1 Answers
উদ্দীপকের ছাত্রছাত্রীর জীবনে বংশগতি প্রভাব বিস্তার করেছে। বংশানুক্রমে জৈব ও মানবিক যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য অধস্তন পুরুষের মধ্যে সঞ্চালিত হয় তাই বংশগতি। অন্যকথায় বংশগতি বলতে মানুষের দৈহিক ও মানবিক গুণাবলির সমন্বিত ক্ষমতাকে বোঝায়, যে ক্ষমতার পূর্ণ বিকাশের মাধ্যমে মানুষ আজ প্রকৃতির ওপর কর্তৃত্ব করছে। মানুষের এই বংশগতি উত্তরাধিকারসূত্রে বর্তায় এবং এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে বিস্তার লাভ করে। ব্যক্তির দেহে যে রক্ত বা বৈশিষ্ট্য প্রবাহিত হয় সেজন্য সে তার পিতামাতা ও পূর্বপুরুষ উভয় শাখার কাছে ঋণী। পিতা ও মাতার দুটি অণুর সংমিশ্রণেরই এক ফল হলো ব্যক্তি। ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য নিরূপণ করে ক্রোমোসোম ও জিন নামক এক মৌলিক। উপাদানসমূহ। বস্তুত সন্তানের দেহে বংশধারা সংক্রমিত হয় ক্রোমোসোমের জোটগুলোর মাধ্যমে। এ বংশধারায় সন্তানের আকৃতি ও স্বভাব-চরিত্র গঠিত হয়। মূলত এ ধারাকেই বংশগতি বলা হয়। প্রতিটি ব্যক্তিই তার যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য যেমন মানসিকতা, বুদ্ধিবৃত্তির সহজাতপ্রবণতা, প্রতিবর্তী ক্রিয়া প্রভৃতি বংশগতির মাধ্যমেই লাভ করে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রছাত্রীর ওপর গবেষণা করে দেখা যায়, তাদের পিতা- মাতাও অনেক মেধাবী ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। গবেষকরা মনে করেন, অনুকূল পরিবেশের সামান্য সহায়তা সর্বোপরি উত্তরাধিকারসূত্রে তারা এ মেধা অর্জন করেছে। মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা তাদের মেধার এ বৈশিষ্ট্য বংশগতির মাধ্যমে তাদের পিতামাতার কাছ থেকে লাভ করেছে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে ছাত্রছাত্রীদের জীবনে বংশগতি প্রভাব বিস্তার করেছে।