রাগের মাথায় মুখে স্ত্রীকে তিন তালাক বলে দিলে কি তালাক হয়ে যাবে?

যদি তালাক হয়ে যায় তাহলে উক্ত স্ত্রীকে পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার উপায় কি?

2660 views

6 Answers

হ্যা তালাক হয়ে যাবে। আর তালাক কেউ খুশি মনে দেয় না। আসা করি বুঝতে পেরেছেন। 

2660 views Answered

হ্যা রাগের মাথায় বা সুস্থ মস্তিস্কে তালাক দেন তা তালাক হিসেবেই গন্য হবে। এখন আপনাকে পুনরায় বিবাহ করতে হবে। একজন হুজুরের সাথে কথা বলন সেই আপনাকে আবার বিয়ে করিয়ে দিবে ।

2660 views Answered

অবশ্যই তালাক হয়ে যাবে......

এটা আল কুরআনের বিধান......

এক্ষেত্রে সহবাস করলে আপনি যিনাহের গুনাহ এ গুনাহগার হবেন....

এক্ষেত্রে মাসয়ালা হলো....

আপনার স্ত্রী অন্য কোনো পুরুষের সাথে বিয়ে বসবে.....তারপর সেই লোক যদি তিন তালাক দেয়....তার ৪০ দিন পর আপনি আবার তাকে বিয়ে করতে পারবেন.....

রেফারেন্স চাইলে দিতে পারবো......

আশা করি বুঝতে পারছেন.......

যদি বেশি সমস্যা মনে হয় তাহলে কোনো অভিজ্ঞ আলেমের শরনাপন্ন হন...

2660 views Answered

রাগে হোক আর সকগ্যানে হোক 3 তালাক বোললেই তালাক হয়ে যাবে। আবার যদি তাকে গ্রহন কোরতে চান তাহলে আগে যেভাবে বিয়ে কোরেছেন ঠিক সেইভাবে আপনাকে আবার বিয়ে কোরতে হবে।

2660 views Answered

হ্যা অবশ্যই তালাক হয়ে যাবে ।তা সে আপনি যতই রাগের মাথায় বলুন আর হাসি মুখে বলুন ইসলামের পরিভাষায় ৩টি জিনিস রাগের মাথায় বলুন আর হাসি মুখে বলুন কবুল হবেই এগুলো হলো ১বিবাহ ২তালাক ৩কুফর ।আপনি যদি অন্য কোনো ধর্মের হন সে বিশয়ে আমার কোনো ধারনা নেই ইসলামের পরিভাষায় উওর টা বললাম। [উত্তর টির কিছু অংশ বিশ্ময় থেকে সংগ্রহিত]

2660 views Answered

আসলে তালাক তো দেওয়াই হয় রাগ হয়ে। কয়জন আছে, শান্তভাবে তালাক দেয়! মূলতঃ রাগের অবস্থায় তালাক দিলেও তালাক হয়ে যায়, এমনকি হাস্যরস বা ঠাট্টাচ্ছলে তালাক দিলেও তা পতিত হয়ে যায়।

সম্মানিত দীনি ভাই, একসাথে তিন তালাক দেওয়া কিংবা বিভিন্ন সময় তালাক দিতে দিতে তিন পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া একটি জঘণ্য অপরাধ ও ঘৃণিত কাজ। আল্লাহ তাআলা এর শাস্তি হিসেবে এই বিধান দিয়েছেন যে, তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পুনরায় একসাথে বসবাস করতে চাইলে স্ত্রীর ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর অন্যত্র তার বিয়ে হওয়া এবং সে স্বামীর সাথে তার মিলন হওয়া অপরিহার্য। এরপর কোনো কারণে সে তালাকপ্রাপ্তা হলে কিংবা স্বামীর মৃত্যু হলে ইদ্দত পালনের পর এরা দু’জন পরস্পর সম্মত হলে নতুন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে।

প্রমাণ–

وقال الليث عن نافع كان ابن عمر إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فأن النبي صلى الله عليه و سلم أمرني بهذا فإن طلقتها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيرك

হযরত নাফে রহ. বলেন,যখন হযরত ইবনে উমর রাযি. এর কাছে ‘এক সাথে তিন তালাক দিলে ‎তিন তালাক পতিত হওয়া না হওয়া’ (রুজু‘করা যাবে কিনা) বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো,‎ তখন তিনি বলেন-“যদি তুমি এক বা দুই তালাক দিয়ে থাকো তাহলে ‘রুজু’ [তথা স্ত্রীকে বিবাহ করা ছাড়াই ফিরিয়ে আনা] করতে পার। ‎কারণ, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে এরকম অবস্থায় ‘রুজু’ করার আদেশ দিয়েছিলেন। ‎যদি তিন তালাক দিয়ে দাও তাহলে স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে, সে তোমাকে ছাড়া অন্য স্বামী গ্রহণ করা পর্যন্ত। (সহীহ বুখারী-২/৭৯২, ২/৮০৩)

হযরত হারুন ইবনে আনতারা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তার পিতা বলেছেন, আমি একদিন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. এর নিকট বসা ছিলাম। ইতিমধ্যে এক লোক এসে বলল, সে তার স্ত্রীকে এক বারেই একশো তালাক দিয়েছে। সে জানতে চাইল, এতে কি এক তালাক গণ্য হবে নাকি তিন তালাক গণ্য হবে? আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বললেন, তিন তালাক কার্যকর হয়ে তোমার স্ত্রী তোমার থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর বাকি সাতানব্বই তালাকের গুনাহ তোমার উপর বর্তাবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা আসার নং ১৮১০১)

উপরোক্ত হাদীস ও আসার থেকে বিষয়টি সুপ্রমাণিত যে. এক সাথে তিন তালাক দিলে (যেমন আপনার উক্ত আত্মীয় দিয়েছেন) তিন তালাকই হবে । এক তালাক নয়।

এজন্যই বিখ্যাত ফকীহ ও মুহাদ্দিস আল্লামা ইবনুল হুমাম রহ. (মৃত.৬৮১হি.) আলোচ্য মাসআলাটি যে সাহাবাযুগ থেকেই অবিসংবাদিত তা উল্লেখ করার পর লিখেছেন- (তরজমা) “আর এ জন্যই যদি কোন (শরয়ী) আদালতের বিচারক এই সিদ্ধান্ত দেয় যে, এক সাথে তিন তালাক দিলে এক তালাক হয়, তাহলে তার ফায়সালা গ্রহণযোগ্য হবে না। কেননা বিষয়টিতে নতুন ইজতিহাদ ও সিদ্ধান্তের কোন সুযোগ নেই। সুতরাং নতুন কোন সিদ্ধান্ত দেয়া হলে তা শরীয়তসম্মত ‘মতপার্থক্য’ নয়; শরীয়ত গর্হিত ‘বিচ্ছিন্নতা’ হিসাবেই গণ্য হবে।”

আর তিন তালাক হয়ে গেলে বিধান কী- এসম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ

তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়। (সূরা বাকারা-২৩০)

এ মর্মে হাদীস শরিফে এসেছে,

আম্মাজান আয়েশা রা. থেকে বরণিত, রাফায়ার স্ত্রী বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমার স্বামী রাফায়া আমাকে এক সাথে তিন তালাক দিয়েছে? এরপর আমি আব্দুর রাহমানের সাথে বিবাহ করেছি। এখন রাফায়ার কাছে যেতে পারবো কিনা? নবীজী বললেন, আবদুর রহমান তোমার সাথে সহবাস করলে এরপর রাফায়ার নিকট যেতে পারবে। (সহীহ বুখারী ৫২৬১)

সম্মানিত দীনি ভাই, সুতরাং আপনার উক্ত আত্মীয়ের জন্য আবশ্যক হল, এখনি স্বামী স্ত্রী আলাদা হয়ে যাওয়া। যেহেতু তিন তালাকের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে। সুতরাং এখন একসাথে থাকা জিনার গোনাহ হচ্ছে।

এখন নিয়ম মাফিক  স্ত্রীর যদি অন্যত্র বিয়ে হয়, তারপর কোন  কারণে দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তারপর ইদ্দত শেষে উক্ত মহিলাকে আপনার উক্ত আত্মীয় দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে পারবেন। এছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ নেই।

উল্লেখ্য, পরিস্কার শব্দে “তালাক” বললে সেখানে নিয়তের কোনো প্রয়োজন নেই। নিয়ত ছাড়াই তালাক পতিত হয়ে যায়। তালাকের পরিস্কার শব্দ ছাড়া অন্য শব্দে তালাক দিলে নিয়তের প্রয়োজন হয়। তালাক শব্দ দিয়ে তালাক দিলে নিয়তের প্রয়োজন নেই।

সুত্রঃhttp://quranerjyoti.com

2660 views Answered

Related Questions

Next steps