1 Answers
রোহিঙ্গারা পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন স্টেটের উত্তরাংশে বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী। এদের বেশির ভাগই মুসলমান । রাখাইন স্টেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হলো রোহিঙ্গা। সংখ্যায় প্রায় ২০ লাখ। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও উগ্র রাখাইনদের সাম্প্রদায়িক আক্রমণের শিকার হয়ে প্রায় ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গাদের বসবাসস্থল রাখাইন রাজ্য। এর আদি নাম আরাকান। এ নামকরণ প্রমাণ করে মুসলিম ঐতিহ্যের কথা। কারণ ইসলামের পাঁচটি মূল ভিত্তিকে একত্রে বলা হয় আরকান। আর এই আরকান থেকেই তার অনুসারী মুসলমানদের আবাস ভূমির নামকরণ করা হয়েছে আরাকান। বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়ে আলোচনা হলেও সেটি প্রস্তাব আকারে গৃহীত হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে, ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকট তৈরি হওয়ার পরে নড়ে চড়ে বসে জাতিসংঘ । ১৯ জুন, ২০২১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা সামরিক জান্তাকে নিন্দা জানিয়ে মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সেই সঙ্গে অং সান সুচি-সহ রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। প্রস্তু জাবের পক্ষে ভোট পড়ে ১১৯টি, বিপক্ষে একটি। ভোটদানে বিরত ছিল বাংলাদেশ, রাশিয়া, চীন, ভারত, নেপাল, ভুটান, লাওস, থাইল্যান্ডসহ ৩৬ দেশ। বাংলাদেশের ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়ে ২০ জুন, ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের প্রস্তাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কোন উল্লেখ না থাকায় বাংলাদেশে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ যে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, তা বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।