1 Answers
মাছের শ্বাসকার্যের জন্য রয়েছে ফুলকা। ফুলকা এমনভাবে মহান আল্লাহ্ তৈরি করেছেন যেটা শুধুমাত্র পানি থেকে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। এজন্য কৈ মাছের জন্য দ্রবীভূত অক্সিজেন প্রয়োজন।
অক্সিজেন জীবনের জন্য অপরিহার্য। প্রয়োজনীয় পরিমাণ অক্সিজেন ছাড়া কোন প্রাণীর স্বাভাবিক বৃদ্ধি সম্ভব নয়। সে কারণে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কৈ মাছ চাষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভিদ-প্ল্যাংঙ্কটন ও জলজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় যে অক্সিজেন প্রস্ত্তুত করে তা পানিতে দ্রবীভূত হয়। বাতাস থেকে কিছু পরিমাণ অক্সিজেন সরাসরি পানিতে মিশে। পুকুরের মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী এ অক্সিজেন দ্বারা শ্বাসকার্য চালায়। রাতে সূর্যালোকের অভাবে পানিতে কোন অক্সিজেন প্রস্ত্তুত হয় না। পুকুরের তলায় জৈব পদার্থ পচনেও অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়। এজন্য সকালে পুকুরের পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ খুব কমে যায়, বিকেলে অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে। পানিতে ২.০ মি.গ্রা/লিটারের কম অক্সিজেন থাকলে মাছ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে না। পুকুরের পানিতে ৫-৮ মি.গ্রা/লিটার হারে দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকলে মাছ কাঙ্ক্ষিত হারে বৃদ্ধি পায়।অপেক্ষাকৃত কম পরিমাণ খাদ্যে অধিক পরিমাণ মাছ উৎপাদন হয়। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা বাড়লে মাছের খাদ্য চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং অক্সিজেনের মাত্রা কমলে খাদ্য চাহিদা হ্রাস পায়। এছাড়াওশ্বাসকষ্টজনিত কারণে ব্যাপকভাবে মাছ মারা যেতে পারে।
বিভিন্ন কারণে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যেতে পারে। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যাওয়ার প্রধান কারণগুলো নিম্নরূপঃ
• পানিতে বসবাসকারী জলজ জীবের শ্বাস-প্রশ্বাস;
• পুকুরের তলায় বিদ্যমান জৈব পদার্থের পচন;
• তলায় অবস্থিত গ্যাসের বুদবুদের সাথে বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন চলে যাওয়া;
• ক্ষতিকর ব্লুম সৃষ্টি;
• মাটিতে লৌহের পরিমাণ বেশি থাকা;
• পানিতে গাছের পাতা ও ডালপালা পড়া;
• কাঁচা গোবর বেশি পরিমাণে ব্যবহার;
• আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকা;
• পানি খুব ঘোলা হওয়া।
পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ সহনশীল মাত্রার নিচে নেমে গেলে নিম্নরূপ লক্ষণগুলো পরিলক্ষিত হয়ে থাকে –
• মাছ পানির উপর ভেসে উঠে ও খাবি খায়;
• মাছ পুকুর পাড়ের কাছে চলে আসে;
• মাছ ও ক্লান্তিহীনভাবে পানিতে ঘোরাফেরা করতে থাকে।
অক্সিজেন ঘাটতি মোকাবেলার উপায়
১) অতিরিক্ত রাসায়নিক, জৈব সার ও খাদ্য প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হবে ।
২) পুকুরে ফাইটো প্লাংক্টনের পরিমান নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ।
৩) ফাইটো প্লাংক্টন ব্লুম ধ্বংসের (Bloom Crash) পর পানি কালো হলে বা পরিস্কার হয়ে গেলে পরিমানমত চুন দিয়ে পরবর্তীতে টি এস পি সার প্রয়োগ করে পানি পুনঃরায় পরিমিত পরিমানে সবুজ করতে হবে ।
৪) এয়ারেটর ব্যবহার করে পুকুরে অক্সিজেনের পরিমান বৃদ্ধি করা যায় । পুকুর ৮ ফুটের বেশি গভীর হলে তাপীয় স্তরী বিন্যাস হয়ে থাকে এজন্য পুকুরে দুপুরের পর এয়ারেটর চালু করতে হবে ।
৫) পুকুরের ২০% পরিমান পানি বের করে দিয়ে নতুন পানি প্রবেশ করালে অক্সিজেন বৃদ্ধি পায় ।
৬) কৃত্রিমভাবে পাম্প মেশিন দিয়ে বা লোক পুকুরে নামিয়ে বাঁশ বা পাতিল দিয়ে পুকুরের পানি পিটিয়ে স্রোতের সৃষ্টি করলে পুকুরে অক্সিজেন বৃদ্ধি পাবে ।
৭) পুকুরে যাতে অতিরিক্ত মাছ মজুদ করা না হয় সে বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে ।
৮) পুকুরে বিশেষ করে নিবিড় বা আধানিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষের পুকুরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনের জন্য নিয়মিতভাবে দুপুরের পর ঠান্ডা পানি প্রবেশ করাতে হবে ।
৯ ) পুকুরে অক্সিজেনের প রিমান বেশি হলে পুকুরে অপেক্ষাকৃত বেশি গরম পানি প্রবেশ করাতে হবে
১০) সর্বোপরি ব্যাবস্থাপনায় সর্বদা সর্তক থাকতে হবে যাতে পুকুর বা জলাশয়ের অক্সিজেন স্বল্পতার কারন সৃষ্টি না হয় ।