2 Answers

দুঃখের মতো এত বড় পরশ পাথর আর নাই

 ,

 ,সুখ-দুঃখের উপস্থিতিতেই মানুষের জীবনচক্র। দুঃখ মানুষকে জাগ্রত ও আলোকিত করে তোলে। দুঃখবোধ থেকেই প্রজ্ঞার পরিচয় পাওয়া যায়। এটি মানুষকে সঠিক জীবনবোধের পথ দেখায়। দুঃখ আছে বলেই মানুষ দুঃখকে জয় করতে চেষ্টা করে। দুঃখ মানুষের কর্মক্ষমতা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে। এটি মানুষকে সকল বাধা অতিক্রম করে খাঁটি মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে। তাই শেক্সপিয়র বলেছেন, "Life is not a bed of rose" পৃথিবীতে যা কিছু মহান কল্যাণকর সবকিছুই দুঃখ ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। দিন আছে বলেই আমরা রাতকে চিনতে পারি, তেমনি দুঃখ আছে বলেই আমরা সুখের গুরুত্ব বুঝতে পারি। দুঃখের দহন শেষে মানব মনে যে আনন্দ আসে সেটাই স্বর্গীয় সুখ। এটি সঠিক, সত্য ও সুন্দরের পথ দেখায়। দুঃখ মানুষকে ধ্যানী, জ্ঞানী, পরিশ্রমী ও ঈশ্বরমুখী করে তোলে। এ কারণেই মহামানবরা দুঃখকে পরশ পাথরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কবির ভাষায়, "Seeetest songs are those that tell a suddest thought" মানুষ চিরদিনই সুখের অন্বেষণকারী। আর সুখ পেতে হলে দুঃখ কষ্টকে বরণ করে সম্মুখে এগিয়ে যেতে হবে। দুঃখবোধের জন্যে অনেকের জীবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। কিন্তু যারা সাহসী তারা দুঃখকে জয় করে সুখ খুঁজে নেয়। দুঃখকে পরিত্রানের মাধ্যমেই মহানবী (স.) হতে পেরেছিলেন মানবত্রাতা, যীশু খ্রিস্ট, গৌতম বুদ্ধ হয়েছিলেন মানব মুক্তির সাধক। জীবনে দুঃখ আছে বলেই আমরা সুখের অন্বেষণ করি। পরশ পাথর যেমন লোহাকে মহামূল্যবান স্বর্ণে পরিণত করে, তেমনি দুঃখরূপ পরশ পাথরের ছোঁয়ায় মানুষও রূপান্তরিত হয় সোনার মানুষে।

শিক্ষা: দুঃখের মধ্য দিয়েই প্রকৃত মানবসত্ত্বার বিকাশ ঘটে। দুঃখ মানুষকে সংগ্রামী, বিবেকবান আত্মপ্রত্যয়ী ও উদার হতে শিক্ষা দেয়।

3087 views

দুঃখের মত এত বড় পরশপাথর আর নেই

এই পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের জীবনে রয়েছে সুখ-দুঃখের সহাবস্থান। একটিকে ছাড়া অন্যটিকে মানুষ সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। দুঃখের সংস্পর্শে না এলে মানুষের স্বীয় সত্তা ও অন্তর-শক্তি সঠিকভাবে জাগ্রত হয় না। দুঃখের পরশেই মানুষের বিবেক জাগ্রত হয়, মানুষের জীবন হয় মানবিক বোধে আলোকিত, মানুষ হয়ে ওঠে মহানুভব, মহীয়ান। দুঃখই মানুষের সকল দৈন্য দূর করে তাকে খাঁটি মানুষে পরিণত করে।

সুখবিলাসী মানুষ জীবনে সারবত্তা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারে না। দুঃখে পড়লে মানুষ সুখের যথার্থ মর্ম বুঝতে পারে, জীবনের প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে। দুঃখের দারুণ দহন শেষে মানুষের জীবনে যে সুখ আসে তা অনাবিল ও অতুলনীয়। দুঃখই পারে মানুষের অন্তর্নিহিত মনুষ্যত্ব ও বিবেককে জাগ্রত করতে, মানুষকে খাঁটি মানুষে পরিণত করতে। দুঃখ মোকাবেলা করার শক্তি দিয়েই মানুষ আপন শক্তির পরিচয় দিতে পারে। পৃথিবীতে মহৎ কিছু অর্জন করতে হলে দুঃখ সইতে হয়। প্রবাদ আছে : “কষ্ট ছাড়া কেষ্ট মেলে না।” তাই পৃথিবীতে মহামনীষীরা দুঃখকে তুলনা করেছেন পরশপাথরের সঙ্গে। পরশপাথরের ছোঁয়ায় লোহা যেমন স্বর্ণপিণ্ডে রূপান্তরিত হয়, দুঃখও তেমনি মানুষের জীবনকে নতুন রূপ দেয়, সকল ক্লেদ ও গ্লানি থেকে মুক্ত ও নির্মল করে। দুঃখ-কষ্ট ও ত্যাগ-তিতিক্ষা ছাড়া জীবনের স্বর্ণশিখরে আরোহণ অসম্ভব।

পৃথিবীর বহু মনীষী দুঃখকে অন্তর দিয়ে অনুভব করেছিলেন। দুঃখকে বরণ করে নিয়েছিলেন বলেই আজও তাঁরা স্বরণীয়-বরণীয় হয়ে আছেন। মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.), যীশু খ্রিস্ট, গৌতম বুদ্ধ প্রমুখ মহান ধর্মবেত্তা দুঃখকে জয় করে খাঁটি মানুষে পরিণত হয়েছিলেন, কাজ করেছিলেন সমগ্র মানব জাতীর কল্যাণের জন্যে। বস্তুত, মানুষের মনুষ্যত্ব ও অন্তর্নিহিত গুণাবলির বিকাশের জন্যে দুঃখ মানুষের জীবনে পরশপাথরের মতই কাজ করে।

3087 views

Related Questions