1 Answers
শুধু মুসলমানরাই শেষ নবীর উম্মত নয়। বিশেষ কিছু মানুষ রয়েছে, যারা মুসলমান হলেও নবীজি (সাঃ) তাদের ব্যাপারে বলেছেন যে এরা আমার উম্মত নয়।
☞ আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুলাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার সুন্নতের প্রতি বিমুখ, সে আমার উম্মতভুক্ত নয়। ( বুখারি, হাদিস: ৪৭৭৬)।
এখানে দুইটি বিষয়। একটি হলো যে ব্যক্তি সুন্নাহের ওপর আমল করতে পারে না, তবে নিজেকে এ জন্য অপরাধী মনে করে। ফলে সে মনে মনে লজ্জিত থাকে। আলোচ্য হাদিসে এমন ব্যক্তির কথা বলা হয়নি।
বরং যারা নবীজির (সাঃ) সুন্নাহ দেখতে পারে না এবং সুন্নাহের নাম শুনলে, সুন্নতি কাজ দেখলে সে খুব বাজেভাবে প্রতিক্রিয়া করে। আলোচ্য হাদিসের অভিশাপ সেসব মানুষের জন্য প্রযোজ্য।
☞ উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, সে আমার উম্মতভুক্ত নয়, যে আমাদের বড়দের সম্মান করে না এবং আমাদের ছোটকে স্নেহ করে না, আর আমাদের আলেমের অধিকার বিষয়ে সচেষ্ট নয়। (মাজমাউজ জাওয়াইদ: ৮/১৪)।
☞ ইমরান ইবনে হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পাখি উড়িয়ে ভাগ্যের ভালো-মন্দ যাচাই করল, ভাগ্য গণনা করল, জাদু করল, কোনো গণকের কাছে এলো, অতঃপর সে যা বলল তা বিশ্বাস করল সে ব্যক্তি মুহাম্মদ (সাঃ) এর ওপর যা নাজিল করা হয়েছে তা অস্বীকার করল। (মাজমাউজ জাওয়াইদ : ৫/১২০)।
☞ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি অমুসলিমদের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সঙ্গে সাদৃশ্য অবলম্বন কোরো না। কেননা ইহুদিদের অভিবাদন হলো আঙুল দ্বারা ইশারা করা আর খ্রিস্টানদের অভিবাদন হলো হাতের তালু দিয়ে ইশারা করা। (তিরমিজি, হাদিস : ২৬৩৮)।
☞ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, যেসব নারী পুরুষের সঙ্গে সাদৃশ্য অবলম্বন করে এবং যেসব পুরুষ নারীর সাদৃশ্য অবলম্বন করে। তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৬৫৮০)।
☞ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, একদিন স্তূপ করে রাখা খাদ্যশস্যের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি স্তূপের ভেতর হাত প্রবেশ করালে আঙ্গুলগুলো ভিজে গেল। স্তূপের মালিককে জিজ্ঞাসা করলেন, ব্যাপার কি? মালিক জবাব দিল, হে, আল্লাহর রাসূল! বৃষ্টির পানিতে তা ভিজে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, তবে তা ওপরে রাখলে না কেন, যেন মানুষ তা দেখতে পায়? যে ব্যক্তি প্রতারণা করে সে আমার দলভুক্ত নয়। (মুসলিম শরিফে হাদিস: ১০১)।
☞ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, ওই ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়। যে আমার ওপর অর্থাৎ মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তোলে। আর যে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, সেও আমাদের দলভুক্ত নয়। (মুসলিম শরিফ হাদিস: ১০২)।
☞ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, মৃত্যুশোক প্রকাশে যে নারী মাথা মুড়িয়ে বিলাপ করে কাঁদে এবং কাপড় ছিঁড়ে ফেলে সে আমাদের মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত নয়। (আবু দাউদ হাদিস: ৩১৩০)।
☞ অন্য হাদিসে এসেছে, যারা মৃত ব্যক্তির জন্য শোক প্রকাশে গালে চপেটাঘাত করে, জামার বক্ষ ছিন্ন করে বা জাহিলি যুগের মতো চিৎকার দেয়, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়। ( বুখারি, হাদিস: ১২৯৭)।
☞ আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কারো স্ত্রীকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে অথবা দাসকে তার মনিবের বিরুদ্ধে প্ররোচিত করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (আবু দাউদ, হাদিস: ২১৭৫)।
☞ জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলপাক (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্যের সম্পদ ছিনতাই করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৩৪০)।
☞ আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দর স্বরে কোরআন পাঠ করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। ( বুখারি, হাদিস: ৭০১৯)।