1 Answers
উদ্দীপকের কৃষি কর্মকর্তা বলেন, 'পতিত জমিতে আমরা সামাজিক বনায়ন করতে পারি, যা আমাদের কাঠ ও জ্বালানির চাহিদা পূরণ করতে পারে।'
গ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাড়ির আশেপাশে, সড়ক, বাঁধ, বন ইত্যাদি স্থানে সকলে মিলিতভাবে যে বনায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করে তাকে সামাজিক বনায়ন বলে। বিশ্বের যেকোনো দেশের ভারসাম্য ও পরিবেশ রক্ষার জন্য মোট জমির অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা আবশ্যক। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে এর পরিমাণ ১৭.৬২ শতাংশ। এই প্রাকৃতিক বনের মধ্যে রয়েছে পাহাড়ি বন, শালবন, ম্যানগ্রোভ বন। তারপরেও বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য চাহিদার তুলনায় দেশের কাঠ, জ্বালানি, পাল্পউড অপ্রতুল ও ক্রমহ্রাসমান। দেশের গ্রামাঞ্চলে বসতবাড়ির আশেপাশে, সড়ক, বাঁধ, নদীর পাড়ে, রেললাইনের পাশে যদি আমরা কমিউনিটি বন, গৃহস্থালি বন, সড়ক বাঁধ বন, কৃষিবন ও বহুমুখী বন তৈরি করি তাহলে মোট বনভূমির পরিমাণ বাড়বে সেই সাথে জ্বালানি ও কাঠের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। সামাজিক বনায়নের বিভিন্ন উদ্দেশ্যের মধ্যে একটি হচ্ছে উডলট তৈরি। উডলট থেকে অল্প সময়ে খুঁটির গাছ ও জ্বালানি দ্রব্য পাওয়া যায়। এ ধরনের বনায়ন থেকে পাতা ও গাছের ডালপালা সংগ্রহ করে জ্বালানির সরবরাহ বৃদ্ধি করা যায়। সামাজিক বনায়ন থেকে প্রাপ্ত মূলগাছ নির্মাণ কাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উপরের আলোচনা হতে বলা যায়, কাঠ ও জ্বালানির চাহিদা পূরণে উক্ত বনায়নের ভূমিকা অপরিসীম।