2 Answers

হে অতীত, তুমি ভুবনে ভুবনে

কাজ করে যাও গোপনে গোপনে,

মুখর দিনের চপলতা মাঝে স্থির হয়ে তুমি রও।

মূলভাব : জীবনকে সুন্দরভাবে বিকশিত করতে হলে অতীতের প্রভাব অপরিসীম। কারণ অতীত হচ্ছে বর্তমানের সিঁড়ি এবং অনাগত ভবিষ্যতের পথ প্রদর্শক।

সম্প্রসারিত ভাব : বর্তমান দাঁড়িয়ে আছে অতীত ভিত্তির ওপর। আর সুন্দর বর্তমানের ওপরেই গড়ে ওঠে সাফল্যময় ভবিষ্যৎ। কাজেই বলা যায়, গৌরবময় অতীত জন্ম দেয় সুখী-সমৃদ্ধ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। অতীতের প্রভাবকে কিছুতেই অস্বীকার করা যায় না। পৃথিবীতে যে জাতি যত সভ্য ও উন্নত সে জাতি তার অতীত সম্পর্কে তত বেশি সচেতন। প্রত্যেক জাতিই তাদের অতীতের ঐতিহ্য ও গৌরবকে সবার সামনে তুলে ধরে এবং এ দিয়ে রচনা করে অমর গাঁথা। গৌরবময় সোনালি অতীত জাতিকে চেতনায় উজ্জীবিত করে। কোনো জাতির বর্তমান সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিকাশের পথে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে সে জাতির ঐতিহ্যময় অতীত। জাতি যখন দিক ভ্রান্ত হয়, দিক নির্দেশনার অভাবে যখন হারিয়ে যেতে থাকে জটিল আবর্তে, তখন অতীতই প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমাদের বাঙালি জাতির রয়েছে গৌরবময় অতীত। আবহমান বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতিই আমাদের প্রেরণার উৎস। যখনই আমরা জাতীয় সংকটে নিপতিত হই, তখনই আমাদের ঐতিহ্যময় সোনালি অততি আমাদেরকে চেতনায় উদ্দীপ্ত করে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের গৌরবময় স্বাধীনতা। আমাদের সংগ্রামময় অতীতের সফল বাস্তবায়ন। অতীত কখনো বিস্মৃত নয়। তাই অতীতকে সবসময় গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করা উচিত।

বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য অতীত নীরবে- নিভৃতে কাজ করে যায়। অতীতকে ভুলে যাওয়া আমাদের উচিত নয়। যে কোনো অগ্রযাত্রার পিছনে রয়েছে অতীত অভিজ্ঞতার সফল প্রয়োগ।

2083 views

হে অতীত, তুমি ভুবনে ভুবনে

কাজ করে যাও গোপনে গোপনে,

মুখর দিনের চপলতা মাঝে স্থির হয়ে তুমি রও

মূলভাব : মানুষের জীবনে তিনটি কালের স্রোতে বয়ে চলছে- অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ। ‘চরৈবেতি’ -চল, চল এগিয়ে চল- উপনিষদের এই মন্ত্রে মানুষ এগিয়ে চলছে, সভ্যতা সমৃদ্ধ হচ্ছে।

সম্প্রসারিত ভাব : বর্তমানের প্রতি মুহূর্ত অতীত হচ্ছে, বয়ে চলেছে ভবিষ্যতের দিকে। আমরা অতীতকে অজ্ঞতাবশত মুছে ফেলতে চাই ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর হয়ে। কিন্তু অতীত তো মৃত নয়। অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যতকে একসূত্রে গেঁথে চলেছে। অতীতকে অস্বীকার করা মানে ঐতিহ্যকে অস্বীকার করা, ইতিহাসকে ভুলে থাকা। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান ইতিহাসের শিকড় থেকেই রস সংগ্রহ করে স্বতন্ত্র মর্যাদা পেয়েছে। রাষ্ট্র ও শাসক, শাসক ও প্রজার সম্পর্ক কোন যুগে কোমন ছিল, কি অপরাধের শাস্তি কেমন হতো, জনকল্যাণের কর্মসূচি কোন শাসকের ফরমানে অনুশাসনে কতটা প্রতিফলিত হয়েছে ইতিহাসের নজীর ছাড়া সমাজবিজ্ঞানী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর পক্ষে তার উত্তর দেয়া অসম্ভব। ইতিহাস থেকে পাঠ নিয়ে মানুষ রচনা করেছে ইতিহাস। স্মৃতি কখনও সুখের, কখনও বেদনার।

স্মৃতির পথ বেয়েই মানুষ পেয়ে যায় আগামী দিনের পথ চলার পাথেয় অতীত তাই আমাদের প্রজ্ঞার প্রাজ্ঞ হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত।

2083 views

Related Questions