1 Answers
কিয়াস হলো ইসলামী ফিকহ বা আইন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কোরআন ও হাদিসে উল্লেখিত কোনো সমস্যার উপর ভিত্তি করে নতুন সমস্যার সমাধান বের করা হয়। এটি এমন এক ধরনের যুক্তি বা তুলনা যা পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বা ঘটনার আলোকে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবহৃত হয়। পরিবর্তনশীল সমাজে কিয়াসের প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
১. নতুন সমস্যার উদ্ভব
সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বর্তমান যুগে বিজ্ঞানের অগ্রগতি, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সামাজিক পরিবর্তনের ফলে এমন অনেক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যা কোরআন ও হাদিসে সরাসরি উল্লেখ নেই। কিয়াসের মাধ্যমে ইসলামিক আইনবিদরা সেই নতুন সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজে বের করতে পারেন, যা শরিয়তের মূল নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
২. শরিয়তের মূল নীতির অনুসরণ
কিয়াস ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শরিয়তের মূল নীতি ও মুল্যবোধের অনুসরণ নিশ্চিত করা হয়। এটি শরিয়তের দৃঢ়তা বজায় রাখার পাশাপাশি সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইসলামের নীতিগুলোকে প্রয়োগ করার সুযোগ দেয়।
৩. সমাজের প্রয়োজন মেটানো
পরিবর্তনশীল সমাজে নতুন সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে মানুষের জীবনযাত্রা জটিল হয়ে উঠেছে। কিয়াসের সাহায্যে ইসলামিক স্কলাররা এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজতর করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, সমসাময়িক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে কিয়াসের মাধ্যমে শরিয়াহ সম্মত সমাধান বের করা হয়।
৪. ঐক্য এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা
কিয়াসের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান বের করলে মুসলিম সমাজে ঐক্য বজায় রাখা সহজ হয়। কারণ এটি নতুন সমস্যার ক্ষেত্রে শরিয়তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করে। এর ফলে মুসলিম সমাজে মতভেদের পরিবর্তে সঠিক এবং সুসংগত সমাধানের দিকে ধাবিত হওয়া সম্ভব হয়।
উপসংহার
“পরিবর্তনশীল সমাজে কিয়াসের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম” এই কথাটি যথার্থ, কারণ এটি ইসলামী আইন ও নীতিমালাকে সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সাহায্য করে। কিয়াসের মাধ্যমে কোরআন ও হাদিসের আলোকে নতুন সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়, যা সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।