2 Answers

ধৈর্য ধর ধৈর্য ধর বাঁধ বাঁধ বুক

সংসারে সহস্র দুঃখ আসিবে আসুক।

মূলভাব : সহনশীলতা বা ধৈর্য মানব চরিত্রের একটি মহৎ গুণ।

সম্প্রসারিত-ভাব : জীবন গঠনকে সফল করার জন্য এ সৎগুণের প্রয়োগ একান্তই অপরিহার্য। নানা প্রতিকূল অবস্থায় পড়ে মানুষকে সংসার জীবন অতিবাহিত করতে হয়। প্রতিকূল অবস্থার সাথে সংগ্রাম করে জীবনকে সফল করে তুলতে হয়। ধৈর্যের দ্বারা সমস্ত বাধা বিপত্তি মোকাবিলা করতে পারলেই জীবনে বিজয়ী হওয়া যায়। তাই ধৈর্যই শক্তি; ধৈর্যই সফলতার উৎস। এ পৃথিবীতে মানুষের জীবন ফুলশয্যা নয়। জীবন সংগ্রামমুখর। চারদিকের প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে অবস্থান করে জীবন চালাতে হয়। প্রতিকূলতা মোকাবিলার প্রধান সহায়ক শক্তি হল সহ্য গুণ বা ধৈর্য। জীবনের কোন ক্ষেত্রেই ধৈর্যহারা হলে চলে না। জীবনের সকল সমস্যা দূর করার জন্য কঠোর সংগ্রাম করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ধৈর্যহারা হলে চলে না। জীবনের সকল সমস্যা দূর করার জন্য কঠোর সংগ্রাম করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা আবশ্যক। সহনশীলতা না থাকলে সমস্যার জটিলতার সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। ধৈর্য না থাকলে অনর্থক অনর্থ বাঁধে এবং গোলযোগের সৃষ্টি হয়। অন্যের রাগের সামনে নিজে রাগান্বিত না হয়ে ধৈর্য ধারণ করলে সমস্যার সমাধান ঘটে এবং অপ্রীতিকর অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ধৈর্যই হল টিকে থাকার বড় যোগ্যতা।

জীবনে সহ্য গুণ দিয়েই অপরের উগ্রতার সামনে নিজে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।

2030 views

ধৈর্য ধর ধৈর্য ধর বাঁধ বাঁধ বুক

সংসারে সহস্র দুঃখ আসিবে আসুক।

ভাব-সম্প্রসারণ : সহিষ্ণুতা একটি মহৎ গুণ। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে সহনশীলতার কোনো বিকল্প নেই। জীবনের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে ধৈর্য ধরতে হয় না। ধৈর্যসহকারে জাগতিক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে থাকতে পারলে শেষ পর্যন্ত জয়মাল্য তাদেরই ললাটে জোটে।

জীবন পুষ্পশয্যা নয়। পৃথিবীতে জীবনের চলার পথ কণ্টকাকীর্ণ। এখানে প্রতি পদেই রয়েছে বাধা-বিপত্তি ও সংঘাত। নৈরাশ্যের বেদনা আছে, পরাজয়ের দুঃসহ গ্লানি আছে এবং শোক ও দুঃখের হৃদয়বিদায়ক আঘাত আছে। এ-সব বিরুদ্ধশক্তির সাথে সহনশীলতার মাধ্যমেই যুদ্ধ করে জয়ী হতে হবে। জীবনের সর্বক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে গিয়ে মানুষকে ধীরস্থিরভাবে ও ধৈর্য ধরে সুচিন্তিত পদক্ষেপ না নিলে বিপদ-বাধা মোকাবেলায় মারাত্মক ভুল হয়ে যেতে পারে এবং তার জন্যে যথেষ্ট খেসারত দিতে হয়। পক্ষাপন্তরে ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে সমস্যা মোকাবেলা করলে তাতে কোনো বিপদের সম্ভাবনা তো থাকেই না, বরং সাফল্য আসে। বিপদের বাধা জয় করার মধ্যেই আছে পৌরুষের সার্থকতা, আছে মনুষ্যত্বের বিজয়গৌরব। দুঃখ-শোকের আঘাতে মানুষের সুপ্ত মনুষ্যত্ব অম্লান গৌরব জেগে ওঠে। আগুনে পুড়ে সোনা যেমন খাঁটি হয়- দুঃখ-দুর্দশার আঘাতে আমাদের মনও মালিন্যমুক্ত হয়। বিশ্বনন্দিত বৈজ্ঞানিক ডারউইন প্রাণি-জগতের মধ্যে প্রত্যক্ষ করেন যে, এই সংগ্রামময় পৃথিবীতে যোগ্যতম জীবেরাই শষ পর্যন্ত টিকে থাকে। মানুষের জীবনযাত্রাও এক নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের ইতিহাস। সভ্যতার আদিম প্রভাতের অসহায়, দুর্বল মানুষ আজ দুর্জয় সহিষ্ণুতার শক্তিতেই পৃথিবীর কর্ণধার হতে পেরেছে।

আমাদের জীবনের প্রতি পদক্ষেপেই ধৈর্য ও সহনশীলতার প্রয়োজন। সহনশীলতা না থাকলে সংসার বন্য-প্রবৃত্তিতে পরিণত হতো। তাই জাতি হিসেবে টিকে থাকতে হলে প্রয়োজন সহিষ্ণুতার।

2030 views

Related Questions