অতি বাড় বেড়ো না, ঝরে পড়ে যাবে, অতি ছোট থেকো না, ছাগলে মুড়ে খাবে : ভাবসম্প্রসারণ?
2 Answers
অতি বাড় বেড়ো না, ঝরে পড়ে যাবে,
অতি ছোট থেকো না, ছাগলে মুড়ে খাবে।
মূলভাব : মানবজীবনের সবকিছুতেই পরিমিতিবোধ একান্ত প্রয়োজন। সীমাতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো নয়। এ জগতে তা অকল্যাণ ও অনর্থ বয়ে আনে। আবার নিশ্চেষ্ট জীবনও কাম্য নয়। কারণ তাতে জীবনে সাফল্য আসে না।
সম্প্রসারিত-ভাব : মানুষের জীবন গাছের সাথে তুলনীয়। একটি গাছ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তা যেমন ঝড়ে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তেমনি আবার অতিরিক্ত ছোট হলে ছাগলে খেয়ে ফেলার সম্ভাবনা থাকে। তাই অতিরিক্ত বৃদ্ধি যেমন কাম্য নয়, আবার অতি ছোট ও তেমনি কাম্য নয়। মানুষের ছোট এ কথা সমানভাবে প্রযোজ্য। অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া একেবারেই অনুচিত। অনেক সময় দেখা যায় মানুষ বিপুল ধন-সম্পদ ও ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ধরকে সরা জ্ঞান করে। তার আচরণ হয় উদ্ধত, চলাফেরা হয় বেপরোয়া। কাউকে সে তোয়াক্কা করতে চায় না। অহঙ্কার দমনও এ মানুষকে কিন্তু সর্বনাশের পথে এগিয়ে যায়। অহংকারের পতন অনিবার্য। আবার অন্যদিকে দীন, দরিদ্র, সম্পদহীন ও অসহায় হয়ে সমাজে থাকার মধ্যে বড় বিড়ম্বনা রয়েছে। এ মানুষকে সবাই অনাদর ও অবহেলা করে। তাকে এড়িয়ে যায় সবাই। আঘাতে আঘাতে, অনাদরে ও অবহেলায় এ মানুষ মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারে না। এমনকি তাদের জীবন তখন ব্যর্থ।তাই ক্ষুদ্রতা মোটেও কাম্য নয়। সমাজের মধ্যে অতি বাড়াবাড়ি ও ঔদ্ধতা যেমন কাম্য নয়, তেমনি অতি দীনতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত। মানুষ প্রকৃত মানবিক মর্যাদার সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে এটাই সকলের কাম্য।
অহংকার এবং নম্রতা কোনোটিই অতিমাত্রায় মঙ্গলজনক নয়। এগুলো নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমস্যা দেখা দেয়। মানুষ রক্ত মাংসের প্রাণী। মানুষের সহজ ধর্ম হলো নিজেকে প্রকাশ করা। তবে প্রতিটি কাজেরই কিছু নিয়ম-কানুন থাকে। এগুলো মানুষকে মেনে চলতে হয়। আর এই নিয়ম-কানুনগুলো না মেনে চললেই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অহংকারীর পতন হবে এটাই স্বাভাবিক। অহংকারী ব্যক্তি নিজে ধ্বংস হয় এবং সমাজেরও ক্ষতি মাধন করে। মানবজীবন পুষ্পশয্যা নয়। তাকে সংগ্রাম করেই পৃথিবীতে টিকে থাকতে হয়। মানুষ তার শ্রম ও মেধার মাধ্যমে কোনো কাজে বিজয়ী হয়। বিজয়ী মানুষের মধ্যে এক ধরণের অহংবোধ কাজ করে। মানুষের মধ্যে পরিমিত অহংকারবোধ থাকবে। কখনো কখনো এই অহংবোধ এত তীব্র হয়ে ওঠে যে সমাজের মানুষ তার নিকট থেকে দূরে চলে যায়। ফলে অতিমাত্রায় বাড়াবাড়ির জন্য সে তার জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলে। সমাজে আমরা আর এক শ্রেণির লোক দেখতে পাই যারা খুব বেশি নমনীয়তা বা নম্রতা দেখায়। তারা নিজেদের খুব ছোট বা তুচ্ছ মনে করে। এ ধরণের লোক কোনো কাজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সমাজের নিকট এই শ্রেণির লোকেরাও উপযুক্ত সম্মান পায় না। অতিরিক্ত অহংকারী হওয়ার ফল ধ্বংস। আবার নিজেকে মাত্রাতিরিক্ত নম্র বা তুচ্ছ ভাবাটাও অনুচিত। চার্লস ডারউইন বলেছেন- “জীবন যুদ্ধে যোগ্যরাই টিকে থাকে।” তাই আমাদের পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। যে জায়গায় যে সব আচার-ব্যবহার প্রয়োজন সে জায়গায় তাই করতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশ তাদের অতিমাত্রায় অহংকার ও ক্ষমতার দাপটের কারণে ধ্বংস হয়েছে। আবার অনেক জাতি তাদের হীন বা তুচ্ছ মনে করার জন্যে তাদের স্বাধীনতা হারিয়েছে। প্রকৃতির দিকে তাকালে আমরা সুন্দর উদাহরণ দেখতে পাই। যে গাছগুলো বেশি বড় হয় সেগুলো অল্প ঝড়েই ভেঙে যায়। আবার সে গাছগুলো খুব ছোট সে গুলো বিভিন্ন তৃণভোজী প্রাণী খেয়ে ফেলে। ফলে গাছগুলোর আর বিকাশ ঘটে না। তাই স্থান-কাল ও পাত্র ভেদে আচার-ব্যবহারের ভিন্নতা থাকা প্রয়োজন।
শিক্ষা: মানুষ হিসেবে আমাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে অহংবোধ এবং নমনীয়তা থাকবে। তবে সেগুলো যেন সীমা অতিক্রম করে ধ্বংসের কারণ না হয়ে দাঁড়ায় এ বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy