1 Answers
লিউকোরিয়া বা অত্যধিক সাদা স্রাব?
আমরা মেয়েরা যে শরীর নিয়ে কতো জ্বালায় থাকি! প্রেগন্যান্সি, প্রেগন্যান্ট হই না কেনো, এলার্জি, টেনশন হেডেক, পেটে ব্যাথা, মাসিকে ব্যাথা, মাসিকের অনিয়ম, মাসিক বন্ধের পর যন্ত্রনা, হাজারো ইনফেকশন এ রোগ সে রোগ লেগে আছেই কিছু না কিছু।
তবে এসব কিছুর মাঝে খুবই বিরক্তিকর, অস্বস্তিকর, বিব্রতকর একটি সমস্যা হলো,
কথা নেই বারতা নেই, অত্যধিক যোনিপথের সাদা স্রাব!
আসুন, আজ আমরা জরুরী, খুব কমন ও বিরক্তিকর রোগটি নিয়ে কিছু জেনে নেই।
লিউকোরিয়া কি?
-- যোনিপথের অত্যধিক স্রাবকে লিউকোরিয়া বলা হয়।
আমি কি করে জানবো, স্রাব অত্যধিক কিনা?
-- যে স্রাব কাপড়ে দাগ ফেলবে, হলুদাভ, সাদাটে কিম্বা বাদামী ছোপ পড়বে তা দেখে বুঝবেন ইহা লিউকোরিয়া।
কেনো হয় এই রোগ?
কারন অনেক।
স্বাভাবিক কারন --
১। বয়:সন্ধির শুরু (টিন এজ এ) হরমোনের প্রভাব।
২। পিরিওড শুরুর আগে (হরমোনের প্রভাব)
৩। জন্মবিরতীকরন পিল (OCP) গ্রহনের কারনে।
৪। প্রেগন্যান্সি (হরমোনের প্রভাব)
এই কারন গুলোর জন্য আপনাকে কখনই দুশ্চিন্তায় অস্থির হতে হবেনা। কারন, এই সময়গুলো পেরিয়ে গেলে, পিল খাবার বদলে অন্য পদ্ধতি নিলে স্বাভাবিক ভাবে লিউকোরিয়া কমে যাবে।
অন্যান্য কারন -
- শারীরিক অপুষ্টি (কম ওজন)
-- রক্তশুন্যতা
-- থাইরয়েড হরমোন সমস্যা
-- লিভারের সমস্যা
-- ডায়বেটিস
-- যোনীপথে/জরায়ুমুখে পলিপ, ঘা, ইনফেকশন
-- জরায়ু কিম্বা তলপেটের কোনো অংগে ইনফেকশন
-- জরায়ু নীচে নেমে আসা
-- অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, মানসিক অশান্তি ইত্যাদি।
লক্ষন--
- কাপড়ে হলুদাভ, বাদামী, সাদাটে দাগ লেগে থাকবে।
- অত্যধিক স্রাবের কারনে স্যানিটারি প্যাড ইউজ করতে হতে পারে।
- মুখে ঘা, হাতে পায়ে ঘা (থাকতে পারে)
- সবসময় দুর্বল লাগবে, কাজে অনীহা, অল্পতে হাপিয়ে যাওয়া।
চিন্তার বিষয় কোন গুলো??
- ঘন আঠালো দুর্গন্ধ যুক্ত স্রাব
-- রক্তাভ স্রাব
-- সাথে যোনিপথে চুলকানি
-- প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ব্যাথা
উপরে উল্লেখিত যেকোনো লক্ষন ও কারনে আপনাকে বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হতে হবে।
একই সাথে অনেকগুলো রোগ মিলে জটিলতা ধারন করার আগেই চিকিতসকের শরনাপন্ন হয়ে সঠিক ডায়গনোসিস করিয়ে চিকিতসা নিন।
প্রতিরোধ--
- নাইলনের আন্ডারগারমেন্ট ইউজ না করা (সুতির পরুন)
- স্বাভাবিক পানি দিয়ে যথাসম্ভব যোনীপথ পরিষ্কার রাখা।
-- আন্ডারগারমেন্ট ধোয়ার জন্য সাবান, ডিটারজেন্ট চেঞ্জ করা।
-- পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, ওজন বাড়ানো।
-- কনডম এ এলারজি হলে পদ্ধতি বদলে ফেলা।
-- দিনে ৫-৬লিটার পানি/তরল পান করার অভ্যাস করা।
-- রাতে অন্তত ৭-৮ঘন্টা ঘুম, টেনশন ফ্রি থাকা।
সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে, ঠিক চিকিৎসা না নিলে কি এই রোগ বারবার ও জটিলতর হতে পারে??
- হ্যা নিশ্চয়ই!
সঠিক তথ্য, জ্ঞান, সচেতনতা থাকলে অনেক বাজে, বিরক্তিকর রোগ বালাই থেকে আমরা বেঁচে থাকতে পারি।