2 Answers

নিরক্ষরতা দুর্ভাগ্যের প্রসূতি

 ,

শিক্ষা হচ্ছে সেই মহামূল্যবান রত্ন, যা মানুষের সাথে পশুর পার্থক্যকে তুলে ধরে। শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে একজন মানুষ, প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠে। শিক্ষা বা জ্ঞান ছাড়া যথার্থ মানুষ হওয়া যায় না। আত্মা ছাড়া যেমন দেহের কোনো মূল্য নেই, তেমন শিক্ষা ছাড়া মানুষের জীবনেরও কোনো মূল্য নেই। শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত একজন চোখ থাকতেও অন্ধ হিসেবে বিবেচিত হয়। একজন অশিক্ষিত ব্যক্তি এই পৃথিবীর রূপ-রস-গন্ধ থেকে বঞ্চিত হয়। জীবনের প্রতিটি পদে পদে সে হয় প্রতারিত। তার জীবনটাই হয় ব্যর্থ ও অভিশপ্ত। উন্নত জীবনের সাথে তার কোনো পরিচয় থাকে না। দরিদ্রতা হয় তার নিত্য সঙ্গী। দারিদ্রতা এবং দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তির পথ সে জানে না। এই ধরণের মানুষ ধুকে ধুকে মৃত্যুবরণ করে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত নয় বলে, জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সে চোখে অন্ধকার দেখে। উন্নত তথ্য প্রযুক্তি থেকে সে হয় বঞ্চিত। আধুনিক বিশ্বে একজন অক্ষরজ্ঞানহীন ব্যক্তি অচল। শুধু ব্যক্তি জীবনেই নয়, জাতীয় জীবনেও নিরক্ষরতা চরম দুর্ভাগ্য বয়ে আনে। অশিক্ষিত জনগোষ্ঠী নিয়ে একটি দেশ কখনো উন্নতি করতে পারে না। পদে পদে সেই দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের প্রায় ১০০% জনগোষ্ঠীই শিক্ষিত। ফলে তারা এতো উন্নত। তাই একটি উন্নত দেশের জন্য চাই শিক্ষিত জনগোষ্ঠী।

শিক্ষা: নিরক্ষরতা হচ্ছে অন্ধকার এবং শিক্ষা হচ্ছে আলো। নিরক্ষর ব্যক্তি যেমন একটি দেশের বোঝা এবং অভিশাপস্বরূপ। তেমন শিক্ষিত ব্যক্তি একটি দেশের সম্পদ। তাই নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হবে, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে সর্বত্র।

2041 views

নিরক্ষরতা দুর্ভাগ্যের প্রসূতি 

মূলভাব : নিরক্ষরতা মানুষের জীবনের অভিশাপ, যা মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে পারে না। যাদের মাঝে এ জরাগ্রস্ত রোগ বাসা বাঁধে তাদের ভাগ্য সত্যিই খারাপ। অশিক্ষিত মানুষ সমাজের জন্য জাতির উন্নয়নের জন্য অন্তরায়। তাদের দ্বারা ভাগ্যের সুপ্রসন্ন কোন কাজ হয় না। জীবনে অশিক্ষার ছোঁয়ায় মননশীল কোন ধারায় স্বীয় সত্তাকে মূল্যায়ণ করা যায় না। 

সম্প্রসারিত-ভাব : মানুষের সাথে সমভাবে মেলামেশা, চলাফেরা সকল দিক দিয়ে সৌভাগ্যের পরিবর্তে দুর্ভাগ্যে পরিণত হয়। একজন মানুষ নিরক্ষর হলে সে সমাজে মূল্যায়িত হয় না। অশিক্ষিত মানুষ জাতীয় জীবনেরও উন্নয়নের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক সকল বিষয়ে কোন মৌলিক ধারণাও তার থাকে না। ফলে এসব বিষয়ে সে থাকে একদম অন্ধ। চক্ষু থেকেও আলোকের দুনিয়ায় ব্যথার মুকুট মাথায় পরে তারা জীবন অতিবাহিত করে। জীবনের স্বাদ আহ্লাদ সম্পর্কে তাদের কোন রকম কৌতূহলও হয় না। জীবন চলার পথে শুধু বাধা আর বাধায় ভরা। সৌভাগ্যের পরিবর্তে আসে দুর্ভাগ্যের নানান গঞ্জনা। নিরক্ষর ব্যক্তি জীবন প্রভাতে ব্যথার মুকুট পরেই বড় হতে শুরু করেছে। এরা মানুষের কাছ থেকে ভালো ব্যবহারের পরিবর্তে পায় ধিক্কার। নিরক্ষর ব্যক্তি সাধারণত ভালো, মন্দ, সাদা, কালো চিনে চলতে পারে না। এসব দিক দিয়ে তার জীবন অনেকটা ব্যতিক্রমী। 

তাই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, নিরক্ষরতা জীবনের জন্য মারাত্মক অভিশাপ। এর ছোঁয়া যে পেয়েছে সে সত্যিই দুর্ভাগ্যের সাগরে ভাসছে। নিরক্ষর ব্যক্তি সমাজ ও জাতির কাছে অপাংক্তেয়। জাতীয় জীবনে উন্নয়নের অন্তরায়স্বরূপ। সামাজিক জীবনে তারা ধিক্কৃত ও ঘৃণিত।

2041 views

Related Questions