1 Answers
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ ও কৃত্রিম শ্রেণিকরণের মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য নিচে বর্ণনা করা হলো-
⇨ প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের ভিত্তি হলো মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য। কিন্তু কৃত্রিম শ্রেণিকরণের ভিত্তি হলো অবাস্তব ও বাহ্যিক সাদৃশ্য।
⇨ প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের উদ্দেশ্য হলো সর্বজনীন জ্ঞান অর্জন। কিন্তু কৃত্রিম শ্রেণিকরণের উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিবিশেষের বিশেষ প্রয়োজন মেটানো।
⇨ প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের সাদৃশ্যের বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকৃতিতে বিদ্যমান থাকে। কিন্তু কৃত্রিম শ্রেণিকরণে সাদৃশ্যের বিষয়বস্তু মানুষের খেয়াল-খুশিমতো সৃষ্টি করা হয়।
⇨ প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। এ জাতীয় শ্রেণিকরণে বস্তুসমূহ যথাযথভাবে বিন্যাস করা হয়। কিন্তু কৃত্রিম শ্রেণিকরণ একটি অবৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক পদ্ধতি।
⇨ প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের ক্ষেত্রে আমরা বস্তু বা ঘটনাবলি সম্পর্কে তত্ত্বগত জ্ঞান লাভ করি। কিন্তু কৃত্রিম শ্রেণিকরণে কেবল ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সাধিত হয়। এতে জ্ঞান অর্জনের সম্ভাবনা কম।
⇨ প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণে বস্তুসমূহের গুরুত্বপূর্ণ ও একান্ত প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্যগুলোকে শনাক্ত করতে হয়। এর জন্য আমাদের সংজ্ঞার উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু কৃত্রিম শ্রেণিকরণ বাহ্যিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতেই করা হয়। এজন্য অনেক সময় একটি নমুনা নির্বাচিত করা হয় এবং এর সাথে মিল রেখেই বস্তুসমূহকে বিন্যস্ত করা হয়।
⇨ প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ বিজ্ঞানসম্মত। তাই ব্যক্তিভেদে শ্রেণিকরণের মধ্যে কোনো তারতম্য ঘটে না। কিন্তু কৃত্রিম শ্রেণিকরণ ব্যক্তিবিশেষের উদ্দেশ্য দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় বলে এরূপ শ্রেণিকরণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়।