্ণনা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বেদ পাঠে পরমাত্মা, বৈদিক দেব-দেবী, যজ্ঞ, সংগীত, চিকিৎসাসহ সব ধরনের জ্ঞানলাভ করা যায়। এজন্য বেদ এক অখন্ড জ্ঞান রাশি।