1 Answers
সংগীতি অনুষ্ঠিত হওয়ার বিভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল। বুদ্ধবাণী সংকলন, বিশুদ্ধভাবে সংরক্ষণ এবং প্রচার করাই সঙ্গীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। কিন্তু সঙ্গীতির পটভূমি ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় সঙ্গীতির গুরুত্বও বহুমাত্রিক রূপ পরিগ্রহ করে। সঙ্গীতির ইতিহাস পাঠে জানা যায় যে, প্রথম সঙ্গীতি বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা বুদ্ধবাণীকে সংকলিত করে বিস্মৃতি ও বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং বিশুদ্ধভাবে সংরক্ষণের পথ তৈরি করে। দ্বিতীয় সঙ্গীতি বুদ্ধ-প্রবর্তিত বিনয়কে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করে। তৃতীয় সঙ্গীতি সঙ্ঘে বিরাজমান অরাজকতা দূর করে সঙ্ঘকে কলুষমুক্ত এবং বুদ্ধবাণীকে বিকৃতি ও পরিহানির হাত থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চতুর্থ সঙ্গীতি বুদ্ধবাণীকে ভূর্জপত্রে বা তালপত্রে লিপিবদ্ধ করে স্থায়িত্ব প্রদান করে। পঞ্চম সঙ্গীতি বুদ্ধবাণীকে নির্ভুলভাবে প্রকাশে সহায়তা করে। ষষ্ঠ সঙ্গীতি দোষ-ত্রুটিসমূহ দূরীভূত করে বুদ্ধবাণীকে নির্ভুলভাবে প্রকাশে সহায়তা করে। এসব বিবেচনা করে সঙ্গীতির গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। শুধু তাই নয়, সঙ্গীতি সম্পর্কে অধ্যয়ন করলে প্রাচীন ভারত ও শ্রীলঙ্কা এবং মিয়ানমারের বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস, সঙ্ঘের উদ্ভব-বিকাশ, বৌদ্ধধর্মের প্রচার-প্রসারে রাজন্যবর্গের অবদান প্রভৃতি সম্পর্কে জানা যায়। তাছাড়া, সঙ্গীতি সম্পর্কে অধ্যয়ন করলে উপরে বর্ণিত তিনটি দেশের আর্থ-সামাজিক, ভৌগোলিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা এবং সংস্কৃতি সম্পর্কেও জ্ঞান আহরণ করা যায়। অতএব বলা যায়, বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে সঙ্গীতির গুরুত্ব অপরিসীম।