মায়ের ইজ্জত হরণকারীকে হত্যা করা কি জায়েজ?
মহল্লার পুকুরে গোসল করার সময় আমার মায়ের সাথে আমাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর ছেলে জোর-জবরদস্তি করে খারাপ কাজ করে। পরে অনেক বিচার-সালিশ বসলেও আসামীর তেমন কোনো শাস্তি হয়নি।।
লজ্জায়, দূখেঃ আমার মা অনেকবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলো। মা কেনো, আমার ও প্রথমে ঘটনা শুনার পর মরে যেতে ইচ্ছে হয়েছিলো,, বাইরে বেরোতে পারতাম না শরমে।।
আম্মা কোনো ধরনের জন্মনিরোধক বড়ি খায়নি।। সে ভেবেছিলো বয়স ৪৪ হয়ে গেছে, গর্ভ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই।। কিন্তু কয়েকদিন থেকে সে গর্ভবতি।।
আমরা অনেক চেষ্টা করেও কোন বিচার পাইনি, উল্টো পুলিশকে বললে আমরাই বিপদে পড়ে যাবো।।
আমি বিস্তারিত বলার কারণ হলো, ইসলামিক বিশেষজ্ঞরা যাতে আমার বিষয়টি অনুভব করতে পারেন। একদিন এর প্রতিশোধ আমি নেবোই।
আমি যদি তার কোনোভাবে বড় প্রতিশোধ নেই, এতে কি পাপ হবে??
1 Answers
আপনি মায়ের ইজ্জত হরণকারীকে হত্যা করতে পারবেন না। আপনি যদি তাকে হত্যা করে প্রতিশোধ নিতে চান এতে পাপ হবে। ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি মুসলমানদের একটি দল প্রত্যক্ষ করবে এটা আপনি করতে পারবেন না।
ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি জিনার শাস্তির অনুরূপ, আর তা হলো ধর্ষক যদি বিবাহিত হয় তাহলে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা। আর যদি অবিবাহিত হয় তবে একশত বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন।
কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ, তাদের প্রত্যেককে একশত করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে। (সুরা নূর: ২)।
ধর্ষণের ক্ষেত্রে একপক্ষে ব্যভিচার সংগঠিত হয়। আর অন্যপক্ষ হয় নির্যাতিত। তাই নির্যাতিতের কোনো শাস্তি নেই। কেবল অত্যাচারি ধর্ষকের শাস্তি হবে।
সুতরাং ইসলামে ধর্ষণ ও ব্যভিচার, সম্মতি-অসম্মতি উভয় ক্ষেত্রেই পুরুষের শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে। তবে নারীর ক্ষেত্রে ধর্ষিতা হলে কোনো শাস্তি নেই, সম্মতিতে হলে শাস্তি আছে।
কোরআন অনুযায়ী বিচার না করা: কোরআন অনুযায়ী বিচার করা আবশ্যক। কোরআন বর্জিত বিচারকার্য করা মুনাফেকি।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুযায়ী যারা বিচার করে না তারা কাফির। (মায়েদা : ৪৪)।
অন্য আয়াতে এসেছে, যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচারকার্য সম্পাদন করে না, তারা জালিম। (মায়েদা : ৪৫)।
অন্য আয়াতে এসেছে, যারা আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুসারে বিচার করে না, তারা ফাসিক (সুরা : মায়েদা : ৪৭)।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy