1 Answers
বৃদ্ধত্ব লাভে অনুপ্রাণিত প্রজ্ঞাবান সত্ত্ব বা বোধির লালনকারী সত্ত্বই বোধিসত্ত্ব। বোধিসত্ত্ব শব্দের অর্থ হলো যিনি বুদ্ধত্ব লাভের জন্য জন্মজন্মান্তরে অসংখ্য কুশল কর্ম সম্পাদনে নিয়োজিত থাকেন। বোধিসত্ত্ব তিন প্রকার। যথা- সম্যকসম্বোধিসত্ত্ব, প্রত্যেকবোধিসত্ত্ব ও শ্রাবকবোধিসত্ত্ব।
সম্যকসম্বোধিসত্ত্ব: সর্বসত্তার কল্যাণব্রত নিয়ে বোধি চিত্ত সাধনার অনুসরণকারীকে সম্যকসম্বোধিসত্ত্ব বলে। তারা সাধনার পূর্ণতায় সম্যক সম্বুদ্ধ হন। যেমন গৌতম বুদ্ধ একজন সম্যক সম্বুদ্ধ। প্রত্যেকবোধিসত্ত্বঃ স্ব-উদ্যোগে ও স্বাধীনভাবে কোনো গুরুর অধীন না হয়ে বুদ্ধ প্রদর্শিত পথে বোধিজ্ঞান লাভের সাধনায় নিয়োজিত সাধককে প্রত্যেকবোধিসত্ত্ব বলে।
শ্রাবকবোধিসত্ত্ব: শ্রাবকবোধিসত্ত্ব বলতে শ্রবণকারী, শ্রোতা, শিষ্য বা শ্রদ্ধানুরাগে অনুপ্রাণিত হয়ে বোধিজ্ঞান লাভকারীকে বোঝানো হয়।
আবার সাধনাব্রতের উৎস বিচারেও বোধিসত্ত্বকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: প্রজ্ঞাধিক বোধিসত্ত্ব, শ্রদ্ধাধিক বোধিসত্ত্ব ও বীর্যাধিক বোধিসত্ত্ব।
প্রজ্ঞাধিক বোধিসত্ত্ব: যে বোধিসত্ত্ব লক্ষ্য অর্জনে প্রজ্ঞাসাধনাকে সর্বাগ্রে স্থান দেয় তাকে প্রজ্ঞাধিক বোধিসত্ত্ব বলে।
শ্রদ্ধাধিক বোধিসত্ত্ব: যে বোধিসত্ত্ব লক্ষ্য অর্জনে শ্রদ্ধাকেই সর্বাগ্রে স্থান দেন তাঁকে শ্রদ্ধাধিক বোধিসত্ত্ব বলে।
বীর্যাধিক বোধিসত্ত্ব: যে বোধিসত্ত্ব লক্ষ্য অর্জনে কর্ম প্রচেষ্টাকেই সর্বাগ্রে স্থান দেন তাকে বীর্যাধিক বোধিসত্ত্ব বলে।