1 Answers

১৯৪৮ সালে তৎকালীন বার্মা স্বাধীন হলেও রোহিঙ্গাদের ভাগ্যে এ স্বাধীনতা নিয়ে আসে নিদারুণ অভিশাপ, যা এখন গোটা ক্ষমতা দখল করে উন্মুক্ত। এরপর ১৯৮২ সালে সেনা অভ্যূত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে জেনালের নে উইন। তখন থেকে শুরু হয় মিয়ানমারে রহিঙ্গা মুসলমানদের বঞ্চনা, লাঞ্ছনা, অত্যাচার ও নির্যাতনের এক নতুন অধ্যায় ১৫ই অক্টোবর ১৯৮২ সালে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা নাগরিকত্ব আইন প্রকাশ করে। এই আইনে মিয়ানমারে ১৩৫টি গোত্রভুক্ত মানুষই মিয়ানমারের পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয়। রোহিঙ্গদের গোত্র হিসেবে অস্বীকার করে সামরিক সরকার। এরপর বিভিন্ন সময়ে তারের চলাচলের ওপর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়। ফলে তারা হয়ে যায় নিজভূমে পরবাসী। বিশ্বের জানু নো রাষ্ট্রবিহীন সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী। 

১৯৭০ সালের পর থেকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সনদ বন্ধ করা হয়। ১৯৭৪ সালে কেড়ে নেয়া হয় ভোটাধিকার। আর ১৯৭৮ সাল থেকে শুরু হয় রোহিঙ্গা নিধন ও বিতাড়ন, যা ধারাবাহিকভাবে বর্তমান পর্যন্ত চলছে। এরপর থেকে সর্বশেষ ঢলের মতো আসা শরণার্থীসহ বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর বর্তমানে মোট সংখ্যা ১০ লক্ষাধিক। রোহিঙ্গাদের মূল বাসভূমি রাখাইনের চেয়েও এ সংখ্যা বেশি।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইহার প্রভাব

০১. বাংলাদেশের জিডিপির আকার ছোট হওয়ার কারণে এই বিশাল জনগোষ্ঠী নিয়ে বাংলাদেশ সরকার খুবই অস্বস্তিকর মধ্যে আছে। জিডিপি'র একটি বড় অংশই চলে যাবেরোহিঙ্গাদের আবাসন সংকট নিরসনে। বাইরের দেশেগুলো সাহায্য আসলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। 

০২. প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি ভূমিকা রাখবে। কারণ, উৎপাদন বাড়বে না কিন্তু দ্রব্যর চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এর মূল্য বৃদ্ধি পাবে এভাবে মুদ্রাস্ফীতির সৃষ্টি হবে। ফলে আমাদের দেশে গরিব জনগোষ্ঠী এর কুফল ভোগ করবে।

০৩. প্রচুর পরিমাণ পাহাড় কেটে তাদের আবসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই পাহাড়ে বসবাসরত চাকমা, মারমা, গারো ইত্যাদি উপজাতিদের আয়ের উৎস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জুম চাষ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। 

৪. গোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশই শিশু ও বৃদ্ধ। এদেরকে কোনভাবেই উৎপাদন কাজের সাথে জড়ানো সম্ভব নয়। অর্থাৎ একটি বিশাল অনুৎপাদনশীল থেকে যাচ্ছে। এর ফলে অর্থনীতিতে উৎপাদন কমবে। খাদ্যমূল্য হুরহুর করে বেড়ে যাচ্ছে। ফলে অচিরেই অর্থনীতিতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। 

৫. চট্টগ্রাম সহ এর পাশ্ববর্তী জেলা সমূহ রোহিঙ্গাদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় অপরাধ এবং সন্তাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাচ্ছে। এসব অঞ্চলগুলোতে মাদকদ্রব্য সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। 

4 views

Related Questions

শীর্ষ প্রবাসী জায় অর্জনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অষ্টম হলেও গত বছর প্রবাসী আয়ে কোনো প্রবৃদ্ধি হয়নি বরং অনেক কমেছে। প্রবাসী জায়ের এই অধোগতি অব্যাহত থাকলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দেবে। কারণ অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের অবদান মোট জিডিপির ৬ শতাংশের মতো। প্রবাসী আয় কমে যাও পেশনে মূল কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোতে তেলের দাম কমে যাওয়া। এটাই মূল কারণ হয়ে থাকে, তাহলে প্রবাসী আয়ের লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর আমাদের নির্ভরতা কমাতে হবে। পাশাপাশি আমাদের বিকল্প জনশক্তির বাজার খুঁজতে হবে। প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শ্রমিকদের অদক্ষতাও একটি বড় কারণ। ফলে জনশক্তির নতুন বাজার খুঁজে বের করতে উদ্যোগী হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ যৌ লক্ষ শ্রমিক পাঠানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার দিকটি বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম শ্রমিক গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। (Translate into English)
1 Answers 7 Views
বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় হচ্ছে। বড় হওয়ার পেছনে কাঠামোগতভাবে একসময়ে কৃষির অবদান সবচেয়ে বেশি থাকলেও বর্তমানে সেই চিত্রে পরিবর্তন এসেছে। কৃষির জায়গাটি দখল করে নিয়েছে সেবা ও শিল্প খাত। গত পাঁচ বছরের সরকারি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দেশের অর্থনীতিতে ধারাবাহিকভাবে অবদান বাড়িয়ে চলেছে উৎপাদন শিল্প । অর্থনীতিকে বড় করতে এ খাতই এখন মূখ্য ভূমিকা রাখছে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতির কাঠামো বদলাতে শুরু করে আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে। মূলত পোশাক খাতের সংযোগ হিসেবে গড়ে ওঠে অনেক শিল্প। এছাড়া ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পোশাক খাতের পাশাপাশি বেশকিছু ভারী শিল্পেও গড়ে উঠতে থাকে। আর এভাবেই অর্থনৈতিক কাঠামোতে জায়গা করে নিতে শুরু করে উৎপাদন খাত। (Translate into English)
1 Answers 8 Views