1 Answers
উদ্দীপকের মূলভাব 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের খণ্ডাংশ মাত্র। মন্তব্যটি যথার্থ।
যুগে যুগে শোষিত-বঞ্চিতরাই সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে এসেছে; মানবসভ্যতার বিকাশ ও উন্নয়ন ঘটিয়েছে। অথচ তারাই তথাকথিত ভদ্র সমাজের চোখে ছোটলোক, ছোট জাত বলে অবহেলিত, নির্যাতিত। আভিজাত্যবোধ ও বংশগৌরবকে পুঁজি করে আমাদের সমাজে যে তথাকথিত ভদ্র সমাজ গড়ে ওঠে তাদের দ্বারা দেশ ও জাতির প্রকৃত উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব নয়। কারণ তারা স্বার্থপর, শোষক।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি নিম্নশ্রেণির মানুষের অবদান তুলে ধরেছেন। তারাই যে সভ্যতা নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, তাদের চেষ্টা ও ঐক্যবদ্ধ শক্তি দ্বারাই যে সভ্যতা এগিয়ে চলে- সেই সত্যটি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে। এই বিষয়টি 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকের এই চেতনা ছাড়াও প্রবন্ধে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে প্রাবন্ধিক সব জাত-ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধ জাগরণ কামনা করেছেন।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্দ্দ্বোধন' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেছেন, আমাদের সমাজের বৃহৎ অংশ অর্থাৎ কৃষক, শ্রমিক, চণ্ডাল, মুচি আজ অবহেলিত। দেশের মোট শক্তির হিসাবে তারা দশ আনা শক্তি। এই দশ আনা শক্তি বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হয়ে ছয় আনা শক্তির কাছে অবহেলিত, নির্যাতিত। অথচ জগতের বড় বড় যত অর্জন আছে সেগুলোর পেছনে এই শক্তির অবদান সবচেয়ে বেশি। এই দশ আনা শক্তির উদবোধন ও প্রয়োজনীয়তার যেসব দিক আলোচ্য প্রবন্ধে প্রতিফলিত হয়েছে সেগুলো উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। সেখানে একটি বিশেষ দিকই প্রতিফলিত হয়েছে। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।