বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনটি শিল্পরূপে পরিগণিত হচ্ছে? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগ)
1 Answers
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিংড়ি আজ বিরাট শিল্পরূপে পরিগণিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টিতে এবং রপ্তানি পণ্যের তালিকায় চিংড়ি একটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। বিশ্ববাজারে চিংড়ি খাদ্য হিসেবে বেশ লোভনীয় ও আকর্ষণীয়। স্বাদ ও পুষ্টির কারণে বিশ্বে এর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাংলাদেশে চিংড়ির উৎপাদন দিন দিন বেড়েই চলেছে। চিংড়ি চাষে উৎসাহ প্রদানে সরকারিভাবে ২ লক্ষ ৭ হাজার চিংড়ির ঘের রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে (মৎস্য সংকলন, ২০২২)। বর্তমানে এদেশে চিংড়ি খামারের আয়তন ২.৭৫ লক্ষ হেক্টর। চিংড়ির পোনা আহরণে ৮.৩৩ লক্ষ এবং উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে জড়িত রয়েছে ১.৫-২.০ লক্ষ লোক (কৃষি ডাইরি, ২০২২)। ফলে চিংড়ি আজ এদেশে বিরাট শিল্পরূপে পরিগণিত হয়েছে। দেশের রপ্তানিজাত মৎস্য পণ্যের প্রায় ৫৮% চিংড়ি। ২০২১- ২২ অর্থবছরে রপ্তানিকৃত চিংড়ির মাধ্যমে ৫৩ কোটি ২৯ লাখ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে ২.৭৮ লক্ষ মেট্রিক টন (Export Promotion Bureau, 2022)। চিংড়ি চাষের জমিতে যদি উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগে নিবিড় পদ্ধতিতে চাষ করা হয় তবে ভবিষ্যতে এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে চিংড়ি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।