2 Answers
প্রীতিহীন হৃদয় আর প্রত্যয়হীন কর্ম দুই-ই অসার্থক।
 ,
মানুষের হৃদয় তৈরিই হয়েছে একে অপরের মধ্যে প্রীতি ভালোবাসা আদান-প্রদানের জন্য। এ কারণেই দুঃখে, দুর্দিনে, বিপদে-আপদে মানবহৃদয় কেঁদে ওঠে। তাই একে অপরের দুর্দিনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। মানব হৃদয়ে প্রীতি আছে বলে পৃথিবীতে আজ মানুষ টিকে আছে, তার নিজস্ব সৌন্দয্য নিয়ে। যার হৃদয়ে অপরের জন্য প্রেম-ভালোবাসা আছে সে হৃদয় শুধু মানুষের কষ্টেই কাঁদে না, পৃথিবীর প্রতিটি জীবের জন্য তার হৃদয় কেঁদে ওঠে। আর যে হৃদয়ে প্রীতি নেই, তার কাছে পৃথিবীর কোনো জীবই নিরাপদ নয়। যেকোনো ধরণের অকল্যাণকর কাজ সে নির্দ্বিধায় করতে পারে। প্রীতিও ভালোবাসার অভাবেই জাতিতে জাতিতে হয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, প্রাণহানি হয় লক্ষ কোটি মানুষের। মানব হৃদয়ে প্রীতি যত বাড়বে তত সুখ শান্তিতে মানুষ বসবাস করতে পারবে। অন্যদিকে সফলভাবে যেকোনো কাজ সম্পাদনের পূর্বশর্ত হলো কাজের প্রতি প্রত্যয় অর্থঃ াৎ বিশ্বাস। আত্মবিশ্বাস ছাড়া কোনো কাজে সফলতা আসে না। কোনো কাজ শুধু করার জন্য না করে, কাজকে ভালোবেসে আত্মবিশ্বাস নিয়ে করতে হয়। যদি অত্যন্ত কঠিন কাজ করার জন্য কেউ প্রতিজ্ঞা করে এবং ‘আমি পারব’ এই বিশ্বাস নিয়ে কাজ শুরু করে, তাহলে সে অবশ্য ঐ কাজে সফল হবে।
শিক্ষা: প্রীতিহীন হৃদয় শুধু যে মানুষের জন্য অকল্যাণকর তাই না, তার চেয়ে বড় কথা সে হৃদয় পশুর হৃদয়ের সমতুল্য। আবার প্রত্যেক কাজে সফলতার ভিত্তি হলো আত্মবিশ্বাস। আত্মবিশ্বাস অর্থঃ াৎ প্রত্যয় ছাড়া কর্মে সার্থকতা অসম্ভব।
প্রীতিহীন হৃদয় আর প্রত্যয়হীন কর্ম দুই-ই অসার্থক
মূলভাব : মানুষ সৃষ্টির সেরা। জ্ঞান কর্মে পুণ্য প্রীতিতে মানুষ তার জীবনকে সার্থক করে তোলে। বাঁচার জন্য মানুষ নিরবে সংগ্রাম করে। মানুষের বেঁচে থাকা তখন সার্থক হয়, যখন সে প্রীতির পরশে আপন আলয়ে স্বর্গ রচনা করতে পারে। ভোগ, ঐশ্বর্য, ক্ষমতা মানুষের কাম্য হতে পারে। কিন্তু এতে প্রকৃত সুখ নেই। মানুষ সুখ পায় প্রীতিময় সংসারে মমতাময় অনুভবে।
সম্প্রসারিত ভাব : স্বর্গ ও নরক মানুষের মাঝেই বিদ্যমান। তাই কবি যথার্থ বলেছেন,
‘প্রীতি-প্রেমের পুণ্য বাঁধনে
যবে মিলি পরস্পরে, স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন
আমাদেরি কুঁড়ি ঘরে।’
প্রীতি মানুষের জীবনে স্বর্গসুখ এনে দেয়। যে হৃদয়ে প্রীতি নেই, প্রেম নেই সে হৃদয় নিষ্ঠুর, নির্মম। বিধাতা মানুষকে বিবেক দিয়েছেন ভালোবাসার মাঝে এক সুন্দর জীবন গড়ে তোলার জন্য। মানুষ জীবনে ও কর্মে সার্থক হয় তখনই, যখন প্রীতিপ্রেমের পুণ্য বাধনে সে বাঁধা পড়ে। প্রীতিহীন যে হৃদয় সে হৃদয়ে শান্তি ও সুখ থাকতে পারে না। শান্তি ও সুখের জন্য তথা সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকার জন্য কর্ম করতে হয় এবং প্রতিটি কর্মই করতে হয় দৃঢ় প্রত্যয়ে। কারণ কোন কাজ যদি অর্ধপথে পরিত্যক্ত হয়, তাহলে শ্রম, অর্থ, সময় সবই নষ্ট হয়। একনিষ্ঠভাবে সফল হওয়ার প্রতিজ্ঞায় দৃঢ় হয়ে কোন কাজে হাত দিলে সে কাজ সুষ্ঠুভাবে সমাধা হবে। লক্ষ্যহীন পরিণামহীন কর্ম মানুষকে গৌরব বা কৃতিত্ব কোনটিই এনে দিতে পারে না। তাই, লক্ষ্য স্থির করে অধিক মনোবল নিয়ে কর্ম সম্পাদনে অগ্রসর হতে হবে।
এজগতে মানুষ ভালো কাজের মাধ্যমে স্বর্গের সুধা এবং খারাপ কাজের মাধ্যমে নরকের যন্ত্রণা ভোগ করে থাকে শান্তি আর করুণার সুর যদি পৃথিবীতে নেমে আসে, তাহলে জীবন স্বর্গীয় ও স্বার্থক হয়ে উঠবে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy