2 Answers

গাইতে গাইতে গায়েন আর বাজাতে বাজাতে বায়েন

 ,

মানবজীবন কর্মময়। কর্মক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ মেলে তার কর্মকুশলতার ও সফলতার মধ্যে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে সর্বদাই সফলতা আসে না। ব্যর্থতাও মানবজীবনের একটি অংশ। কোনো কাজে ব্যর্থ হয়ে নিশ্চল ও নির্জীব হয়ে কর্মপ্রচেষ্টা ও মনোবল হারানো ঠিক নয়। অসীম সাহস ও কর্মোদ্যম নিয়ে একনিষ্ঠ সাধনার দ্বারা সামনে এগিয়ে যেতে হয়। তাহলে জীবনের কোনো বাঁধাই কখনো টিকতে পারবে না। আর তাই জীবনে সাফল্য ও দক্ষতা অর্জনের জন্য চাই অনুশীলন। একজন সঙ্গীত শিল্পী তার দীর্ঘ, নিরলস কণ্ঠ সাধনা বা সঙ্গীত সাধনার মাধ্যমে মানুষের ভাবাবেগ স্পর্শ করতে সমর্থ হয়। মানুষের কাছে খ্যাতনামা সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মানুষ তাঁকে আর তার গানকে চিরদিন মনে রাখে। তেমনি একজন খ্যাতিমান বাদ্যযন্ত্রশিল্পী তাঁর বাদ্যযন্ত্রের বাজনার ঝংকার তুলে মানব মনে আলোড়ন সৃষ্টি করে। বাজনার দ্বারা মানব হৃদয়কে আনন্দিত ও খুশি করতে তাকে বারবার বাদ্যযন্ত্র বাজানোর অনুশীলন করতে হয়। তাই কোনো কাজ সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে সম্পন্ন করে মানব হৃদয়ে স্থান পেতে একনিষ্ট সাধনা ও অনুশীলন প্রয়োজন। জীবন সংসারে প্রতিটি ক্ষেত্রে মহত্ত্ব, খ্যাতি ও সাফল্য লাভের পূর্বশর্তই হলো চৎধপঃরপব বা অনুশীলন। এর বিকল্প কোনো কিছুই নেই। নিবিড় চর্চা ও অনুশীলনের মাধ্যমেই একজন মানুষ নিজ কর্মক্ষেত্রে যথার্থতা ও পরিপূর্ণতা লাভ করে। পৃথিবীর মহান ব্যক্তিগণ তাঁদের জীবনে পূর্ণতা প্রাপ্তির জন্য পুনঃঅনুশীলনকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। কোনো কাজে ব্যর্থ হয়ে মনোবল হারানো ঠিক নয়। কবি কালী প্রসন্ন ঘোষ বলেছেন- ‘একবার না পারিলে দেখ শতবার।’ তাই জীবনে মহত্ত্ব আর সাফল্য অর্জনের পথে ব্যর্থতার ধাক্কায় স্থবির হওয়া ঠিক নয়। আন্তরিক প্রচেষ্টা, কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের সাথে বারবার অনুশীলন কাজকে নির্ভুল করে। কর্মক্ষেত্রে সাফল্য ও পরিপূর্ণতা আনে। সুন্দর ও সাফল্যমন্ডিত জীবনের জন্য সাধনা ও অনুশীলনের বিকল্প নেই।

শিক্ষা: একনিষ্ঠ সাধনা ও বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে মানবজীবনের কন্টকাকীর্ণ পথের সকল বাধাবিপত্তিকে অতিক্রম করে সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে আরোহন সম্ভব।

2063 views

গাইতে গাইতে গায়েন,

বাজাতে বাজাতে বায়েন

মূলভাব : মানুষ একদিনেই কোন কাজে দক্ষ হয়ে উঠে না। তার দক্ষতা লাভের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও অনুশীলন। অধ্যবসায় মানুষকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যায়। কোন কাজে সাফল্য লাভের জন্য বারবার চেষ্টা করার মহৎ প্রবৃত্তি থাকা প্রয়োজন। এ প্রবৃত্তির বলে মানুষ অসাধ্যকে সাধন করতে পারে। অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। অধ্যাবসায় সহকারে ধীরে ধীরে অগ্রসর হলে মানুষ একদিন না একদিন সফল হবেই। পরিশ্রম ও উদ্যম ছাড়া কোন কাজে সফলতা লাভ করা যায় না। বিজ্ঞানী নিউটন বলতেন, “আমার আবিষ্কারের কারণ প্রতিভা নয়, বহু বছরের নিরবচ্ছিন্ন সাধনা ও পরিশ্রম।” সবকাজেই আমাদেরকে ধৈর্য ও অধ্যবসায় সহকারে বার বার চেষ্টা করতে হবে। দুচার দিনের চেষ্টায় মানুষ গাইতেও পারে না বাজাতেও পারে না, কিন্তু গাইতে গাইতে এক দিন সফল গায়ক হওয়া যায়। অধ্যবসায়ই সফলতার চাবিকাঠি। পরিশ্রম, পর্যবেক্ষণ ও সহিষ্ণু সাধনার কাছে কোন কিছুই অসম্ভব নয়।

একথা সহজেই বলা যায়, অনুশীলন ও অধ্যবসায়ই মানুষকে তার ইস্পিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়।

2063 views

Related Questions