1 Answers
সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ ধারা ৮- উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং পুর্ববর্তী বা পরবর্তী আচরণঃ- বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক ঘটনা সংঘটনের উদ্দেশ্য বা প্রস্তুতি যেসমস্ত বিষয় দ্বারা প্রকাশ পায় বা যে সমস্ত বিষয় দ্বারা সৃষ্ট হয়, তা প্রাসঙ্গিক ঘটনা। কোন দেওয়ানী মামলা বা ফৌজদারী কার্যক্রমে বা উক্ত মামলার বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক ঘটনায় মামলার কোন পক্ষ বা তার প্রতিনিধির আচরণ এবং কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কৃত কোন অপরাধ যা কোন ফৌজদারী মামলার বিষয় বস্তু, তার আচরণ যদি কোন বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়কে প্রভাবিত করে বা তা দ্বারা প্রভাবিত হয়, তবে সেই আচরণ সংশ্লিষ্ট ঘটনার আগে হউক বা পরে হউক তা প্রাসঙ্গিক। ব্যখ্যা ১- এই ধারায় ‘আচরণ’ শব্দ বিবৃতির অন্তর্ভুক্ত হবেনা, যদিনা উক্ত বিবৃতি শুধু বিবৃতি না হয়ে এর সাথে অন্য কোন কাজ বা কাজের ব্যখ্যা করে। এই ব্যখ্যা দ্বারা এই আইনের অন্য কোন ধারার অন্তর্গত বিবৃতির প্রাসঙ্গিকতা প্রভাবিত হবে না। ব্যখ্যা ২- যখন কোন ব্যক্তির আচরণ প্রাসঙ্গিক হয়, তখন তার নিকটে বা তার উপস্থিতিতে ও শ্রুতিগোচরে প্রদত্ত বিবৃতি তার আচরণকে প্রভাবিত করলে তাও প্রাসঙ্গিক। উদাহরণঃ ক)- ‘খ’ কে হত্যার দায়ে ‘ক’ এর বিচার চলতেছে। ‘খ’ জানত যে ‘ক’ ‘গ’ কে হত্যা করেছিল এবং তার এই জানার কথা প্রকাশ করে দেবার ভয় দেখিয়ে ‘খ’ ‘ক’ এর নিকট থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছিল- এই গুলি প্রাসঙ্গিক ঘটনা। খ)- ‘খ’ কে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগে ‘ক’ এর বিচার চলছে। যে প্রকার বিষ প্রয়োগে ‘খ’ এর মৃত্যু হয়েছে টিক সেই প্রকারের বিষ ‘খ’ এর মৃত্যুর পুর্বে ‘ক’ সংগ্রহ করেছিল- এটি একটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা। সাক্ষ্য আইনের এই ধারায় উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি ও আচরণকে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে। কোন কাজ করার আগে সবারই একটি উদ্দেশ্য থাকে। আর সেই উদ্দেশ্য দ্বারা তাড়িত হয়ে মানুষ কোন কাজ করে থাকে। আবার উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করার জন্য মানুষ কিছু প্রস্তুতি গ্রহণ করে যা তার কাজকে পুর্ন রুপে সফল করতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। আর কোন কাজ করতে গিয়ে মানুষের মনের আবেগ, অনুভুতি তার আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তাই কোন মামলা বা কার্যক্রমে মানুষের উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি ও আচরণ প্রাসঙ্গিক।